ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম রেঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৩৪৮


চট্টগ্রাম রেঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৩৪৮

চট্টগ্রাম, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযানে ৩ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩২৭ কেজি ৭০৪ গ্রাম গাঁজা, ৪১ লিটার ২৫ মিলিলিটার মদ, দুই বোতল স্কাফ সিরাপ এবং চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী আজ এ তথ্য জানান। 

আরও পড়ুন: শিল্পবন্দরের চাপে সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বিপর্যস্ত

তিনি জানান, বুধবার সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পরিচালিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় ৩৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে মাদক মামলায় ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৯ জন মাদক ব্যবসায়ী, ৮ জন মাদক বহনকারী এবং ৪৭ জন মাদকসেবী।

এছাড়া নিয়মিত মামলায় ৮৬ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৫ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পাঁচজন, পরোয়ানামূলে ১৩০ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিআইজি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৮ হাজার ৬০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। অভিযানে মোট ৩৩টি মাদক মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গার ফলিয়া বাজারে আগুনের লেলিহান শিখায় ছাই ৮ পাটের গুদাম, ক্ষতি ২ কোটি টাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে জামালপুরে আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৭ এম


তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে জামালপুরে আলোচনা সভা

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে জামালপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

বিএনপি, যুবদলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগিতা সংগঠনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামালপুর শহরের সিংহজানী রোড এলাকায় কারামুক্তি দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

বিএনপি নেতা সৈয়দ শওকত জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ও জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হক, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা খান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইকরামুল হক মানিক, ছাত্রদল নেতা মো. শফিকুল ইসলাম শফিক প্রমুখ। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূরুঙ্গামারীতে খ্রিস্টানদের প্রতারণা-হুমকির অভিযোগ, আলেমদের সহায়তায় ইসলামে ফিরলেন দেলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২০ এম


ভূরুঙ্গামারীতে খ্রিস্টানদের প্রতারণা-হুমকির অভিযোগ, আলেমদের সহায়তায় ইসলামে ফিরলেন দেলু

 

 

 

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রতারণা, ভুল ও ভ্রান্তিকর পরামর্শ এবং টাকা-পয়সা ও জমি-জমার লোভে মুসলিম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর পুনরায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন দেলোয়ার হোসেন দেলু। ইসলাম ধর্মে ফিরে আসার পর স্থানীয় একটি খ্রিস্টান চক্রের হুমকি ও মানসিক-শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।দেলোয়ার হোসেন দেলু ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা দলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক দিন আগে স্থানীয় কিছু খ্রিস্টান ব্যক্তির ভুল ও ভ্রান্তিকর পরামর্শ এবং টাকা-পয়সার লোভে পড়ে তিনি মুসলিম ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হন।পরবর্তীতে স্থানীয় আলেমদের কাছ থেকে ইসলামের দাওয়াত পেয়ে নিজের ভুল বুঝতে পারেন দেলু। এরপর তিনি পুনরায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।দেলু খ্রিস্টান ধর্ম থেকে পুনরায় মুসলিম হওয়ায় স্থানীয় একটি খ্রিস্টান চক্র তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তাকে খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার, সভা ও ধর্মীয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় আলেমদের তথ্য বা খবরদাতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ সন্দেহের জেরে ওই চক্রের সদস্যরা তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীদের একটি অংশ মনে করেন, দেলোয়ার হোসেন দেলু খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার, সভা ও ধর্ম পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় আলেমদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। এ কারণে চক্রটির সদস্যরা গোপনে তার ওপর নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, “আমি কোনো আলেমকে তাদের কোনো বিষয় নিয়ে কখনো কিছু বলিনি বা কাউকে কোনো তথ্য দেইনি।”দেলুর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় আলেমরা দ্রুত তাকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার একটি মসজিদে বসেন। এ সময় তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে দেলুর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাওঃ খাদেমুল ইসলাম, মাওঃ নায়েব আলী, মাওঃ জহুরুল ইসলাম, মাওঃ জালাল সাহেব, মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী, মুফতি সাদ বিন নিজাম, মুফতি মুতিউর রহমান, মুফতি আল আমিন, হাফেজ আতিকুর রহমান, মাওঃ আবু সুফিয়ান, মাওঃ এনাম বিন আযহার ও মাওঃ রহমতুল্লাহসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় আলেমরা এ সময় অভিযোগ করে বলেন, কিছু খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী সহজ-সরল মানুষকে টাকা-পয়সা ও জমি-জমার লোভ দেখিয়ে ভুল ও ভ্রান্তিকর বুঝ-পরামর্শ দিয়ে ইসলাম ধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করছেন। তারা এর প্রতিবাদ জানান এবং এ ধরনের চক্রের ফাঁদে কেউ যেন পা না দেন, সে জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।তবে দেলোয়ার হোসেন দেলুর ওপর নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত খ্রিস্টান ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেবাচিমে ফিরছে সুশৃঙ্খল পরিবেশ: আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২২ এম


শেবাচিমে ফিরছে সুশৃঙ্খল পরিবেশ: আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগ

একসময় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ত চা, পান, বিড়ি-সিগারেটসহ নানা রকম অস্থায়ী দোকানপাট। পুরো চত্বরের অগোছালো পরিবেশ দেখে সাধারণ মানুষের কাছে এটিকে হাসপাতাল না হয়ে কোনো এক ব্যস্ত বাজার বলেই মনে হতো। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই চেনা দৃশ্য এখন বদলাতে শুরু করেছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পুরোপুরি রোগীবান্ধব করতে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত নানা পদক্ষেপ।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর।

পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, প্রধান চলাচলের পথ এবং সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সামগ্রিক পরিবেশ আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমান পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ সুসংহত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ইতিমধ্যে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, বিশৃঙ্খলা দূরীকরণ, নির্ধারিত স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিশ্চিতকরণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শুধু দৃশ্যমান রূপান্তরই নয়, রোগীদের অভ্যন্তরীণ সেবার মান বাড়াতেও গৃহীত হয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করে ল্যাবরেটরির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পুনরায় সচল করা হয়েছে। পাশাপাশি বহির্বিভাগে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে নান্দনিক ফোয়ারা স্থাপন এবং কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষরোপণের ফলে ক্যাম্পাসের চেহারায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

পরিদর্শনকালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা কেবল প্রশাসনের একার কাজ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রোগীরা যেন কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়া একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন, সেটিকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন সংস্কারমুখী কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। সচেতন মহলের মতে, এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও তদারকি ধারাবাহিক রূপ পেলে শেবাচিম হাসপাতাল শুধু দক্ষিণাঞ্চলের ভরসাস্থলই নয়, বরং একটি আদর্শ ও মানসম্মত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতির কারণে ভুগছে চট্টগ্রাম: এরশাদ উল্লাহ, এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৪ এম


১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতির কারণে ভুগছে চট্টগ্রাম: এরশাদ উল্লাহ, এমপি

চট্টগ্রাম, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস সংকট শিগগিরই  কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ইরান-মার্কিন যুদ্ধের কারণে আমদানিকৃত এলএনজির (লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস) অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি হয়ে আসতে পারছে না। এরই মধ্যে মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহে।’

তিনি আজ বিকেলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট ও উত্তরণের উপায়’ নিয়ে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় এরশাদ উল্লাহ, এমপি বলেন, বিগত ১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতির কারণে দেশের গ্যাস সরবরাহ আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতি ঘনফুট মাত্র ১৩ ডলারে কেনা যেত, এখন তার দর গিয়ে ঠেকেছে ২৭ ডলারে। টাকার হিসেবে সরকারের প্রতি ঘনফুট গ্যাস আমদানিতে ব্যয় হয় ১২১ টাকা অথচ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে প্রতি ঘনফুট ২৩ টাকায়। প্রতি ঘনফুটে প্রায় ১০০ টাকা ভর্তুকি দিয়েও সরকার জনগণকে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর ব্যয় চাপ বাড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জ্বালানি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, চট্টগ্রাম ঘিরে আরও এলএনজি টার্মিনাল গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে গেলে শিগগিরই  চলমান সংকট কেটে যেতে পারে। 

চট্টগ্রামবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংকট সাময়িক। সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।’

সভায় কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি আমদানির মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জাতীয় পর্যায়েই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে ৯ থেকে ১০টি এলএনজি কার্গো প্রয়োজন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে গত মাসে এসেছে ৬টি জাহাজ। চলতি মাসে পেট্রোবাংলা থেকে কেজিডিসিএলকে প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রায় ২৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ চট্টগ্রামে মোট চাহিদা প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রতিদিনই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। 

কেজিডিসিএল এমডি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি করা হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে এসব কার্গো সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩টি এলএনজি কার্গো বাতিল হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
আলোচনায় চট্টগ্রামে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের আগের পরিস্থিতিও উঠে আসে। 

কেজিডিসিএল এমডি জানান, আগে সিলেট, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমেছে। বিপরীতে শিল্প, আবাসিক ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। 

দেশীয় উৎপাদন চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় ঘাটতি পূরণে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ উল্লাহ, এমপি বলেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকটা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো। জাতীয় পর্যায়ে যত গ্যাস পাওয়া যায়, সেখান থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। গত ১৫ বছরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সমুদ্রসীমা বিজয়ের পরও বঙ্গোপসাগরে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও অফশোর ড্রিলিং হয়নি। ফলে দেশের নিজস্ব গ্যাসের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। বিগত সরকারের ভুল জ্বালানি নীতির ফলে আজ দেশের জনগণকে এমন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান কেজিডিসিএল এমডি। তিনি বলেন, দেশে মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি কূপ ইতোমধ্যে খনন করা হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট  গ্যাস যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

নতুন গ্যাসের সন্ধানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এলাকায় টু-ডি সিসমিক সার্ভে এবং প্রায় ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভের কাজ চলছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নেগোশিয়েশনের কাজ চলছে।

টার্মিনালটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট  গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্যাসের সুষ্ঠু বিতরণ, সিস্টেম লস কমানো এবং বকেয়া আদায়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কেজিডিসিএল এমডি প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন। 

তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত গ্যাস সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা, সিস্টেম লস সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বকেয়া আদায় করা কেজিডিসিএলের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে ১৬টি ভিজিল্যান্স টিম ও পাঁচটি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও নজরদারি করছে। এর ফলে বর্তমানে কেজিডিসিএলের সিস্টেম লস ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এটি আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

মতবিনিময় সভায় কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) রইস উদ্দিন আহমেদ, উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং) অনুপম দত্ত, ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক কাউন্সিলর মো. নাজিম উদ্দিনসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%