০৮:৪১ পি.এম
বাগেরহাট, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : আগামীকাল মঙ্গলবার সুন্দরবনের সব নদ-নদীতে মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এটি মাছের প্রজনন মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই খবরে বাগেরহাট এবং মোংলার নদী-খালপাড়ের জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
নিষেধাজ্ঞার সময় অলস পড়ে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলো মেরামত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। নৌকার তলায় আলকাতরা দেওয়ার কাজ চলছে, আবার কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন মেরামত করছেন। সুন্দরবনে মাছ আহরণের জন্য প্রস্তুতি নিতে তারা জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গোছানোর কাজ করছেন।
চলতি বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা এবং বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। একই সময়ে করমজল ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র ছাড়া অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল। তিন মাস কর্মহীন থাকার পর এখন জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুন: নড়াইল জেলা জাপার নবগঠিত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে প্রতিবাদ সভা
বাগেরহাটসহ মোংলার বিভিন্ন নদী ও খালের পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলেরা সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় পানিতে না নামানোর কারণে নৌকার বিভিন্ন অংশে মেরামতের প্রয়োজন হয়েছে। তাই নৌকা ঠিক করার পাশাপাশি জাল, দড়ি ও বরফ রাখার পাত্রসহ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন তারা।
জেলে মো. মতিন মোল্লা বলেন, "তিন মাস নদীতে মাছ ধরতে পারিনি। নৌকা পড়ে থাকায় বিভিন্ন জায়গায় মেরামত করতে হয়েছে। এখন নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছি, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ঠিক করছি। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনে যেতে পারলে আবার মাছ ধরে সংসার চালাতে পারব।"
অন্যদিকে, জেলে মো. মাসুদ শেখ জানান, "নিষেধাজ্ঞার সময় নৌকা ও জাল মেরামত করে রেখেছি। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সুন্দরবন খুলে দেওয়ায় আমরা খুশি। নিয়ম মেনে পাস-পারমিট নিয়ে নদীতে যেতে চাই।"
সুন্দরবন খুলে যাওয়ায় বনজীবীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস-পারমিট নিয়ে বনজ সম্পদ আহরণের জন্য তারা বনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, হারবাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, নীলকমলসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।
আরও পড়ুন: নাগেশ্বরীতে ১,১৭০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার
সুন্দরবন খুলে দেওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত পর্যটক মো. জুলফিকার আলী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন বন্ধ ছিল। ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার খবরে আমরা আনন্দিত। সুযোগ পেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবন ঘুরতে আসব।"
এদিকে, সুন্দরবন খুলে যাওয়ার আগেই নদীর পাড়ে জেলেদের নৌকা মেরামতের ব্যস্ততা যেন নতুন দিনের বার্তা দিচ্ছে। আগামীকাল থেকে নদীতে নামবে জেলেদের নৌকা, বনে ফিরবেন বনজীবীরা এবং সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসবেন পর্যটকরা। দীর্ঘ তিন মাসের নীরবতার পর আবারও নদীপথ ও সুন্দরবনজুড়ে ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য।
সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বাসসকে জানান, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে করমজল স্পটে প্রায় এক কিলোমিটার ফুটট্রেইল নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়া একটি ঝুলন্ত ব্রিজ ও একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুন্দরবন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে করমজলে নির্মাণ করা হয়েছে ইনফরমেশন সেন্টার।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন
তিনি বলেন, "তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ দিতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।"
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বাসসকে জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে বনজ সম্পদ আহরণের জন্য পাস-পারমিট নিয়ে বনজীবীরাও বনে প্রবেশ করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদ-নদী ও খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় করমজল পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়।
আরও পড়ুন: চুয়েট ভিসিকে না মানার ৬ কারণ দেখিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে স্মারকলিপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন