১০:৩৫ পি.এম
দেশের ৪৫টি রাষ্ট্রীয় কারখানার বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেগুলো চালু করার, ৩০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করার এবং শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীতে শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টিইউসির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলম। বক্তৃতা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক মোবারক হোসেন, হকার্স নেতা সেকান্দার হায়াৎ, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং মহান মে দিবসে বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে, পাট, চিনি, বস্ত্র, কাগজ, সার, ইস্পাত, রাসায়নিক ও প্রকৌশলসহ ৪৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, এসব কারখানার বেসরকারিকরণের উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় শিল্প-সম্পদ লুটপাটের সুযোগ তৈরি করবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রকৃত মালিকানা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এবং সংসদে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আরো বলেন, অতীতে যেসব রাষ্ট্রীয় কারখানা বেসরকারিকরণ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই কার্যকরভাবে চালু থাকেনি। তাই, বেসরকারিকরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সমাবেশে শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হলেও উৎপাদন ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে বৈষম্য বাড়ছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের ন্যূনতম জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং গার্মেন্টস ও নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৪৫টি রাষ্ট্রীয় কারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আধুনিকায়নের মাধ্যমে চালু করা, সব বন্ধ কারখানা চালু ও শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ, স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন ও ৩০ হাজার টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, সব সেক্টরে মজুরি বোর্ড গঠন এবং জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য রেশন, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’ এবং চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়।
শ্রমিক হত্যার বিচার, ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত, বকেয়া বেতন ও আইনানুগ পাওনা পরিশোধ, সমকাজে সমমজুরি ও পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করার দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে ছয় মাস স্ব-বেতনে মাতৃত্বকালীন ছুটি আইন করে চালুর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা লাল পতাকা নিয়ে মিছিল করেন।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন