ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিডনি রোগে আক্রান্ত সজিব মিয়া বাঁচতে চান, সাহায্যের আবেদন


কিডনি রোগে আক্রান্ত সজিব মিয়া বাঁচতে চান, সাহায্যের আবেদন

"আমার ছোট্ট মেয়েটির জন্য আমি পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চাই। আমার অবর্তমানে সে এতিম হয়ে যাবে। নিষ্পাপ মেয়েটির মুখের দিকে তাকালেই মনে হয়, আমাকে বাঁচতে হবে, কিন্তু উপায়ই বা কী? বাঁচতে গেলে যে চিকিৎসার জন্য অনেক ব্যয় করতে হবে, যা আমার সামর্থ্যের বাইরে।"

দুরারোগ্য কিডনি রোগে আক্রান্ত মো. সজিব মিয়া (২৮) এই কথাগুলো দুর্বল কন্ঠে ধীরে ধীরে উচ্চারণ করছিলেন। যদি অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়, তাহলে তিনি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। তার নিষ্পাপ কন্যাসন্তানের বেঁচে থাকার স্বপ্ন পূর্ণ হবে এবং তিনি তার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবেন।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার কৃষক মো. দেলোয়ার হোসেন ও গৃহিণী মোছা. মেহেনা বেগমের চার ছেলের মধ্যে সজিব মিয়া ছোট ছেলে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ক্রণিক কিডনি ডিজিজের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। বর্তমানে তার দুই কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন; কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ মেটাতে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারের পক্ষে প্রতিস্থাপনের খরচ জোগাড় করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, সজিবের ডান কিডনি ১৭.১ শতাংশ এবং বাম কিডনি ১১.৬ শতাংশ কার্যক্ষম, যা মোট ২৮.৭ শতাংশ। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে খরচ প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা এবং ডোনার না পাওয়া গেলে খরচ হতে পারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

সজিবের ৭৫ বছর বয়সি বাবা আগে কৃষিকাজ করতেন, কিন্তু বয়সের কারণে এখন আর নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। স্থানীয় একটি মসজিদে খাদেমের দায়িত্ব পালন করে যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তিনি ছেলেকে নিজের একটি কিডনি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তাকে ডোনার হিসেবে উপযুক্ত মনে করেননি।

সজিব জানান, ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কিডনি ক্রিয়েটিনিন ১৫ ধরা পড়ে। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং দুইবার ভারতের চেন্নাই অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসার জন্য তার দরিদ্র বাবা-মা তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

অসুস্থ হওয়ার আগে গাজীপুর ও ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সজিব মিয়া। নিজের আয়ে বাবা-মায়ের সংসারেও সহযোগিতা করতেন তিনি। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ায় স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সের সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

আড়াই বছর বয়সের ফুটফুটে সোনামণির ভবিষ্যতের কথা ভেবে পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চান সজিব মিয়া। এজন্য তিনি বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। যোগাযোগ মো. সজিব মিয়া ০১৯৯৮-৪৫০৪৭০ (নগদ ও বিকাশ)। সোনালী ব্যাংক, চিলমারী শাখার হিসাব নং-৫২০৪৩০১০২৪৩২২।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনবিআরের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত থেকে অব্যাহতি পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


এনবিআরের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত থেকে অব্যাহতি পেলেন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণে’ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এই দুই কর্মকর্তা হলেন- ঢাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর পরিদর্শক মো. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং মো. রুহুল আমিন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২২ জুন এনবিআরের পাঁচজন উপ কর কমিশনারের বদলির আদেশ গণমাধ্যমের (ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয় দুই কর পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন ও মো. আবদুল্লাহ-আল-মামুনের বিরুদ্ধে। রুহুল আমিন কর অঞ্চল-৬ এবং আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কর পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অসদাচরণের অভিযোগের কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।

পরে ঘটনার তদন্তের জন্য এনবিআরের প্রথম সচিব (কর নীতি) মো. জাফর ইমামকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। তিনি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘অকাট্যরূপে প্রমাণ হয়নি’ বলে প্রতিপন্ন হয়েছে।

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সার্বিক নথি পর্যালোচনা শেষে এনবিআর তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছে। একইসাথে, পূর্বে জারি করা তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


রাজশাহীতে সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে শালিস চলাকালীন সাংবাদিক জিয়াউল কবির (৪৮)কে মারধর, শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা ও পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দামকুড়া থানায় তিনি বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামির তালিকায় ফেরদৌস রহমান খোকন (৫৫), ইসমাইল হোসেন পিন্টু (৬০), এজাহারুল হক কাকন (৫৭), আজিজুর রহমান (৬০) ও শহিদুল ইসলাম (৩৫) অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩০৭, ৫০৬(২) ও ৩৭৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে গ্রাম আদালতে শালিস চলাকালীন ক্ষতিপূরণের বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা সাংবাদিক জিয়াউল কবিরকে গলা চেপে ধরে এবং ইট-পাথর দিয়ে ডান হাতের কব্জিতে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁর পকেট থেকে পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে উপস্থিত ইউপি সদস্য ও অন্যান্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দামকুড়া থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫৬ জন মাদকসহ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫৬ জন মাদকসহ গ্রেফতার

কুমিল্লায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ ৫৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে ইয়াবা ও বিয়ারও রয়েছে। রোববার রাতে জেলার সকল থানায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং সাজা প্রদান করা হয়। সোমবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সহায়তায় জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে ৪৯টি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এই অভিযানে ১৪৯৫ পিস ইয়াবা এবং ২৪ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১০ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৪৬ জন মাদকসেবীসহ মোট ৫৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে এবং বিচারিক আদালতে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ বিষয়ে জানান, যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য এবং নিরাপদ কুমিল্লা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নথি-তথ্যে মিলল বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয়

রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিয়ানমারের তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তদন্তে নেমে ওই তিন ব্যক্তির ফতেহাবাদ ইউনিয়নে স্থায়ী বসবাসের তথ্য না পাওয়ায় সাবেক ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তিনজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের পারিবারিক শিকড় কক্সবাজারে অবস্থিত।

জানা যায়, উপজেলা ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিয়ানমারের তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের সূত্র ধরে অভিযোগটি আরও জোরালো হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধনের খবর প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন তদন্তে নামলে ওই তিন ব্যক্তির ফতেহাবাদ ইউনিয়নে বসবাসের তথ্য না পাওয়ায় সাবেক ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

জন্মসনদে উল্লেখিত তিন ব্যক্তি হলেন- মুবিনা খাতুন, হাফিছা এবং সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ। অন্য একটি অভিযোগে জন্ম নিবন্ধন পাওয়া আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি, নূর মামিন, মাজেদকে রোহিঙ্গা দাবি করা হলেও অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তারা কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে দাবি করেন তাদের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা কেউই মিয়ানমারের নাগরিক নন বলে জানান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হওয়া গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সত্যতাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাছাড়া জন্মসনদের বিষয়ে জেলাপ্রশাসক বরাবর অভিযোগকারী শফিউল আলমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন গেলে মুবিনা খাতুনের মা নুরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, "আমার সাবেক স্বামী আবুল কাশেম অনেক বছর আগে মারা গেছেন। আমার মেয়ে মুবিনা খাতুনও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমরা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নই। আমাদের জন্ম কক্সবাজার সদরে। আমার বাবা-ভাই সবাই এ দেশের নাগরিক। আমার মেয়েও জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।"

জন্মনিবন্ধন পাওয়া সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার ছেলে আবুধাবিতে থাকে। জরুরি প্রয়োজনে ডিজিটাল জন্মসনদ প্রয়োজন হওয়ায় সে পরিচিত একজনের মাধ্যমে জন্মসনদ তৈরি করে। আমরা মিয়ানমারের নাগরিক নই। আমাদের পূর্বপুরুষ জন্মসূত্রে মহেশখালীতে বসবাস; আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।"

কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন কাজল বলেন, "হাফিছা, আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি আমার প্রতিবেশী। ওরা আমার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। চেয়ারম্যান না থাকায় এলাকায় সাধারণ নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকা থেকে নাগরিক সনদ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধান করছেন।"

ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "ডিজিটাল সেন্টারের সাবেক উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান রাজিব আমাকে জিম্মি করে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে কাজ করিয়ে নিত। আমি ছুটিতে থাকাকালীন রাজির নাগরিকদের সমস্যার কথা বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্মসনদ দেয়, যা পরবর্তীতে আমি জানতে পারি। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই এবং আইন অনুযায়ী তার শাস্তির দাবি করি।"

সবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, "২০২৪ সালের আগস্টে আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাই ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে। অথচ আলোচিত জন্মনিবন্ধনগুলো তৈরি হয়েছে ৪ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ আমি ইউজার এক্সেস পাওয়ার আগেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে। কারা, কিভাবে এবং কোন আইডি ব্যবহার করে এসব জন্মনিবন্ধন করেছে, তা আমার জানা নেই।"

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, "ইস্যু করা জন্মনিবন্ধ সনদ কোনো রোহিঙ্গাকে দেওয়া হয়েছে কিনা তা তদন্ত চলছে, তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%