০৯:৪০ এম
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের নিয়মে শিথিলতা আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুসারে, অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, এফবিআই পরিচালক এবং প্রেসিডেন্টের নিয়োগপ্রাপ্ত অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পরিচয়ে রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিতে পারবেন, ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন এবং জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
চলতি সপ্তাহে বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জোলিন অ্যান লরি কর্তৃক পাঠানো একটি স্মারকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিনেটের অনুমোদন নিয়ে প্রেসিডেন্টের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, এফবিআই পরিচালক এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নিসহ বিচার বিভাগের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
আরও পড়ুন: ভারতের স্টেট ব্যাংকে সাইবার হামলা, ৩৮৯৭ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস
এর আগে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তার দায়িত্বকালে রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সমাবেশ ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়ে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছিলেন। নতুন স্মারকে সেই ছাড় আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের নিয়োগ এবং সিনেটের অনুমোদন পাওয়া বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য কঠোর বিধিনিষেধ একইভাবে কার্যকর হবে না। এসব কর্মীর মধ্যে প্রশাসনিক আইনবিষয়ক বিচারক এবং বিচার বিভাগের অপরাধবিষয়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তিনি উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান দলের এক সিনেট প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশেও অংশগ্রহণ করেন। তার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা হয়। সমালোচকদের মতে, বিচার বিভাগকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দীর্ঘদিনের রীতির সঙ্গে এসব উপস্থিতি সাংঘর্ষিক।
তবে ব্ল্যাঞ্চ দাবি করেন, তিনি এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কোনো আইন বা বিধি লঙ্ঘন করেননি। তিনি বলেন, "আমি ব্যক্তিগত পরিচয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলাম।"
আরও পড়ুন: শীতের আগেই ইউরোপে গ্যাসের দাম রেকর্ড, তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সংকট
এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে বিচার বিভাগে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এক স্মারকে বলা হয়েছিল, পেশাগত জীবনের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পরিচয়ে কোনো দলীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এই নীতি ২০২২ সাল থেকে কার্যকর ছিল।
ওই স্মারকে আরও বলা হয়েছিল, কোনো অঙ্গরাজ্যে প্রাথমিক বা সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে সম্ভবপর সর্বোচ্চ মাত্রায় সেখানে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
নতুন নির্দেশনার ফলে বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৪ হামলায় নিহত ২০০ হুথি যোদ্ধা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন