ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চেক প্রজাতন্ত্র নাকি চেকিয়া-বিশ্বকাপের এই দলের কোন নাম সঠিক


চেক প্রজাতন্ত্র নাকি চেকিয়া-বিশ্বকাপের এই দলের কোন নাম সঠিক

ফিফা বিশ্বকাপে আজ সকালে চেক প্রজাতন্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল এবং প্রথমে এগিয়ে গিয়েও ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। হারানো এই দলকে অনেক বছর আগে সবাই চেক প্রজাতন্ত্র নামে চিনত।

কিন্তু আজ টিভি স্ক্রিনে দেখা গেছে চেকিয়া নাম।

এদিকে, এর ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, মধ্য ইউরোপের এই দেশের আসল নাম কোনটি? উত্তর হবে, চেক প্রজাতন্ত্র এবং চেকিয়া, এই দুটি নামই সঠিক। তবে উভয়ের ব্যবহার এবং প্রেক্ষাপট আলাদা।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের দুটি নাম কেন? এর জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসে।

আজকের চেকিয়া, এক সময় ছিল চেকোস্লোভাকিয়ার অংশ। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের পতন হয়। তারা চেক এবং স্লোভাক জনগণের মিলনে চেকোস্লোভাকিয়া রাষ্ট্র গঠন করে।

১৯৯৩ সালে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া। ছবির মাধ্যমে এটি প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবে চেক এবং স্লোভাক জনগণ বিভক্ত হয়ে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে। এই ঘটনাকে চেকোস্লোভাকিয়ার বিলুপ্তি অথবা ভেলভেট ডিভোর্স বলা হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই দ্বৈত নাম? আন্তর্জাতিকভাবে বেশিরভাগ দেশের দুটি নাম প্রচলিত থাকে—একটি দাপ্তরিক বা সাংবিধানিক নাম এবং আরেকটি ভৌগোলিক বা সংক্ষিপ্ত নাম। যেমন, বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। জার্মানির আনুষ্ঠানিক নাম হলো ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি।

আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮

এ ধরনের সংক্ষিপ্ত নাম আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করে থাকি।

কিন্তু চেক প্রজাতন্ত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল আলাদা। ১৯৯৩ সালে আলাদা হওয়ার পর চেক প্রজাতন্ত্রের সংক্ষিপ্ত ইংরেজি নাম ছিল না। যদিও চেক ভাষায় এর সংক্ষিপ্ত নাম ছিল চেসকো। কিন্তু ইংরেজিতে গ্রহণযোগ্য নাম হবে কী, তা নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিতর্ক চলেছে। ফলে তারা দীর্ঘ নাম চেক প্রজাতন্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে দেশের নীতি নির্ধারকরা বোধ করছিলেন যে, বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডিং বা খেলাধুলার মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে চেক প্রজাতন্ত্র নামটি দীর্ঘ ও অপ্রসঙ্গিক মনে হয়। এর একটি সমাধান হিসাবে তারা চেকিয়া নামকরণের প্রস্তাব দেন।

২০১৬ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে চেকিয়াকে তাদের সংক্ষিপ্ত নাম হিসাবে নিবন্ধন করে। পরে জাতিসংঘ ভৌগোলিক নামের তথ্যভাণ্ডারে চেকিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দেশটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এমনকি চেক প্রবাসীরাও প্রতিবাদ করেন। অনেকে বলেন, চেকিয়া নামটি শ্রুতিমধুর নয়।

তবে বিপরীত পক্ষ দাবি করেন, বহির্বিশ্বে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিচয় সহজ করার জন্য সংক্ষিপ্ত নাম থাকা অপরিহার্য। তারা একসাথে থাকা স্লোভাকিয়াকে উল্লেখ করে যুক্তি প্রদান করেন। স্লোভাকদের দেশ স্লোভাকিয়া এবং চেকদের দেশ চেকিয়া।

কিন্তু দেশের সাধারণ নাগরিক থেকে নিয়ে অনেক রাজনীতিবিদ চেকিয়া নাম গ্রহণ করতে অনীহা দেখান। এর পিছনে কয়েকটি কারণ প্রদর্শিত হয়—

》প্রায় ২৩ বছর ধরে মানুষ চেক প্রজাতন্ত্র নামটির সঙ্গে পরিচিত। হঠাৎ করে চেকিয়া নাম ব্যবহার অনেকের কাছে অস্বাভাবিক লাগতে পারে। যেমনটি আজ ফুটবলপ্রেমীদের মনে হয়েছে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলে চালকের আসনে অস্ট্রেলিয়া

》ইংরেজি ভাষাভাষীদের অনেকেই চেকিয়ার উচ্চারণ নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন। কেউ বলেন চেচিয়া, কেউ বলেন চেজিয়া আবার কেউ অন্যভাবে উচ্চারণ করেন।

》অনেকের ধারণা ছিল, চেক প্রজাতন্ত্র নামটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত। নতুন নাম চেকিয়া ব্যবহার করলেই বরং আন্তর্জাতিক পরিচিতি দুর্বল হতে পারে।

এত দ্বিধা সৃষ্টি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের দুটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দাপ্তরিক নাম চেক প্রজাতন্ত্র, সংক্ষিপ্ত নাম চেকিয়া। ঐতিহাসিকভাবে দেশটি বোহেমিয়া নামেও পরিচিত।

দেশটির পাসপোর্টে এখনো চেক প্রজাতন্ত্র নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ছবির মাধ্যমে এটি প্রতীকৃত হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে ফিরলেন সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, পলক ও মামুন

তবে রাষ্ট্রীয় নথিপত্র, আইনি দলিল, চুক্তি বা পাসপোর্টে এখনও পূর্ণাঙ্গ নাম চেক প্রজাতন্ত্র ব্যবহার করা হয়। খেলাধুলার ক্ষেত্রে একটি দেশের সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক রীতি। তাই গত কয়েক বছর ধরে চেকিয়া নামটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, এই নামকরণ করার পর দেশটি এবারই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলছে। এজন্য অনেকেই আজ স্কোরলাইনে চেক প্রজাতন্ত্রের পরিবর্তে চেকিয়া দেখে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছেন। চেক প্রজাতন্ত্র নাম থাকা সত্ত্বেও দেশটি একবারই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে; ২০০৬ সালে।

কিন্তু চেক ও স্লোভাকরা একত্র হয়ে চেকোস্লোভাকিয়া নামক রাষ্ট্রে থাকার সময় তারা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছে—১৯৩৮ এবং ১৯৬২ সালে। দুবারই রানার্সআপ হয়ে তারা সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর দাপট কমে, ইসরাইলে ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেডিক্যাল হাবেই বেঁচে থাকবে এআই-১৭১-এর স্মৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


মেডিক্যাল হাবেই বেঁচে থাকবে এআই-১৭১-এর স্মৃতি

মাত্র ৩২ সেকেন্ডের একটি ফ্লাইট পরিবর্তন করেছে ভারতের এভিয়েশন খাত। এশিয়াতে ভারতেরই নয়, গোটা বিশ্বের এভিয়েশন প্রেক্ষাপটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইটের ৩২ সেকেন্ডের উড়ান।

এক বছর আগে ভারতের আহমেদাবাদের সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে উড়ান পূরণের ঠিক ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে পাশের বিজে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেল ও ক্যান্টিনের ওপর বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা পাইলট, যাত্রী, ক্রুসহ মোট ২৪১ জনের মধ্যে একজন যাত্রী ছাড়া সবার মৃত্যু ঘটে, এবং যেখানকার ১৯ জনসহ মোট ২৬০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল সে দিন।

অনেক দূরের মানুষ হয়তো এই দুঃখজনক স্মৃ্তিকে ভুলে গেছেন, কিন্তু আজও ২৬০টি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারানোর দগদগে ক্ষতের সাথেই দিন কাটাচ্ছে।

সিতাবেন পাটানি নামের এক মহিলা ঠেলাগাড়িতে যুবক বয়সী একটি সময়োপযোগী চায়ের স্টল চালাতেন। সেই সময় সিতাবেনের ১৫ বছরের ছেলে আকাশ পাটানি তাঁর মায়ের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখন গাছের ওপর বিমানটি ভেঙে পড়ে, আর কিশোর আকাশ তখন আকাশের তারা হয়ে যায়।

অন্যদিকে সিতাবেন হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তৃতীয় ডিগ্রী জখম নিয়ে, যদিও নিজে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে বারবার ছেলের খবর নিচ্ছিলেন। তবে তাঁকে তখন সত্যটি জানানো হয়নি।

আকাশের প্রিয় নাতির মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে ২০ দিন পর মারা যান তাঁর দাদা বাবুভাই পাটানি। সন্তানের হার, স্ত্রীর সাথে হাসপাতালের মৃত্যুর চরম সংগ্রাম এবং পিতার মৃত্যুর ভাবনা, সমস্ত কিছু মিলে অটোরিকশাচালক সুরেশভাই পাটানির জীবনে অধ্যায় ভেঙে পড়ে।

এর পরও সকল দুঃখকে বিমূর্ত করে তিনি স্ত্রীর চিকিৎসা চালালে। অসুস্থ শরীরে সিতাবেন শোকের এসব ধাক্কা নিতে পারবেন না ভেবে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। বাবার মৃত্যুর পর সিতাবেন এক মাস পর তাঁর ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। সন্তানের মৃত্যুর শোক, শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে না পাওয়ার বেদনা এখনো তাঁকে কষ্ট দেয়। প্রতিদিন ছেলের কথা ভেবে তিনি চোখের জল ফেলেন।

কাঁদতে কাঁদতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের বললেন, ‘আমি শেষবারের মতো ছেলেটাকে দেখতেও পারিনি। আমার স্মৃতিগুলো ১২ জুনেই থমকে গেছে, যখন আকাশ বেঁচে ছিল। এরপর থেকে আমার স্মৃতি সামনে আর এগোয়নি এবং আমি বিশ্বাস করি আমি কখনো এসব নিয়ে এগোতে পারবো না।’

সিতাবেনের মতো ২৬০টি পরিবারে প্রতিদিনের কান্নার চিত্র। সরকারের ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা মিটলেও প্রিয়জন হারানো কখনই পয়সার বিনিময়ে মিটে না।

এআই-১৭১ দুর্ঘটনার পর ভারতের দ্রুত পরিবর্ধনশীল এভিয়েশন খাতের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। বিমান সংস্থা এবং কোম্পানির শেয়ার দামে পড়তে থাকে। তবে ২৬০ জন মানুষ জীবন দিয়ে ভারতের এভিয়েশন খাতের বড় উপকারের কাজও করে গেছেন। লোভের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে এইসব এয়ারলাইনস মালিকরা নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে, সতর্কতা আরো কড়া হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সত্যিকার অর্থেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ‘সেফটি ফার্স্ট’ শুধুমাত্র কথার মধ্যেই না হয়ে কার্যকরী রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু ৩২ সেকেন্ডের এই ফ্লাইটের দুর্ঘটনার তদন্ত এক বছরের মাথায়ও শেষ না হওয়ায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এআই-১৭১ ফ্লাইটটি বিজে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদের হোস্টেল ও ক্যান্টিনের ওপর আছড়ে পড়েছিল জানাব। তারপর থেকে ওই দুইটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে, যেন অভিশপ্ত রহস্যময় বাড়ি। কিন্তু দুর্ঘটনার এক বছর পর গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসারিয়া সেই ছাত্রাবাস এবং ক্যান্টিনের পুনর্নির্মাণের বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন।

নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি দুর্ঘটনার ক্ষতি কাটিয়ে সম্ভাবনার ফুল ফোটানোর ঘোষণা দিলেন, ৫৪৭ কোটি টাকা খরচ করে বিজে মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস পুনর্নির্মাণ করা হবে।

তিনি বললেন, ‘বিজে মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার হাব হিসাবে গড়ে তোলা হবে, যা মেডিক্যাল পড়ুয়াদের জন্য নতুন আশা সৃষ্টি করবে।’ ভাঙা ও পোড়া ভবনগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। ঠিক যেখানে বিমানটি আছড়ে পড়েছিল, সেখানে প্যারাপ্লেগিয়া স্পাইন হাসপাতাল তৈরি হবে। তার পাশাপাশি দুটি ক্যাম্পাস, রিহ্যাবিলিটেশন কেন্দ্র, ফিজিওথেরাপি কলেজ ও হোস্টেল তৈরি করা হবে। ১ লাখ ৭১ হাজার ১০০ স্কয়ার মিটার জমিতে শিক্ষকদের জন্য ছয়টি কোয়ার্টার তৈরি হবে, যেখানে ১২০টি ফ্ল্যাট থাকবে। এছাড়া স্নাতক স্তরের ছাত্রদের জন্য দুটি হোস্টেল ব্লক নির্মাণ করা হবে, যেখানে ৩৬৪টি রুম থাকবে। স্নাতকোত্তর স্তরের বিবাহিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬১টি ইউনিট বরাদ্দ থাকবে। এর সঙ্গে মেস ও ক্যান্টিনও থাকবে। নতুন ক্যাম্পাসে গুজরাটের ফার্মাসিউটিক্যাল টেস্টিংয়ের জন্য বিশ্বমানের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে।

বিজে হাসপাতালে নির্মিত নতুন ক্যাম্পাস ও মেডিকেল হাব হয়তো স্মৃতি হয়ে থাকবে ২৬০ জনের জন্য। এই হাসপাতালে সেবাগ্রহীতারা ভালো সেবা পেলে যাতে দুর্ঘটনায় নিহত ২৬০ জনের আত্মা যেন শান্তি পায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে চীন

চীন শুক্রবার জানিয়েছে, তারা এক মার্কিন নাগরিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করেছে। আটক ব্যক্তি ছিলেন প্রতিবেশী মায়ানমার বিষয়ক একটি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, মিন জিনকে ‘ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ তাকে ‘চীনের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত থাকার সন্দেহে’ আটক করেছে। আটক ব্যক্তি ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি মায়ানমার নামে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতেন।

এ প্রতিষ্ঠানটি মায়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সম্পদ ও সংঘাত নিয়ে গবেষণা করে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কিছু গবেষণায় মায়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে চীনের প্রভাব এবং সেখানে বেইজিং সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়ার সময় মিন জিন গবেষণা করছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

আইএসপি-এম-এর সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানান, মিন জিনকে ৩ জুন মায়ানমার সীমান্তবর্তী চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটক শিক্ষাবিদের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি জানান, ‘তিনি সেখানে একটি বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।’ চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনার বিষয়ে গুয়াংঝুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে।

আরেকটি সূত্র জানায়, ‘তার পরিবার ও সহকর্মীরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তার পরিবার খুবই উদ্বিগ্ন।’ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা কৌশল ও নীতি ইনস্টিটিউট কোনো পক্ষই মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ চলাকালে চীন তার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ অনুযায়ী কখনো সেনাবাহিনী, আবার কখনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন কূটনীতিককে দ্বিতীয়বার তলব করল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


মার্কিন কূটনীতিককে দ্বিতীয়বার তলব করল ভারত

ওমানের উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ভারত শুক্রবার দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন উপ-মিশন প্রধানকে তলব করেছে, বলে একটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে। গত তিন দিনে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার নয়াদিল্লি তার অসন্তোষ প্রকাশ করল।

গত বুধবার ওমানের উপকূলে ‘সেত্তেবেলো’ ট্যাংকারে মার্কিন হামলার ফলে তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এর পরবর্তী দিন বৃহস্পতিবার ‘জলবীর’ নামের আরেকটি জাহাজে হামলার পর ২১ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়। নিহত তিনজন নাবিক হলেন ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা, ইঞ্জিন ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া এবং ইঞ্জিনিয়ার পাটনালা সুরেশ।

জাহাজ থেকে মোট ২১ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রিসিশন মুনিশন’ দিয়ে।

প্রিসিশন-গাইডেড মুনিশন বলতে বোঝানো হয় উন্নত প্রযুক্তির বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানাচ্ছে, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করে চলমান অবরোধ লঙ্ঘন করছিল। তাদের দাবি, পালাউ পতাকাবাহী এই ট্যাংকারটি ওমান উপসাগর অতিক্রম করার সময় নির্দেশনা না মানায় জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে বিমান হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তারা হামলার ভিডিওও প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তরা স্বজন হারানোর ক্ষত বইছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তরা স্বজন হারানোর ক্ষত বইছেন

মাত্র ৩২ সেকেন্ডের একটি ফ্লাইট ভারতের এভিয়েশন খাতকে বদলে দিয়েছে। গোটা বিশ্বের এভিয়েশন খাতেও এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইটের ৩২ সেকেন্ডের উড্ডয়নটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

গত বছরের ১২ জুন, অর্থাৎ ঠিক একবছর আগে, ভারতের আহমেদাবাদের সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন গ্রহণের ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে পাশের বিজে মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ও ক্যান্টিনের ওপর আছড়ে পড়েছিল। এই ঘটনায় সেদিন একজন যাত্রী ছাড়া পাইলট, যাত্রী, ক্রহকদের নিয়ে মোট ২৪১ জন এবং আছড়ে পড়া স্থানের ১৯ জনসহ মুুটো ২৬০ জন মানুষ প্রাণ হারান।

এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনা যেন অনেকের মনে ধুলার আস্তর জমিয়েছে। কিন্তু ২৬০টি পরিবার এখনও দিন কাটায় স্বজন হারানোর সেই ক্ষত নিয়ে।

সিতাবেন পাটানি একজন ঠেলাগাড়ি চালক, যিনি একটি ভ্রাম্যমাণ চায়ের স্টল চালাতেন। তার ১৫ বছরের কিশোর ছেলে আকাশ পাটানি মায়ের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে এসেছিল। ঠিক সেই সময়েই ড্রিমলাইনার ৭৮৭ এয়ারক্র্যাফটটি তাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়েছিল। কিশোর আকাশ তখন আকাশের তারা হয়ে যায়। সিতাবেন শরীরে থার্ড ডিগ্রি বার্ন নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন। নিজে যন্ত্রণায় কাতর হলেও তিনি বারবার সন্তানের খবর নিচ্ছিলেন। কিন্তু তখন তাকে সত্যিটা জানানো হয়নি।

প্রিয় নাতি আকাশের মৃত্যু শোক সহ্য করতে না পেরে ২০ দিন পর তার দাদা বাবুভাই পাটানি মারা যান। সন্তানের মৃত্যু, হাসপাতালে স্ত্রীর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, সবকিছু মিলিয়ে অটোরিকশাচালক সুরেশভাই পাটানির জীবন এলোমেলো হয়ে যায়।

সেই দুঃখ বুকে চাপা দিয়ে তিনি স্ত্রীর চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। অসুস্থ শরীরে সিতাবেন শোকের ধাক্কা নিতে পারবেন না ভেবে তার কাছে কিছুই জানানো হয়নি। ছেলের মৃত্যুর এক মাস পর সিতাবেন জানতে পারেন। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে না পারার বেদনা তাকে এখনও কুড়ে কুড়ে খায়। প্রতিদিন ছেলের কথা ভেবে তিনি চোখের জল ফেলেন।

কাঁদতে কাঁদতেই সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘আমি শেষবারের মতো ছেলেটাকে দেখতেও পারিনি। আমার স্মৃতিগুলো ১২ জুনেই থমকে গেছে, যখন আকাশ বেঁচে ছিল। এরপর থেকে আমার স্মৃতি আর সামনে এগোয়নি এবং আমি মনে করি না কোনোদিন এগোবে।’

সিতাবেনের মতো ২৬০টি পরিবারে নিত্যদিনের হাহাকার বজায় রয়েছে। সরকারের ক্ষতিপূরণে আর্থিক সঙ্কট মিটেছে, তবে প্রিয়জনের বিনিময় কখনোই টাকায় মাপা সম্ভব নয়।

এআই-১৭১ দুর্ঘটনার পর ভারতের দ্রুত বড় হতে থাকা এভিয়েশন খাত বড় ধাক্কা খায়। এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম পড়ে যায়। তবে ২৬০ জন মানুষের জীবন দিয়ে ভারতের এভিয়েশন খাতের বড় উপকারও হয়েছে। নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সতর্কতা আরো নিখুঁত হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সত্যিকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ‘সেফটি ফার্স্ট’ যেন কথার কথা হয়ে না যায়, সে চেষ্টাও চলছে। তবে ৩২ সেকেন্ডের একটি ফ্লাইটের দুর্ঘটনার তদন্ত একবছরেও শেষ না হওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ।

এআই-১৭১ ফ্লাইটটি আছড়ে পড়েছিল বিমানবন্দরের পাশের বিজে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ও ক্যান্টিনের ওপর। সেই সময়ের পর থেকে ভবন দু’টি হয়ে উঠেছে পরিত্যক্ত, যেন অভিশপ্ত কোনো ভৌতিক বাড়ি। তবে দুর্ঘটনার একবছর পর গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসারিয়া সেই পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস ও ক্যান্টিন নিয়ে পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।

নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি দুর্ঘটনার ক্ষত সারিয়ে সেখানেই সম্ভাবনার ফুল ফোটানোর ঘোষণা দেন। ৫৪৭ কোটি টাকা খরচ করে বিজে মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস পুনর্নিমাণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বিজে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা মেডিকেল পড়ুয়াদের নতুন আশা দেবে।’ পুরানো ভাঙা ও পোড়া ভবনগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। যে জায়গায় বিমানটি আছড়ে পড়েছিল, সেখানে প্যারাপ্লেজিয়া স্পাইন হাসপাতাল তৈরি হবে।

এর পাশে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ফিজিওথেরাপি কলেজ ও হোস্টেল তৈরি করা হবে। ১ লাখ ৭১ হাজার ১০০ স্কোয়ার মিটার জমিতে শিক্ষকদের জন্য ছয়টি কোয়ার্টার তৈরি করা হবে, যেখানে ১২০টি ফ্ল্যাট থাকবে। এছাড়া স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য দু’টি হোস্টেল ব্লক তৈরি করা হবে, সেখানে ৩৬৪টি রুম হবে। স্নাতকোত্তর স্তরের বিবাহিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬১টি ইউনিট বরাদ্দ থাকবে। তাছাড়া মেস, ক্যান্টিনও থাকবে। নতুন ক্যাম্পাসে গুজরাটের ফার্মাসিউটিক্যাল টেস্টিংয়ের জন্য বিশ্বমানের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে।

বিজে হাসপাতালের নতুন ক্যাম্পাস এবং মেডিকেল হাবেই হয়তো বেঁচে থাকবে ২৬০ জনের স্মৃতি। এই হাসপাতালে সেবাগ্রহীতারা ভালো সেবা পেলে নিশ্চয়ই শান্তি পাবে দুর্ঘটনায় নিহত ২৬০ জনের আত্মাও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%