শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৬ পি.এম
একসময় যা ছিল বাঙালির প্রাত্যহিক খাবারের অনুষঙ্গ, সেই রুপালি ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের জন্য রীতিমতো বিলাসী পণ্য। তবে মৎস্য গবেষকরা পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যাতে মাছটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসে। নদীর জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার, প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে তারা আশাবাদী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদী কেন্দ্রের (চাঁদপুর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ জানান, দূষণ, নাব্যতা সংকট ও পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উজানের দিকে ইলিশের বিচরণ কমেছে। বর্তমানে ইলিশের মজুত, বিচরণ ও উৎপাদন নিয়ে ‘পপুলেশন ডায়নামিকস অ্যান্ড স্টক অ্যাসেসমেন্ট অব টেনুয়ালোসা ইলিশা ইন বাংলাদেশ’ গবেষণাসহ ছয়টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ড. তায়েফা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নদীর জলাশয়কে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলে ইলিশের আগের প্রাচুর্য আবারও চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
মৎস্য গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট ৫ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল, যার মধ্যে চাঁদপুরে উৎপাদন ছিল ৩৩ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারাদেশে উৎপাদন কমে ৫ লাখ মেট্রিক টনে নামলেও চাঁদপুরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টনে। তবে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা দিয়েছে; ইলিশের ডিম ও রেণু পোনার উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে সারাদেশে ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮০২ কেজি ডিম উৎপাদন হলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৪ কেজিতে। ফলে রেণু পোনা ও বেঁচে থাকা জাটকার সংখ্যা আনুপাতিক হারে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চাঁদপুরে ইলিশের উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টনে।
চাঁদপুরের জেলেরা উৎপাদন ও নদীতে মাছের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। রাজরাজেশ্বরের জেলে বাচ্চু বেপারি ও খলিল জানান, নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল টেনেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু তেলের দাম বৃদ্ধিতে জীবিকা নির্বাহ করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নদীতে সরবরাহ কম থাকায় চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে দাম বেড়ে গেছে আকাশচুম্বী। স্থানীয় ব্যবসায়ী মেজবাহ উদ্দিন ও সম্রাট বেপারি জানান, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৭৫০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় কেজিতে ৫শত থেকে ৬শত টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অসাধু উপায়ে প্রজনন ও জাটকা মৌসুমে নিধন এবং সাগরে ট্রলিং জালের ব্যবহারকে ইলিশের ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন আড়তদার ও পাইকাররা।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম জানান, ইলিশের দাম কমাতে উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার নদীতে পরিচালিত হবে কঠোর অভিযান।
নিষেধাজ্ঞাকালীন চাঁদপুরের ৪২ হাজার ৭৯০ জন নিবন্ধিত জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে। চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসাইন জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গবেষকদের বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, ডুবোচর খনন এবং প্রজনন মৌসুমে প্রশাসনিক কঠোরতা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে আবারও ইলিশের চেনা প্রাচুর্য ফিরে আসবে এবং মাছটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন চাঁদপুরবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। মিছিল চলাকালীন নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন- "তারেক রহমান বলেছেন- 'আজকের এই সমাবেশ ষড়যন্ত্রের দুরভিসন্ধিকে প্রতিরোধ করার সমাবেশ।' আমরা চাঁদপুরে গত ১৭ বছর এই সহকর্মীদের সাথে নিয়ে চাঁদপুরবাসীকে সঙ্গে করে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আজকে কেউ কেউ লং মার্চের নামে বক্তব্য দিয়ে এক বনে এক বাঘ সাজে! বক্তব্য দিয়ে বলে কি- আঙ্গুল দেখিয়ে আমাদেরকে বলে, 'এক দফা'! স্বঘোষিত নানার জন্ম হয়েছে এখন বাংলাদেশে! এই বাংলাদেশে কোনো স্বঘোষিত নানার জায়গা হবে না! এই বাংলাদেশে কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীর জায়গা হবে না!
যারা আমাদের এই চাঁদপুরে আরামে ঘুমায় আর নিষিদ্ধ ঘোষিত অঙ্গ সংগঠনের নামে মিছিল করে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। এখনো আমরা আপনাদের ব্যাপারে কোনো ধরনের ডিসিশন নেই নাই। যারা এই কাজে লিপ্ত হবেন, এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যারা এই কাজে উসকানিদাতা থাকবেন এবং আমাদের দলীয় কেউ যদি তাদেরকে সহযোগিতা করেন- সবাই সমানভাবে দোষী সাব্যস্ত হবেন।
আপনাদের কাছে অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পাড়া-মহল্লাতে এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন এবং যারা স্বঘোষিত নানা দাবি করে, তাদেরকে প্রতিরোধ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা তা করা হবে। জনগণকে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ করব। তারেক রহমান জনগণের প্রধানমন্ত্রী!
এক দফা এক দাবি- আমাদের স্লোগান ছিল। আমরা বলতাম- 'এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা কবে যাবি?' আপনারা চান্দুরা কোথায় ছিলেন ১৭ বছর? বিল্ডিংয়ের ছাদের উপর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ৩ তারিখ আর ৪ তারিখ জুলাই মাসে কই ছিলেন। আমাদের ১৭ বছরের মতো রাজনীতি করতে হবে। আমরা কিন্তু কচি খোক না! আমরা কি বুঝি না? নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের লগে মিল করে আপনারা এক দফা এক দাবির ঘোষণা দিচ্ছেন! বাংলাদেশের জনগণ এত চুদু না।
একটি নিরপেক্ষ জরিপে বলেছে, বিএনপির পপুলারিটি ৫২% এই মুহূর্তে। প্রধানমন্ত্রীর ৬৫%! প্রধানমন্ত্রীর পপুলারিটি আর বিএনপির পপুলারিটি একই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর... আমাদের প্রিয় নেতা, উনার পপুলারিটি রক্ষা করতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যা যা করা দরকার, আমরা তাই করব। সবাই চোখ-কান খোলা রাখবেন। মাদকের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইভটিজিংয়ের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজদের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।"
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট একেএম. সলিম উল্যা সেলিম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ মাঝি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহজাহান কবির খোকা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম সূর্য, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মান্নান খান কাজল, আবু হানিফ কাকন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিউদ্দিন উদ্দিন বাবলু, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের শত শত নেতাকর্মী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দমুখর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা। ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করে নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক তৎপরতা ও আসন্ন দুর্গাপূজা আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার" এই চেতনাকে সামনে রেখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সম্প্রীতি ও সহযোগিতায় উৎসব সফল করার দীপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
উৎসবের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এই নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বর্ধিত সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় চাঁদপুর জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ এবং যুগ্ম সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা। তারা জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও স্থানীয় পরিস্থিতি সভার সামনে তুলে ধরেন।
এ বছর চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ২৩২টি মণ্ডপে সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে বর্তমানে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে দেবী প্রতিমা গড়ার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। সেই সাথে আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সজ্জার প্রস্তুতিও জমে উঠেছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৬ দিনব্যাপী এই প্রাণের উৎসব। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সাহাপুর এলাকায় পৌরসভা গেইট সংলগ্ন ওমর ফারুকের প্রবাসীর মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গোডাউনের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, আগুনে প্রায় ৫ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকান ও গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে নুরুল হকের কনফেকশনারি দোকান, ওমর ফারুকের ইলেকট্রিক দোকান এবং শাহজাহান মিয়ার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি পাশের একটি ফার্মেসি, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান এবং দুটি গোডাউনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে সেনবাগ ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় শামীম, মিরন, ইব্রাহিম, অনিক, জাহিনসহ আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেন। ঘটনাস্থলে সেনবাগ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্ণীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেছেন, “নতুন করে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে।” শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্ণীপুরের টুমচর ইউনিয়নের ইলির গোজা এলাকায় বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় নদীর তীররক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা যে আসন পেয়েছেন, সে আসনের দায়িত্ব পালন করুন। জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। দেশের উন্নয়নের কাজে সহযোগিতা করুন।” আবুল খায়ের ভূঁইয়া আরও বলেন, “ইসলামের নামে যারা নানা ধরনের কথা বলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের এসব রাজনীতি আর চলবে না।” সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি ও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সামিউল হক, ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, লক্ষ্ণীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, সাবেক জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. ফয়েজ আহাম্মেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইলির গোজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “নদীভাঙন আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা। আমরা চেষ্টা করে যাব, যাতে ভবিষ্যতে এ এলাকার মানুষকে নদীভাঙনে উদ্বাস্তু বা শরণার্থীর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।” স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মাসুদুর রহমান এর সভাপতিত্বে এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বি-স্ট্রং প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর তীর রক্ষায় টেকসই কাজ করা হবে।
জিওটেক্সটাইলের সঙ্গে সিমেন্টের ব্লক ব্যবহার করে কাজটি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “আগের মতো শুধু ব্লক ফেলে বা জিওব্যাগ ফেলে কাজ শেষ করে দেওয়া হবে না। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজগুলো তদারকি করবেন।”
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্ণীপুর-২ নির্বাচনী এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে আরও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সড়ক, ব্রিজ ও লিংক রোড নির্মাণের ক্ষেত্রেও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ব্রিজ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে মাটি ভালো এবং ব্রিজ টেকসই হবে, সেখানেই ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। জনগণ যেন দীর্ঘদিন এর সুফল ভোগ করতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। লিংক রোডের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী লিংক রোড নির্মাণ করা হবে। এ জন্য কাউকে তদবির করতে হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “কোনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা অর্থের অপচয় হতে দেওয়া হবে না। আমরা জনগণের খেদমতগার, আমরা জনগণের সেবক; শাসক নই।” এর আগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি এলাকার উন্নয়নকাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লক ফেলে বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় নদীর তীররক্ষা কাজের উদ্বোধন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ