প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি শিশু যখন কথা বলার পরিবর্তে আঙুল দিয়ে তার পছন্দের খেলনাটি দেখায়, অথবা কেউ যখন একই কার্টুনের সংলাপ বারবার উচ্চারণ করে, তখন তাদের জন্য নিজেদের প্রয়োজন বোঝাতে সমস্যা হয়। তারা নিজের ইচ্ছামতো প্রয়োজন বুঝাতে পারে না। আবার, কিছু শিশু সাবলীলভাবে কথা বলতে পারলেও, কথোপকথনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অন্যের ইশারা ও ইঙ্গিত বুঝতে পারা, কিংবা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এই অভিজ্ঞতাগুলো অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের (Autism Spectrum Disorder – ASD) সঙ্গে সম্পর্কিত যোগাযোগের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
স্পিচ থেরাপির লক্ষ্য
স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যক্তির কার্যকর যোগাযোগ, ভাষা বোঝা ও প্রকাশ করা, সামাজিকভাবে অংশগ্রহণ এবং দৈনন্দিন জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো। কথ্য ভাষা যদি ব্যক্তির প্রয়োজন ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সেটির বিকাশেও সহায়তা করা হয়। একই সঙ্গে অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমও ব্যবহার করা হয়। একজন স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট ব্যক্তির যোগাযোগের শক্তি, সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজন মূল্যায়ন করে উপযোগী পরিকল্পনা তৈরি করেন। এই পরিকল্পনায় ব্যক্তির বয়স, ভাষা বা কথা বিকাশের পর্যায়, পছন্দ, দৈনন্দিন পরিবেশ এবং পরিবারের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো শিশু পানি চাইতে না পারে এবং কান্নাকাটি করে, তবে লক্ষ্য শুধুমাত্র তাকে ‘পানি’ শব্দটি উচ্চারণ করানো নয়, বরং তাকে কথা, ইশারা, ছবি বা উপযুক্ত যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের চাহিদা প্রকাশ করতে সক্ষম করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য থেরাপিস্ট কাজ করেন। পরবর্তীতে, তার সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী শব্দ, বাক্য ব্যবহার কিংবা কথার দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। থেরাপির লক্ষ্য সবসময় নির্দিষ্ট, বাস্তবসম্মত এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য; যেমন, শিশু যেন উপযুক্ত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের পছন্দ জানাতে পারে, সাহায্য চাইতে পারে, অথবা কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে অসম্মতি প্রকাশ করতে পারে। সময়ের সঙ্গে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে লক্ষ্য ও কৌশল পরিবর্তন করা হয়।
মূল্যায়ন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
সব অটিস্টিক ব্যক্তির জন্য একই থেরাপি বা অনুশীলন কার্যকর হয় না। তাই থেরাপি শুরু করার আগে প্রয়োজনভিত্তিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন থেরাপিস্ট সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন—
• ভাষা বোঝার দক্ষতা : নির্দেশনা, প্রশ্ন, শব্দ ও বাক্যের অর্থ কতটুকু বোঝেন।
• ভাষা প্রকাশের দক্ষতা : কথা, অঙ্গভঙ্গি, ছবি বা অন্য মাধ্যমে কীভাবে নিজের বার্তা জানান।
• সামাজিক যোগাযোগ : কথোপকথন, যৌথ কার্যক্রম ও পারস্পরিক যোগাযোগে কীভাবে অংশ নেন।
• কথ্য ভাষার বৈশিষ্ট্য : শব্দ, বাক্য, উচ্চারণ, কণ্ঠস্বরের সুর এবং বারবার একই কথা ব্যবহারের সম্ভাব্য ভূমিকা।
• বিকল্প যোগাযোগের প্রয়োজন : ছবি, কমিউনিকেশন বোর্ড বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কি না।
• দৈনন্দিন কার্যকারিতা : বাড়ি, স্কুল, কর্মক্ষেত্র বা সামাজিক পরিবেশে যোগাযোগের কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে এবং কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।
এছাড়া, ভাষা বিকাশে অভিভাবকের উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রবণক্ষমতা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রবণসমস্যা ভাষা ও যোগাযোগের বিকাশকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাবিত করে। প্রয়োজনে অডিওলজিস্টের মাধ্যমে শ্রবণ পরীক্ষা করানো হয়।
অটিজম নির্ণয় এবং অন্যান্য সহাবস্থানকারী অবস্থার মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার্ড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্পিচ থেরাপিস্ট, চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের মাধ্যমে করা হয়। অভিভাবকদের উচিত রেজিস্টার্ড পেশাজীবীদের শরণাপন্ন হওয়া।
তথ্যসূত্র : হেলথলাইন
লেখক : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগ, ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন