বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশেষ বাহিনী নেভি সিলসে যোগ দেওয়ার পরীক্ষায় দুই নারী ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তবে তারা কঠিন প্রশিক্ষণের শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। তবুও, বাহিনীটির ইতিহাসে অন্য যেকোনো নারীর তুলনায় তারা সবচেয়ে বেশি দূর এগিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৪ নভেম্বর) কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নারী নৌসেনা এবং একজন নারী নৌ কর্মকর্তা নেভি সিলসে যোগ দেওয়ার প্রাথমিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই কঠিন পরীক্ষার তৃতীয় সপ্তাহে তারা পৌঁছান।
চতুর্থ সপ্তাহে প্রশিক্ষণের সবচেয়ে কঠিন ধাপ ‘হেল উইক’ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ওই নারী কর্মকর্তা পরবর্তী প্রশিক্ষণ দলে স্থানান্তরিত হন এবং পরে নিজেই প্রশিক্ষণ থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেন। অন্যদিকে, শারীরিক সমস্যার কারণে হেল উইক চলাকালে ওই নারী নৌসেনাকে প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
২০১৬ সালে নারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ার পর, এই প্রথম কোনো নারী প্রার্থীরা এতদূর এগোলেন।
হেল উইক, প্রশিক্ষণের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হিসেবে পরিচিত, সাড়ে পাঁচ দিন স্থায়ী হয়। এই সময়ে প্রার্থীদের পাঁচ দিনে মাত্র চার ঘণ্টার মতো ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের ভারী কাঠের গুঁড়ি বহন করা, উত্তাল সমুদ্রে নৌকা নামানো, ঠান্ডা পানিতে শুয়ে থাকা এবং প্রায় ২০০ মাইল দৌড়ানোর মতো কঠিন কাজ করতে হয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর ১৯৯৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, নেভি সিলসের প্রায় ছয় মাসের প্রাথমিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ৬৮ শতাংশ বিভিন্ন পর্যায়ে বাদ পড়েন। এমনকি প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রার্থী হেল উইক শুরুর আগেই প্রশিক্ষণ থেকে বাদ পড়েন অথবা পরবর্তী দলে পাঠানো হন।
২০১৬ সালে নারীদের জন্য নেভি সিলস, আর্মি রেঞ্জার্স এবং গ্রিন বেরেটের মতো বিশেষ সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ চালু হয়। এরপর গত এক দশকে অল্পসংখ্যক নারী এসব কঠিন প্রশিক্ষণ ও বাছাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশেষ যুদ্ধ প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রথম নারী হিসেবে বিশেষ যুদ্ধবিষয়ক নৌযান পরিচালনাকারী বাহিনীতে যোগ দেন একজন নারী সেনা। তবে নেভি সিলসের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করার ক্ষেত্রে এখনো কোনো নারী ইতিহাস গড়তে পারেননি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী রাইউইন্ড ইজতেমা ২০২৬ আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। এই ইজতেমা দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথম পর্ব ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় পর্ব ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৫ নভেম্বর শেষ হবে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাইউইন্ড মারকাজে আয়োজিত এই ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেবেন, পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা তাবলিগের সাথিরাও এতে যোগ দেবেন।
বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর প্রথম পর্বের কার্যক্রম শুরু হবে, যেখানে পাকিস্তানের মাওলানা আহমেদ বাটলা বয়ান করবেন। পরে মাগরিবের নামাজের পর ভারতের মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব বয়ান দেবেন।
প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ফজরের নামাজের পর বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক বয়ান করবেন। তালিমের হালকায় মাওলানা জিয়াউল হক থাকবেন। জুমার নামাজের পর ভারতের মাওলানা ইসমাইল বয়ান করবেন এবং আসরের পর বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল হক বয়ান দেবেন। মাগরিবের পর মাওলানা আব্দুর রহমান বয়ান করবেন।
শুক্রবার বিদেশি খিমায় বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসল্লিদের জন্য বিশেষ বয়ানের আয়োজন থাকবে। আরবি, ইংরেজি, মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয়, ফিলিপিনো, থাই, বাংলা, ফরাসি, উর্দু, তুর্কি, পর্তুগিজ, কিরগিজ ও চীনা ভাষাভাষীদের জন্য পৃথক বয়ানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাত্র, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও বিদেশি তোলাবাদের জন্যও বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে।
শনিবার ফজরের নামাজের পর মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশেদ বয়ান করবেন। জোহরের পর ভাই ফারুক সাহেব বক্তব্য দেবেন। আসরের পর মাওলানা জুহারুল হাসান বয়ান করবেন এবং মাগরিবের পর ভারতের মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব আবারো বয়ান দেবেন।
এই দিন ওলামা, শিক্ষক, বধির, খওয়াস ও বিভিন্ন ভাষাভাষী বিদেশি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ মজমা ও পৃথক বয়ানের আয়োজন থাকবে। আরবি, ইংরেজি, বাংলা, ফরাসি, তুর্কি, কিরগিজ, মালয়েশীয়, থাই, ফিলিপিনো ও পর্তুগিজ ভাষাভাষীদের জন্য নির্ধারিত বক্তারা বয়ান করবেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও থাকবে পৃথক আয়োজন।
রোববার সকালে হেদায়েতের বয়ান দেবেন মাওলানা জিয়াউল হক সাহেব। এরপর মাওলানা জুহারুল হাসানের দোয়ার মাধ্যমে প্রথম পর্বের কার্যক্রম শেষ হবে। এদিন অনুষ্ঠিত হবে প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে একটি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর (৮) বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষককে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ট্রাইবুনালের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙা ইউনিয়নের সাকোয়া পাড়া গ্রামের মদিনাতুল উলুম মডেল মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করেন ওই মাদরাসার শিক্ষক সাইদুর রহমান মুন্সী। এই ঘটনার জানাজানি হলে ৩ মে ওই ছাত্রীর বাবা দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানির পর, ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার সাইদুর রহমান মুন্সীর উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে অভিযুক্ত সাইদুর রহমান মুন্সীকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারীদের কর্মজীবনে প্রবেশ এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কাজে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে হবে, শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জন করা যথেষ্ট নয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে নারীদের সক্ষমতা এবং স্বাবলম্বীতাই হবে আগামীর অর্থনৈতিক ভিত্তি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ডা. জুবাইদা রহমান এই বক্তব্য দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘মাধ্যমিক স্তরেই প্রায় ৩৫ শতাংশ মেয়ে ঝরে পড়ছে, যা নারীর স্থায়ী অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করছে।’
ডা. জুবাইদা রহমান জানান, দেশের ৯০ হাজারেরও বেশি গ্রামের লাখ লাখ নারী এখনও মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে শুধু শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্বের পর্যায় পর্যন্ত ধারাবাহিক সহযোগিতা।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার স্নাতক পর্যন্ত নারী ও মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি নারীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের উপরও গুরুত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যা দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও নানা হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযানের সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনার বেহাল দশা পরিলক্ষিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুদক টিম জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করে। এ সময় হাসপাতালের একাধিক রোগীর স্বজন চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে দুদকের কাছে প্রতিকার দাবি করেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন দুদকের চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা এখানে অনেক কিছু ঠিকঠাক পাইনি। চিকিৎসকদের রুমে পাইনি আমরা। জরুরি বিভাগে ডা. তানভীর থাকার কথা, তিনি নেই। নিউরো সার্জনকে রুমে পাইনি আমরা।”
দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, “এখানে রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না। একেবারে বেহাল অবস্থা। পরিচালককে বলেছি বিষয়গুলো দেখার জন্য। হাসপাতালে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধু ঢাকা মেডিকেল নয়, সারা দেশে হাসপাতালসহ সব সেবাখাতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন জানান, দুদকের অভিযোগের বিষয়গুলো আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটা, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, জরুরি বিভাগে সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতা এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আজকের এই অভিযান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ