০৫:১২ পি.এম
মিশর ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে এবং এখন তারা শেষ ৩২-তে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু মাঠে অর্জিত এই সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানকে ঘিরে ফুটবল ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করার পর মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। এর প্রতিক্রিয়ায়, হোসাম হাসান এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আল-সিসির অভিনন্দন বার্তা তার কাছে ‘বুকে ঝোলানো একটি পদকের’ মতো মনে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে মিশরের ক্রীড়াঙ্গনে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসান মিশরের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিত। তিনি খেলোয়াড়ী জীবনে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস তিনবার জিতেছেন। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেও তিনি বেশ কিছু সফলতা দেখিয়েছেন। তার কোচিংয়ের অধীনে মিশর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ২৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে অপরাজিত থেকে মূল পর্বের জন্য স্থান নিশ্চিত করেছে। এরপর বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আসরের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে এবং পরবর্তীতে নকআউট পর্বে স্থান নিশ্চিত করে।
আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হোসাম হাসানের অনেক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড ফুটবল এবং রাজনীতির মধ্যে সীমারেখা অস্পষ্ট করে দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি প্রায়ই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে রাষ্ট্রের নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়া প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের পরে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় মিশরের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর প্রেসিডেন্ট আল-সিসি বলেছিলেন, বিদেশি কোচের পরিবর্তে দেশীয় কোচদের প্রতি আস্থা রাখার প্রয়োজন। পরে ২০২৪ সালে পর্তুগিজ কোচ রুই ভিতোরিয়াকে সরিয়ে হোসাম হাসানকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেয় মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
বিশ্বকাপ চলার সময় হোসাম হাসান সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন, তার চুক্তির মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে। তবুও তিনি এখনও জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকেই দল পরিচালনা করে চলেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ট্রফির প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে মিশরের ক্রীড়ামন্ত্রী আশরাফ সোবহি সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের কাছে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফকে প্রকাশ্যে সমালোচনা না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশে যেমন দাঁড়ানো হয়, তেমনি জাতীয় দলের কোচিং স্টাফেরও পাশে থাকা উচিত।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী
বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পরেই হোসাম হাসানও মন্তব্য করেছেন, সাফল্য আসে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে এবং প্রেসিডেন্ট আল-সিসির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার হবে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নেতৃত্ব এমন দায়িত্ব পালন করছে, যা অন্য কারও পক্ষে করা সম্ভাব নয়।
প্রতিবেদনটি আরো বলেছে, ২০২৫ সালের জুনে হোসাম হাসান এবং তার যমজ ভাই, জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান ৩০ জুনের বিক্ষোভের বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিবৃতি দেন। সেখানেও তারা দিনটিকে ‘মর্যাদার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত এক দশকে মিশরের ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো যেমন স্পনসরশিপ, টিকিটিং ব্যবস্থা, সম্প্রচার, স্টেডিয়াম পরিচালনা এবং বিশ্বকাপ ফ্যান জোন রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় দল ও সমর্থকদের মধ্যে যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে।
আরও পড়ুন: সাদমানের ফিফটির পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন শান্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন