প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিম কলম্বিয়ার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরে, ধ্বংসস্তূপের নিচে মেয়েটির তিন দশকেরও বেশি সময় আটকে থাকা অবস্থায় ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ড্যানিয়েলা লার্গো নামে পরিচিত এই নারীকে উদ্ধার করেছেন দমকলকর্মীরা, যিনি পেরেইরা শহরের ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে আটকা পড়ে ছিলেন।
তাকে উদ্ধারের জন্য প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালাতে হয়েছিল। লার্গোর পথ আটকে রেখেছিল চারটি ভারী কংক্রিটের পাটাতন। এর নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে অবশেষে উদ্ধারকর্মীরা তার কাছে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পরে একটি ছোট ক্যামেরার সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে লার্গোর অবস্থান সনাক্ত করা হয়। তবে তাকে বের করে আনা সহজ ছিল না। কারণ, চারটি ভারী কংক্রিটের পাটাতন সরাসরি তার কাছে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এই কারণে উদ্ধারকর্মীরা দুটি আলাদা সুড়ঙ্গ খনন করতে বাধ্য হন।
স্থানীয় দমকলকর্মীদের পাশাপাশি রাজধানী বোগোতা থেকে আসা উদ্ধারকর্মীরাও এই অভিযানে অংশ নেন। জাতীয় পুলিশ বাহিনীর দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে কাজ করতে আসেন। উপর থেকে খনন করা একটি সুড়ঙ্গের মাধ্যমে লার্গোর কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর, নিচের দিক থেকে খনন করা দ্বিতীয় সুড়ঙ্গের মাধ্যমে তাকে বের করে আনা হয়।
লার্গোর উদ্ধার হওয়ার খবরটি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দ্বারা স্বাগত জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এটিকে ‘আশায় ভরিয়ে দেওয়া খবর’ বলে উল্লেখ করেন। লার্গোর মা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পের পরে স্থানীয় এক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার মেয়ের সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনেছিলেন। সেই খবরের ভিত্তিতে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে পৌঁছান। তিনি আরও জানান, লার্গোর ১২ বছর বয়সী ছেলে বাড়িতে তার জন্য অপেক্ষা করছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪৯৬ জন নিখোঁজ আছেন। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পেরেইরায় অন্তত ৭৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা দিক দিয়ে এটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে কালি শহরে, যেখানে ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কলম্বিয়ার রাজধানী শহরগুলোর সংগঠন আসোকাপিতালেস এসব তথ্য জানায়। পেরেইরায় অন্তত ৯২টি ভবন ধসে পড়েছে এবং বর্তমানে ১৫ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। পাশাপাশি ৩৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
কলম্বিয়ার তৃতীয় সর্বাধিক জনসংখ্যার শহর কালি শহরেও বর্তমানে একটি বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেখানে ২০০ জনের বেশি মানুষ বিভিন্ন স্থানে আটকে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জন্য শহরটির মেয়র রাতের জন্য কারফিউ জারি করেন। তিনি জানান, কালির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাবাহিনী টহল দেবে। মেয়র বলেন, উদ্ধার কাজ নিরাপদভাবে চালানোর বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরো মানুষকে জীবিত উদ্ধারের আশা এখনো থাকে। আটকে থাকা মানুষদের বের করে আনতে সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এ পর্যন্ত কালিতে ৮৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী তখন দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিট। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। তবে এর কম্পন কলম্বিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রগুলোতে ৯০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়নি এবং ১০০টির বেশি আফটার শক ঘটেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন