ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘বিকল্প উপায়ে’ পে স্কেল বাস্তবায়ন, মন্ত্রিসভায় উঠছে কবে?


‘বিকল্প উপায়ে’ পে স্কেল বাস্তবায়ন, মন্ত্রিসভায় উঠছে কবে?

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ একসঙ্গে জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে হিসাব-নিকাশ ও বিকল্প উপায়ে অর্থায়নের সম্ভাব্য পথ নিয়ে কাজ চলছে।

এদিকে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে মন্ত্রিসভায় পে স্কেলের প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন প্রদান করার পর, প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, অর্থমন্ত্রী নতুন পে স্কেল ও বড় উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

 

নতুন বেতন কাঠামোর অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "একসঙ্গে পুরো অর্থ দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।"

দুই ধাপে অর্থ প্রদান করার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং এখনো হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিপুল আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থায় জায়গা কমে গেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

 

কর আদায় বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অতীতে কর সংগ্রহে অদক্ষতা, সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতি ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।

তার দাবি, গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কর আদায়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। সরকারের অর্থায়ন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, "রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তারা আশাবাদী।" এনবিআরকে দুই ভাগ করার উদ্যোগসহ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

এসব উদ্যোগের ফলে সরকারের অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, "অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। কারণ সরকার নিয়মিত ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।"

এদিকে চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটি বহাল থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, "এটা নিয়ে কাজ করছি।"

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি ও অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে সরকারের হিসাব-নিকাশ শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে আরো স্পষ্টতা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারী-৪: এমপি পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনে মহিলা এমপির নাম না থাকায় ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


নীলফামারী-৪: এমপি পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনে মহিলা এমপির নাম না থাকায় ক্ষোভ

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে নতুন নির্মিত পরিদর্শনকক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে দুই সংসদ সদস্য (এমপি) প্রকাশ্যে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম এবং বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। নামফলকে নাম থাকা না-থাকা এবং প্রধান অতিথির মর্যাদা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে এই বাগ্‌যুদ্ধ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনে পরিদর্শনকক্ষ উদ্বোধনের জন্য সাঁটানো নামফলকে কেবল নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম।

এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে বিলকিস ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, "এখানে আমাকে কেন প্রধান অতিথি করা হয়নি? আর নামফলকেই বা কেন শুধু একজনের নাম থাকবে? এই পরিদর্শনকক্ষ কি শুধু আব্দুল মুনতাকিমের?"

জবাবে জামায়াত মনোনীত এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, "এই কক্ষ ৩৫০ জন জাতীয় সংসদ সদস্যের জন্যই উন্মুক্ত। তবে যেহেতু এলাকাটি আমার নির্বাচনী আসন, তাই নিয়ম অনুযায়ী নামফলকে আমার নামই থাকবে।" সংরক্ষিত আসনের এমপিদের নির্দিষ্ট কোনো একক নির্বাচনী এলাকা থাকে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "অধিকার দাবি করতে হলে সরকারি পরিপত্র মেনে করতে হবে। এভাবে দলবল নিয়ে এসে হট্টগোল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"

এ জবাবে আরও চটে যান বিলকিস ইসলাম। বিষয়টি সংসদে তোলা এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, "আমার দল সহজ-সরল হতে পারে, কিন্তু আমি ছাড় দেওয়ার পাত্রী নই। দেশের অন্য কোথায় কী নিয়ম চালু আছে তা আমার জানার বিষয় নয়; সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শনকক্ষে আমার যথাযথ স্থান ও অধিকার দিতে হবে।"

বাগ্‌বিতণ্ডার সময় ঘটনাস্থলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, এম এ পারভেজ লিটন এবং সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ মাজহারুল ইসলামসহ দুই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন বলেন, "উপজেলা পরিষদ ভবনের পরিদর্শনকক্ষের ফলকে স্থানীয় ও সংরক্ষিত—দুই সংসদ সদস্যেরই নাম থাকা উচিত ছিল। সরকারি পরিপত্রে যদি সংরক্ষিত নারী এমপির নাম রাখার নিয়ম না-ও থাকে, তবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে এভাবে অসম্মান করা প্রশাসনের ঠিক হয়নি।"

তবে প্রশাসনের আয়োজনের বিষয়টি অস্বীকার করে সৈয়দপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা জানান, "উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসন আয়োজন করেনি। সংসদ সদস্যরাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কক্ষটি উদ্বোধনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্বত্য অঞ্চলে মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার গড়ে তুলতে হবে : পার্বত্য মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ পি.এম


পার্বত্য অঞ্চলে মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার গড়ে তুলতে হবে : পার্বত্য মন্ত্রী

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : ভূমির গুণগত মান নির্ণয়ে পার্বত্য অঞ্চলে মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।

তিনি বলেন, পরিবেশ ঠিক রেখে মাটির অবস্থান বিবেচনা করে পরিবেশবান্ধব অর্থকরী ফসল, উন্নতমানের মাশরুম ও ভালো জাতের লটকন চাষের উদ্যোগ নিতে হবে। ভূমির গুণগত মান নির্ণয়ে পার্বত্য অঞ্চলে মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে ভেড়া ও মহিষ পালন করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে-এমন সব প্রকল্প গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি মাটি কিছু বিশেষ প্লান্টেশনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও নেপালের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশ জুমচাষের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমাদের দেশের কৃষিতেও এ ধরনের বিপ্লব ঘটাতে হবে।

কাজুবাদাম ও কফি চাষের উচ্চ ফলনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং অধিগ্রহণকালে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসন করতে হবে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রথাগত বিধি অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।

দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তামাক চাষ সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা পরিহার করতে হবে। এর পরিবর্তে কৃষকদের ইক্ষু, তুলা, কাজুবাদাম ও কফি চাষে উৎসাহিত করতে হবে।

এ ছাড়া দুর্গম এলাকায় পানির সংকট দূর করা, অর্গানিক ফল উৎপাদনে বাগান বৃদ্ধি, রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারণ এবং কোল্ড স্টোরেজ ও ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে পাড়াকেন্দ্রের মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক ব্যবস্থা ও সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী পুরস্কার গ্রহণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা ও ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব) শেখ ছালেহ আহাম্মদ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের প্রধান বাণিজ্য সহযোগী কারা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


ইরানের প্রধান বাণিজ্য সহযোগী কারা?

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের তরফ থেকে এই পদক্ষেপকে বলা হচ্ছে তেহরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার এক চূড়ান্ত প্রচেষ্টা বা ইকোনমিক ডি-ডে। নতুন এই মার্কিন কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বজায় রেখে তাদেরকে সহায়তার সুযোগ করে দেবে, তাদের ওপরও নেমে আসবে মারাত্মক নিষেধাজ্ঞা। এই পরিস্থিতির কারণে চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর পাশাপাশি তেহরানের আঞ্চলিক প্রধান বাণিজ্য সহযোগীরাও এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানের ঝুঁকিতে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ যখন একধরনের স্থবিরতায় রূপ নিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীগুলোতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে, ঠিক তখনই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই নজিরবিহীন ঘোষণা দিল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই বর্ধিত বিধিনিষেধ কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি খাত, সোনা, বিমান পরিবহন এবং শিপিং খাতের ওপরও ব্যাপকভাবে আরোপিত হবে। এ ছাড়াও ইরানের তেল বিক্রি থেকে আয়, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সাইবার অপারেশনে সহায়তা করার অভিযোগে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ষাটজন ব্যক্তি, একাধিক কোম্পানি ও বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ঘাঁটি রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়নের বিস্তারিত কৌশল এখনো কিছুটা অস্পষ্ট থাকলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি ইরানের প্রধান বাণিজ্য সহযোগীদের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর। চীনের সামগ্রিক অ-জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সম্পন্ন হয় ইরানের সঙ্গে। এর বাইরেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের বড় ক্রেতাই হলো বেইজিং। বিপুল পরিমাণ এই তেল আনুষ্ঠানিকভাবে হিসেব না দেখিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং আন্তর্জাতিক ডলার ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প উপায়ে এর লেনদেন সম্পন্ন হয়। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পর ওয়াশিংটন চীনা স্বাধীন তেল শোধনাগারের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে। যদিও বেইজিং শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং নিজেদের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তেহরানের আরেকটি বড় অর্থনৈতিক সহযোগী হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী দেশটি বহু বছর ধরেই ইরানের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আঞ্চলিক নিরাপত্তার অবনতি এবং মিসাইল হামলার ঘটনার জের ধরে আমিরাত ও ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্কে চরম ফাটল ধরেছে। ফলে আমিরাত ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে সমস্ত ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, দুবাই ভিত্তিক যে সমস্ত দীর্ঘদিনের ছায়া ব্যাংকিং এবং চোরাচালান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরান এতদিন বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবেশাধিকার পেত, সেগুলোকে পুরোপুরি বন্ধ করতে আরও কঠোর ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে।

এদিকে তুরস্ক, ইরাক ও ভারতের মতো দেশগুলোও এই নতুন সংকটে চরম চাপে পড়েছে। তুরস্ক দীর্ঘদিনের চুক্তির আওতায় ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে এবং বিনিময়ে নিজস্ব তৈরি পণ্য রপ্তানি করে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের গ্যাস আমদানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। একইভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাক তাদের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইরানের গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। যদিও যুদ্ধের প্রভাবে সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য কিছুটা থমকে গেছে, কিন্তু নতুন মার্কিন বিধিনিষেধ বাস্তবায়িত হলে ইরাক ও তুরস্ক উভয়ের জন্যই ইরানকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিল পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ শক্তি ভারতও এই উদ্ভূত পরিস্থিতির বাইরে নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কিছুটা কমে প্রধানত চাল, চা, চিনি ও ওষুধ রপ্তানিতে নেমে এসেছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারত নতুন করে ইরানের সাথে অপরিশোধিত তেলের আমদানি শুরু করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের পর ভারতের মতো প্রধান তেল শোধনকারী দেশগুলো এবং বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তিন দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাদার কূটনীতিক মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি নিউইয়র্ক, ভিয়েনা, ওয়াশিংটন ডিসি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার কূটনৈতিক কর্মজীবনে বহুপক্ষীয় কূটনীতি, জাতিসংঘের কার্যক্রম, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ নিয়োগের আগে তিনি ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%