প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একসময় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ত চা, পান, বিড়ি-সিগারেটসহ নানা রকম অস্থায়ী দোকানপাট। পুরো চত্বরের অগোছালো পরিবেশ দেখে সাধারণ মানুষের কাছে এটিকে হাসপাতাল না হয়ে কোনো এক ব্যস্ত বাজার বলেই মনে হতো। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই চেনা দৃশ্য এখন বদলাতে শুরু করেছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পুরোপুরি রোগীবান্ধব করতে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত নানা পদক্ষেপ।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, প্রধান চলাচলের পথ এবং সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সামগ্রিক পরিবেশ আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমান পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ সুসংহত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ইতিমধ্যে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, বিশৃঙ্খলা দূরীকরণ, নির্ধারিত স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিশ্চিতকরণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শুধু দৃশ্যমান রূপান্তরই নয়, রোগীদের অভ্যন্তরীণ সেবার মান বাড়াতেও গৃহীত হয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করে ল্যাবরেটরির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পুনরায় সচল করা হয়েছে। পাশাপাশি বহির্বিভাগে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে নান্দনিক ফোয়ারা স্থাপন এবং কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষরোপণের ফলে ক্যাম্পাসের চেহারায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
পরিদর্শনকালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা কেবল প্রশাসনের একার কাজ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রোগীরা যেন কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়া একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন, সেটিকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন সংস্কারমুখী কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। সচেতন মহলের মতে, এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও তদারকি ধারাবাহিক রূপ পেলে শেবাচিম হাসপাতাল শুধু দক্ষিণাঞ্চলের ভরসাস্থলই নয়, বরং একটি আদর্শ ও মানসম্মত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন