ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
পর্ব: ০৩ (প্রথম খণ্ড)

আদরের ছোঁয়া


আদরের ছোঁয়া

ক্যান্টিনে আড্ডার আসর জমেছে। আজ অনেক স্টুডেন্ট এসেছে। কেউ পুরোনো বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত, আবার কেউ নতুন বন্ধু বানাতে ব্যস্ত।

ছোঁয়া সেইসবই দেখছিল। এমন সময় আদর তার বন্ধুদের নিয়ে ছোঁয়াদের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। তাদের দেখে ছোঁয়া তার হাত দুটো শশীর কাছ থেকে টেনে টেবিলের নিচে নামিয়ে ফেলল। শশীও ভয়ে চুপসে গেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। নড়াচড়া করার সাহস পাচ্ছে না। ভাবছে, তাদের কোনো কথা আদরের কানে গেল কি না।

এইদিকে আদর মাটিতে পড়ে থাকা রক্তের ফোঁটা অনুসরণ করতে করতে ক্যান্টিনে এসেছিল। উদ্দেশ্য ছোঁয়াকে খুঁজে বের করা। তার পিছু পিছু আদনান, রোহান, সাব্বির, তানু ও মাহিও এসেছে।

আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

আদর এসেই ছোঁয়ার হাত দেখতে চাইল। কিন্তু ছোঁয়া হাত নামিয়ে ফেলায় বিরক্ত হয়ে গেল।

"হাত সরালে কেন? টেবিলে তো রক্ত দেখাই যাচ্ছে।"

"এমনি।"

"বের করো তোমার হাত।"

আরও পড়ুন: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

"কেন?"

"আমি দেখব তাই।"

"কেন দেখবেন?"

"এই মেয়ে, এত বেশি কথা বলো কেন? আর একটা কথা বললে দেখবে কী করি। চুপচাপ হাত বের করো।"

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যু

ধমকের সুরে বলে উঠল আদর।

আদরের ধমক শুনে শশী ভয় পেয়ে গেছে। এমনিতেই মেয়েটা একটু ভিতু। তার ওপর আদরের ধমক শুনে শশীর ভয়ে কথা বলা বন্ধ হয়ে গেছে। তবুও অনেক কষ্টে সাহস সঞ্চয় করে ছোঁয়াকে বলল,

"ছোঁয়া, তোর হাত বের কর। কাঁচগুলো বের করতে হবে। রক্ত বন্ধ করতে হবে। নাহলে ইনফেকশন হয়ে যাবে।"

শশীর কথা শুনে ছোঁয়া হাত দুটো বের করে টেবিলের ওপর রাখল।

আরও পড়ুন: বাঁশখালী থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদ্ধার, সাবেক সেনাসদস্যসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

তখন আদর শশীকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"ওঠো, ওইদিকে যাও।"

আদর বলার দেরি, শশী লাফ দিয়ে উঠে ছোঁয়ার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে দেরি করল না।

তারপর আদর শশীর চেয়ার টেনে ছোঁয়ার সামনাসামনি বসে হাত দুটো নেড়েচেড়ে ভালোভাবে দেখে আঁতকে উঠল। মনে মনে ভাবতে লাগল,

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

"ইশ! কী জঘন্যভাবে আঘাত পেয়েছে মেয়েটা!"

ভেতরে ভেতরে তানুর ওপর খুব রাগ হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু বলছে না।

তারপর পকেট থেকে গাড়ির চাবি বের করে আদনানের হাতে দিয়ে বলল,

"আদনান, গাড়ি থেকে জলদি ফার্স্ট এইড বক্সটা নিয়ে আয়।"

আরও পড়ুন: রামুতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আটক

আদনান চাবি নিয়ে দৌড়ে চলে গেল।

এইদিকে আদর নিজেই ছোঁয়ার হাতের কাঁচের টুকরোগুলো আস্তে আস্তে বের করতে শুরু করল। ছোঁয়া ব্যথায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। কিন্তু না বের হচ্ছে তার মুখ দিয়ে কোনো উঁ-আঁ শব্দ, আর না বের হচ্ছে চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি।

খুবই শক্ত প্রকৃতির মেয়ে ছোঁয়া। তার জায়গায় অন্য কোনো মেয়ে থাকলে চিৎকার করে পুরো ক্যাম্পাস মাথায় তুলে ফেলত। কিন্তু ছোঁয়া শান্ত। চোখ বন্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে বসে থাকবে, তবুও কোনো শব্দ করবে না।

আদরসহ তার বন্ধুরা সবাই অবাক। এই মেয়ের কি ব্যথা লাগে না?

আদরের হাতের স্পর্শ আর নিজের হাতের ব্যথায় ছোঁয়ার ওষ্ঠদ্বয় কেঁপে কেঁপে উঠছে। চোখ খিঁচে ফেলছে সে।

ছোঁয়া চোখ খিঁচে বন্ধ করে বসে আছে দেখে আদর কাঁচ বের করতে করতে থেমে গেল। তাকিয়ে রইল ছোঁয়ার মুখের পানে। কেমন একটা মায়া কাজ করছে মেয়েটার মুখে। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল ছোঁয়াকে।

প্রথম দেখায় আদর রেগে থাকায় ছোঁয়াকে ভালো করে দেখতে পারেনি। এখন ভালোভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।

পরনে হালকা গোলাপি রঙের একটি গোল জামা, সাদা পালাজো। মাথায় হালকা গোলাপি রঙের হিজাব, পাশে এক সাইড করে নেওয়া সাদা ওড়না। চোখে কাজল দেওয়া। ঠোঁটে কোনো আবরণ নেই। ঠোঁট দুটো গাঢ় গোলাপি বর্ণের। যে কেউ দূর থেকে দেখলে ভাববে গোলাপি রঙের লিপস্টিক লাগিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সে ন্যাচারাল বিউটি। কোনো ধরনের সাজসজ্জার ছিটেফোঁটাও নেই তার মুখে।

গায়ের রং ফর্সা। শরীরের গঠন বেশি মোটাও নয়, আবার বেশি পাতলাও নয়—মাঝামাঝি। গোলগাল চেহারা। গাল দুটো সামান্য গোলুমুলু। যে কেউ দেখলেই বাচ্চাদের মতো গাল টিপে দিতে মন চাইবে।

আদর দেখছে আর ভাবছে,

"মাশাআল্লাহ! কী অপরূপ সৌন্দর্য আল্লাহর সৃষ্টি! কী নিখুঁত তাঁর সৃষ্টি! এত সুন্দর মেয়ে হয় নাকি? এ তো আস্ত একটা জলজ্যান্ত পুতুল!"

এইসব ভাবতে ভাবতে কোথায় যেন হারিয়ে গেল আদর।

হঠাৎ আদনানের ডাকে হুঁশ ফিরল আদরের। আদনান ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আদনানের হাত থেকে ফার্স্ট এইড বক্সটি নিয়ে স্যাভলন দিয়ে ছোঁয়ার হাত পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করে দিতে লাগল।

এমন সময় তানু আদরকে বলে উঠল,

"আদর, তুই কি এই মেয়েটার সেবা করার জন্য এখানে এসেছিস? দেখ, এই মেয়ে আমার মুখের কী অবস্থা করেছে। তাও তুই আমাকে না দেখে এই মেয়েটার হাতে ব্যান্ডেজ করছিস!"

আদর এক ধ্যানে তার কাজ করে যাচ্ছে। তানুর কথা যেন তার কানেই ঢুকছে না।

তানু রেগে যাচ্ছে। তানুর কথা শুনে ছোঁয়া তানুর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল—মুখের যে পাশে সে থাপ্পড় মেরেছিল, সেই পাশটা কেটে গেছে। এখনো রক্ত বের হচ্ছে।

আদর ছোঁয়ার এক হাত ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। আরেক হাতে ব্যান্ডেজ করতে যাবে, তখন ছোঁয়া আদরকে থামিয়ে উঠে দাঁড়াল। তানুর কাছে গিয়ে তানুর দিকে একটি চেয়ার দেখিয়ে বলল,

"এখানে বসুন।"

"কেন?"

"বসতে বলেছি, তাই বসবেন।"

"তোমার কথামতো নাকি? বসব না আমি। আমি চলে যাব এখান থেকে।"

এই বলে তানু চলে যেতে নিলে ছোঁয়া ব্যথা পাওয়া হাত দিয়েই তানুর হাত চেপে ধরে ধমকের স্বরে বলে উঠল,

"বললাম না, এখানে বসতে। আর একবার যেন বলতে না হয়। চুপচাপ বসুন।"

ছোঁয়ার ধমক শুনে তানু চুপচাপ বসে পড়ল।

এইদিকে ছোঁয়ার সাহস দেখে সবাই আশ্চর্যের চূড়ায় ভেসে আছে। কিন্তু কেউই কিছু বলছে না।

ছোঁয়া ফার্স্ট এইড বক্স থেকে তুলা আর স্যাভলন বের করে তানুর গালে লাগাতে যাবে, তখন তানু চেঁচামেচি শুরু করে দিল,

"না না, আমি এসব লাগাব না। আমার এসব লাগাতে ভয় লাগে। স্যাভলন অনেক জ্বালা করে। লাগাব না এসব। এই মেয়ে, একদম এসব লাগাবে না আমাকে। সরো এখান থেকে।"

"চুপ, একদম! আরেকটা কথা বললে ওই গালেও ঠাস করে আবার একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দেব কিন্তু! আমাকে চিনেন না, বড়-ছোট মানব না আমি। বেশি করলে আরেকটা দিতে সময় লাগবে না আমার। বাচ্চাদের মতো করছেন কেন? আপনি কি বাচ্চা? পড়েন তো মাস্টার্সে। সবার থেকে সিনিয়র। আর ন্যাকামি করছেন বাচ্চাদের মতো। আমিও তো স্যাভলন লাগিয়েছি। আমাকে একবারও দেখেছেন কোনো আওয়াজ করতে? অথচ আমি আপনার থেকে হিসাব করলে চার-পাঁচ বছরের ছোট। শুধু শরীরে আর বয়সে বড় হলেই হয় না, আচার-আচরণেও বড় হতে হয়।"

ছোঁয়ার মাথা গরম হয়ে গেছে। এত ন্যাকামি তার ভালো লাগে না। মাথা গরম হয়ে গেলে ননস্টপ কথা বলতে থাকে ছোঁয়া।

ছোঁয়া তানুকে বকছে দেখে তানুর বন্ধুরা সবাই ফিক করে হেসে উঠল। হেসে হেসে সাব্বির বলল,

"একদম ঠিক আছে। তোকে শায়েস্তা করার জন্য আল্লাহ ছোঁয়াকে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমাদের কথা তো শুনিস না, উল্টো মাথায় উঠে নৃত্য করতে থাকিস।"

সাব্বিরের কথা শুনে তানু রেগে গেল। রেগে ছোঁয়াকে বলল,

"এই মেয়ে, তুমি কি আমাকে অপমান করলে?"

"আপাতত সম্মান করার তো কোনো কারণ দেখছি না। যদি মনে করেন অপমান করছি, তাহলে তাই।"

মাহি হেসে হেসে ছোঁয়াকে বলল,

"একদম ঠিক করেছো ছোঁয়া। আমি বলছি, ওকে আমার পক্ষ থেকেও দুটো থাপ্পড় দিও। ও বাচ্চা হয়ে গেছে। ওর সঙ্গে ভালো কথায় কাজ হবে না। বাচ্চাদের মতো দুই-তিন ঘা লাগিয়ে দিলে তারপর কাজ হবে।"

মাহির কথা শুনে তানু মাহিকে চোখ রাঙাল। মাহি চুপ হয়ে গেল, কিন্তু মুখ চেপে চেপে হাসতেই থাকল।

এইদিকে ছোঁয়া তানুকে কথা শোনাতে শোনাতে স্যাভলন দিয়ে গাল পরিষ্কার করে ওয়ান-টাইম ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিল। শান্ত স্বরে বলল,

"হয়ে গেছে। এবার উঠতে পারেন।"

তানু চুপচাপ উঠে গেলে ছোঁয়া আবার বসে পড়ল। ছোঁয়া আরেক হাত এগিয়ে দিল আদরের সামনে ব্যান্ডেজ করার জন্য।

এমন সময় ছোঁয়ার ফোন বেজে উঠল। শশীকে বলল,

"ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে দেখ, কে কল করেছে।"

"ছোঁয়া, তোর আম্মু কল করেছে।"

"আম্মু কেন কল দেবে এই সময়? আচ্ছা, রিসিভ করে লাউডে দে। হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম আম্মু!"

"ওয়ালাইকুমুস সালাম। নতুন ভার্সিটি কেমন মা?"

"অনেক সুন্দর, আম্মু! কী করছো?"

"রান্না করছি। তুই কী করছিস? এত আওয়াজ কিসের?"

"আমি ক্যান্টিনে আছি আম্মু। এখানে অনেক মানুষ, তাই আওয়াজ বেশি। আম্মু, তুমি কি কিছু বলবে?"

"হ্যাঁ। ছোঁয়া, তুই ঠিক আছিস? সকাল থেকেই আমার অস্থির লাগছে। বাম চোখ লাফাচ্ছে। অশান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে তোর কিছু হয়েছে। বল না মা, তুই ঠিক আছিস? কতবার বলেছি, আজকে প্রথম দিন, আমি নিয়ে যাই তোদের। শুনলি না কেউ আমার কথা।"

ছোঁয়ার মায়ের কথা শুনে ছোঁয়ার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। মায়ের মন বলে কথা, ঠিকই বুঝে যায় কিছু হলে।

ছোঁয়া একবার নিজের দুই হাতের দিকে তাকিয়ে, আরেকবার সবার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

"আম্মু, আমার কিছু হয়নি। আমি ঠিক আছি। আর শোনো, ওইসব কুসংস্কার মানতে কতবার নিষেধ করেছি তোমাকে। তাও কুসংস্কার মানো। এগুলো ঠিক না আম্মু। শুধু শুধু নিজের টেনশন বাড়িয়ে শরীর খারাপ করবে। আর কিছু না।"

"তুই সত্যি ঠিক আছিস মা?"

"হ্যাঁ আম্মু, আমি ঠিক আছি। তুমি আর চিন্তা করো না। একটু পর আমার ক্লাস শুরু হবে। রাখছি এখন।"

"শোন, ছোঁয়া?"

"হ্যাঁ আম্মু, বলো?"

"শশী ঠিক আছে?"

"হ্যাঁ রে বাবা, সবাই ঠিক আছে। তোমার দুই মেয়েই ঠিক আছে। আর টেনশন করো না আম্মু।"

"আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে। রাখছি। সাবধানে আসিস দুইজন।"

"আচ্ছা আম্মু, শোনো, শোনো?"

"হ্যাঁ, বল?"

"বলছি, একটা কথা বলব, রাগ করবে না তো?"

"কী কথা?"

"আগে তুমি বলো, রাগ করবে না? আচ্ছা একটা কাজ করো, তুমি আমার হারিয়ে যাওয়া খালামনির কসম খেয়ে বলো, তুমি রাগ করবে না।"

"এটা কেমন কথা ছোঁয়া? খালামনিকে নিয়ে এসব কী কথা?"

"আরে আম্মু, আগে বলো না, প্লিজ খালামনির কসম?"

"আচ্ছা ঠিক আছে। বল, এবার।"

"বলছিলাম আম্মু, আজকে আমি শশীদের বাসায় থাকি?"

"না ছোঁয়া। তোর আব্বু বকা দেবে।"

"আম্মু, যাই না প্লিজ? এমনিতেই তো এতগুলো মাস ঘরবন্দি ছিলাম। ঘরে থাকতে থাকতে বিরক্ত লেগে গেছে। আজকে থেকে ভার্সিটির ক্লাস শুরু হলো। পড়ালেখা কিছু মাথায় ঢুকবে না আর কয়েকদিন ওই ঘরে থাকলে। দম বন্ধ হয়ে ঠুস করে মরে যাব। যাই না আম্মু, দুই-তিন দিন থেকে চলে আসব।"

"তো একসঙ্গে থাকতে চাইলে শশীকে বল, আমাদের বাসায় এসে কয়েক দিন থেকে যেতে। তোর আব্বু তোকে থাকতে দেবে না। তোকে না দেখলে আমাকে বকা দেবে। তোকে ছাড়া তোর আব্বু খেতে বসে না, তুই জানিস না?"

"আম্মু, তুমি রেগে যাচ্ছ কেন? প্লিজ যাই না! শশীও থাকবে আমাদের বাসায়। তবে আজকে না। আজকে শশীর সব কাজিনরা আসবে। ওরা পিকনিক করবে। আমাকেও বলেছে থাকতে। তুমি আব্বুকে বুঝিয়ে বলিও।"

"আমি পারব না তোর বাপকে বোঝাতে।"

"আম্মু, তুমি কিন্তু খালামনির কসম খেয়েছো। না করবে না কিন্তু। তাহলে খালামনিকে কখনো খুঁজে পাবে না বলে দিলাম।"

"মানে আমার দুর্বলতায় হাত দেওয়াই তোর মুখ্য কাজ?"

"আম্মু, রাজি হয়ে যাও না প্লিজ। আর আমি একা বলছি নাকি? শশীও অনেক জোর করছে। কিরে শশী, তুই এতক্ষণ আমার মাথা খেয়ে ফেললি তোর বাসায় যাওয়ার জন্য। আর এখন আম্মুকে বলতে পারছিস না? নে, কথা বল।"

ছোঁয়ার কথা শুনে শশী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। নিজে নিজে ভাবতে লাগল, সে কখন বলল?

ছোঁয়ার দিকে বোকার মতো তাকিয়ে আছে দেখে ছোঁয়া তার দুই হাত দেখিয়ে ইশারা করে বলল, যাতে তাদের বাসায় থাকার জন্য ছোঁয়ার আম্মুকে রাজি করায়।

তারপর মোবাইল হাতে নিয়ে সালাম দিয়ে আম্মু আম্মু বলে ছোঁয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে লাগল।

ছোঁয়া আর শশী যখন থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়েছে, তখন থেকেই দুজনের মাকে আম্মু বলে ডাকে। তাদের ভাষ্যমতে, এতে নাকি বেস্ট ফ্রেন্ডের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

"আম্মু, প্লিজ ছোঁয়াকে আমাদের বাসায় যেতে দিন না? আমার সব কাজিনরা আসবে। ওরা বারবার বলে দিয়েছে, ছোঁয়া যেন এবার আমাদের সঙ্গে থাকে।"

"ছোঁয়ার আব্বু রাজি হবে না রে মা। এমনিতেই গিয়ে সারাদিন থেকে আসবে। রাতে থাকার দরকার নেই।"

"আচ্ছা, তাহলে আপনি আমাকে মেয়ে মনে করেন না। তাই বিশ্বাস করে নিজের মেয়েকে আমাদের বাসায় যেতে দিতে রাজি না। ভেবেছিলাম দুই বান্ধবী একসঙ্গে থাকব, একটু মজা করব। থাক, কী আর করার।"

"এভাবে বলছিস কেন পাগলি? তুইও তো আমার মেয়ে। যেতে তো নিষেধ করিনি। তবে রাতে থাকা যাবে না। ছোঁয়ার আব্বু ছোঁয়াকে দেখতে না পেলে বাড়ি মাথায় তুলবে।"

"আম্মু, আপনি আব্বুকে যেভাবেই হোক রাজি করাবেন। আমি এত কিছু জানি না। ছোঁয়া এমনিতেই কোথাও যেতে চায় না। একা থাকতে থাকতে মনমরা হয়ে গেছে। আমাদের সবার সঙ্গে থাকলে, একটু মজা করলে ওর মনটা চাঙা হয়ে যাবে।"

"আচ্ছা ঠিক আছে। আমার কথা যখন আজকে শুনবি না, ঠিক করেছিস, তাহলে যা নিয়ে যা। আমি ছোঁয়ার আব্বুকে বুঝিয়ে বলব। তবে তোকেও কিন্তু আমাদের বাসায় থাকতে হবে।"

"ইয়েএএ! ঠিক আছে আম্মু, আমিও থাকব। সমস্যা নেই। আগে ছোঁয়া তো থাকুক আমাদের সঙ্গে। আমি জানতাম আপনি রাজি হবেন। আপনি অনেক ভালো। নিন, ছোঁয়ার সঙ্গে কথা বলুন।"

"হ্যাঁ আম্মু, শোনো, আমি শশীর ভাইকে পাঠাব। আমার কয়েকটা জামা দিয়ে দিও। বাসায় গিয়ে জামা আনার সময় পাব না। সবাই আসবে, অনেক মজা করব।"

"ঠিক আছে, সাবধানে থাকিস।"

বলে ছোঁয়ার আম্মু ফোন কেটে দিলেন।

তারপর শশী জিজ্ঞেস করল,

"কিরে, আমরা কবে প্ল্যান করলাম?"

"এই মাত্র। আমার অবস্থা দেখছিস তুই?"

ছোঁয়া তার দুই হাত দেখিয়ে বলল,

"এমনিতেই আম্মুর মন বলছে আমার কিছু হয়েছে। তার ওপর এই অবস্থায় আমি বাসায় গেলে আম্মুর কী অবস্থা হবে, ভেবে দেখেছিস?"

আদরের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলল,

"আগে ভেবেছিলাম এই ভার্সিটি অনেক ভালো একটা ভার্সিটি। কিন্তু আজকে জানলাম, এই ভার্সিটি আস্ত একটা কুফা। নাহলে এখানে আসার পরপরই আমার সঙ্গেই কেন এসব হতে গেল? আর কেউ কি ছিল না?"

ছোঁয়ার কথা শুনে আদর আড়চোখে তাকাচ্ছে।

ছোঁয়ার আরেক হাতেও ব্যান্ডেজ করা হয়ে গেছে অনেক আগেই, যখন ছোঁয়া তার আম্মুর সঙ্গে কথা বলছিল। আদর চুপচাপ ছোঁয়া আর তার আম্মুর কথা শুনছিল মনোযোগ দিয়ে। সঙ্গে কিছুক্ষণ পরপর ছোঁয়ার দিকে তাকাচ্ছিল।

ছোঁয়ার দুই রকম সত্তা দেখল আদর। ছোঁয়া রেগে কথা বললে এক রকম লাগে, আবার মায়ের সঙ্গে আদুরে গলায় কথা বললে অন্য রকম লাগে।

.
.
.
.
.

চলবে...

লেখিকা: মমতাজ নাহার মনিকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক যুগ পর রোমে গান গাইবেন জেমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


এক যুগ পর রোমে গান গাইবেন জেমস

দীর্ঘ ১২ বছর পর বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকস্টার ও ‘নগরবাউল’ খ্যাত জেমস আবারও ইতালির রাজধানী রোমে কনসার্টে মঞ্চ মাতাতে যাচ্ছেন। এই কনসার্টটি প্রবাসী দর্শকদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত এবং এটি সামনে রেখে রোমে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশেষ গেট টুগেদার ও সংবাদ সম্মেলন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রোমের একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক হোসাইন আহমেদ মোয়াজের সঞ্চালনায় সেখানে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিক, বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষক (স্পন্সর) এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেমস সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের নানা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

এক যুগ পর রোমের মাটিতে গান পরিবেশন করার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নগরবাউল হিসেবে। তিনি বলেন যে, এত সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল প্রস্তুতির জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে, জেমস বাংলাদেশের প্রয়াত সংগীত কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধারাবাহিক ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা তুলে ধরে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, দেশের নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

জেমসের আগমন ঘিরে ইতিমধ্যে পুরো ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ বইছে।

প্রিয় শিল্পী জেমসের কালজয়ী এবং জনপ্রিয় গানগুলো সরাসরি শোনার জন্য রোমের সংগীতপ্রেমী দর্শকরা উৎসুক হয়ে আছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রবাসী শ্রোতাদের একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা উপহার দিতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিল গেটসের মেয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


বিল গেটসের মেয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের কন্যা ফোবি গেটসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ‘কুকি স্টাফিং’ নামে পরিচিত একটি অনলাইন বিজ্ঞাপন ও কমিশন জালিয়াতির ঘটনা।

অভিযোগের আসরে বলা হয়েছে, ফোবি গেটস ও তার সহপ্রতিষ্ঠাতা সোফিয়া কিয়ান্নির স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি দূষিত প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছিল। তারা এমনভাবে অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং কোড ব্যবহার করত, যাতে ব্যবহারকারী সরাসরি তাদের মাধ্যমে কোনো পণ্য না কেনলেও বিক্রির কমিশন ফিয়ার নামে চলে আসতে পারত। এই প্রক্রিয়াকে ‘কুকি স্টাফিং’ বলা হয়।

আইনগত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ফিয়ার ব্রাউজার এক্সটেনশন ব্যবহারকারীদের অজান্তে অনলাইন দোকানের সঙ্গে যুক্ত অ্যাফিলিয়েট লিংক সংযোগ করত। এভাবে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বাস্তবিক ভূমিকা থাকলেও কমিশনের কৃতিত্ব ফিয়া দাবি করতে পারত।

প্রথমদিকে ফিয়া এটিকে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে দাবি করেছিল। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অভিযোগ অধিকতর জোরালো হয়েছে। বর্তমান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোবি গেটস ও সোফিয়া কিয়ান্নি এই বিষয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে অবগত ছিলেন কি না, সেটা নিয়েও তদন্ত ও বিতর্ক চলছে।

ফিয়া জানায়, বিতর্কিত ফিচারটি গত ৭ জুলাই প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব লেনদেনে ভুলভাবে কমিশন তাদের নামে সংযুক্ত হয়েছে, সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড ও অংশীদারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ তারা নিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানোর জন্য কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী এর গুরুতর আইনগত পরিণতি হতে পারে, এবং কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডেরও বিধান থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফোবি গেটসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা সাজা হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

২০২৫ সালে চালু হওয়া ফিয়া একটি অনলাইন শপিং সহকারী প্ল্যাটফর্ম। এটি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পণ্যের দাম তুলনা ও ডিসকাউন্ট কোড খুঁজে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত। ফোবি গেটস যেহেতু বিল গেটসের মেয়ে, সেহেতু এই অভিযোগটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও ব্লুমবার্গ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বিএনপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে জরুরি বৈঠকে বসেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি সচিবালয়ে সকাল ৯টার দিকে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ ও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত আছেন। বৈঠকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী কে হচ্ছেন, সেটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর দলটির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া এই পদে নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জাতীয় সংসদের বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন। ওই দিনের বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। দলের উচ্চ পর্যায় থেকে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুলকে কেন্দ্র করে বিএনপির সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে যদি তিনি দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তাহলে একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শূন্যতা তৈরি হবে। সেগুলো হচ্ছে বিএনপি মহাসচিব পদ, স্থানীয় সরকার বিষয়কমন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য। ফলে কে হবেন তার উত্তরসূরি, এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের ৩৬ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ১ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের ৩৬ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ১ নারী

পশ্চিম কলম্বিয়ার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরে, ধ্বংসস্তূপের নিচে মেয়েটির তিন দশকেরও বেশি সময় আটকে থাকা অবস্থায় ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ড্যানিয়েলা লার্গো নামে পরিচিত এই নারীকে উদ্ধার করেছেন দমকলকর্মীরা, যিনি পেরেইরা শহরের ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে আটকা পড়ে ছিলেন।

তাকে উদ্ধারের জন্য প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালাতে হয়েছিল। লার্গোর পথ আটকে রেখেছিল চারটি ভারী কংক্রিটের পাটাতন। এর নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে অবশেষে উদ্ধারকর্মীরা তার কাছে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পরে একটি ছোট ক্যামেরার সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে লার্গোর অবস্থান সনাক্ত করা হয়। তবে তাকে বের করে আনা সহজ ছিল না। কারণ, চারটি ভারী কংক্রিটের পাটাতন সরাসরি তার কাছে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এই কারণে উদ্ধারকর্মীরা দুটি আলাদা সুড়ঙ্গ খনন করতে বাধ্য হন।

স্থানীয় দমকলকর্মীদের পাশাপাশি রাজধানী বোগোতা থেকে আসা উদ্ধারকর্মীরাও এই অভিযানে অংশ নেন। জাতীয় পুলিশ বাহিনীর দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে কাজ করতে আসেন। উপর থেকে খনন করা একটি সুড়ঙ্গের মাধ্যমে লার্গোর কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর, নিচের দিক থেকে খনন করা দ্বিতীয় সুড়ঙ্গের মাধ্যমে তাকে বের করে আনা হয়।

লার্গোর উদ্ধার হওয়ার খবরটি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দ্বারা স্বাগত জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এটিকে ‘আশায় ভরিয়ে দেওয়া খবর’ বলে উল্লেখ করেন। লার্গোর মা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পের পরে স্থানীয় এক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার মেয়ের সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনেছিলেন। সেই খবরের ভিত্তিতে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে পৌঁছান। তিনি আরও জানান, লার্গোর ১২ বছর বয়সী ছেলে বাড়িতে তার জন্য অপেক্ষা করছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪৯৬ জন নিখোঁজ আছেন। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পেরেইরায় অন্তত ৭৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা দিক দিয়ে এটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে কালি শহরে, যেখানে ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কলম্বিয়ার রাজধানী শহরগুলোর সংগঠন আসোকাপিতালেস এসব তথ্য জানায়। পেরেইরায় অন্তত ৯২টি ভবন ধসে পড়েছে এবং বর্তমানে ১৫ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। পাশাপাশি ৩৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

কলম্বিয়ার তৃতীয় সর্বাধিক জনসংখ্যার শহর কালি শহরেও বর্তমানে একটি বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেখানে ২০০ জনের বেশি মানুষ বিভিন্ন স্থানে আটকে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জন্য শহরটির মেয়র রাতের জন্য কারফিউ জারি করেন। তিনি জানান, কালির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাবাহিনী টহল দেবে। মেয়র বলেন, উদ্ধার কাজ নিরাপদভাবে চালানোর বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরো মানুষকে জীবিত উদ্ধারের আশা এখনো থাকে। আটকে থাকা মানুষদের বের করে আনতে সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এ পর্যন্ত কালিতে ৮৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী তখন দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিট। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। তবে এর কম্পন কলম্বিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রগুলোতে ৯০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়নি এবং ১০০টির বেশি আফটার শক ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%