১০:১৫ এম
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ৮০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি।
রোববার (৪ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে একটি বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের শিক্ষকরা শিক্ষার অধিকার রক্ষায় ‘বেঁচে থাকার এক বাস্তব লড়াই’ করছেন। তাদের নিয়মিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত
মন্ত্রণালয়ের দাবি, গাজা ও পশ্চিম তীরের শিক্ষা খাত ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে ‘ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের’ শিকার হয়েছে। বর্তমানে ১৭০-এরও বেশি শিক্ষক ইসরাইলের হেফাজতে রয়েছেন এবং তারা ‘কঠিন পরিস্থিতির’ মধ্যে আটক আছেন।
শিক্ষকদের দুর্ভোগ চলাচলে বিধিনিষেধ ও শত শত চেকপোস্টে হয়রানির কারণে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তা, মধ্য পশ্চিম তীরের আল-মুগাইয়ির গ্রাম, জর্ডান উপত্যকা এবং ‘এরিয়া সি’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
১৯৯৫ সালের অন্তর্বর্তীকালীন অসলো-২ চুক্তির আওতায় পশ্চিম তীরকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে: এ, বি ও সি। এর মধ্যে ‘এরিয়া এ’ ফিলিস্তিনি বেসামরিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ‘এরিয়া বি’ ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসন ও ইসরাইলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত ‘এরিয়া সি’ পুরোপুরি ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে।
ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের ওপর নিপীড়নের পাশাপাশি তীব্র আর্থিক সংকটও তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। ফিলিস্তিনের করের অর্থ আটকে রাখার কারণে শিক্ষকদের আর্থিক ও মানসিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্লভ ডাইনোসর ‘জোডি’ ৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি, বিজ্ঞানীদের অসন্তোষ
‘ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ’ নামে পরিচিত এই অর্থ আমদানি করা পণ্যের ওপর ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হয়ে যে কর আদায় করে, তা থেকে আসে। ১৯৯৪ সালের প্যারিস প্রটোকলের আওতায় এসব অর্থ ফিলিস্তিনের কাছে হস্তান্তরের কথা।
২০১৯ সাল থেকে ইসরাইল এসব রাজস্ব থেকে অর্থ কেটে রাখা শুরু করে এবং পরে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং সরকারি কর্মীদের পুরো বেতন পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে।
ফিলিস্তিনের মোট সরকারি রাজস্বের প্রায় ৫৬ শতাংশই আসে এই ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ থেকে। ফলে এসব অর্থ আটকে রাখায় বেতন পরিশোধ, সরকারি সেবা প্রদান এবং সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে বড় বাধা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং শিক্ষা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনে নাগরিকত্ব ছাড়াই ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
এছাড়া আটক শিক্ষকদের মুক্তি এবং আটকে থাকা আর্থিক পাওনা পরিশোধের জন্য বিশ্বজুড়ে শিক্ষক সংগঠনগুলোকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন