প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে নতুন নির্মিত পরিদর্শনকক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে দুই সংসদ সদস্য (এমপি) প্রকাশ্যে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম এবং বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। নামফলকে নাম থাকা না-থাকা এবং প্রধান অতিথির মর্যাদা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে এই বাগ্যুদ্ধ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনে পরিদর্শনকক্ষ উদ্বোধনের জন্য সাঁটানো নামফলকে কেবল নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম।
এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে বিলকিস ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, "এখানে আমাকে কেন প্রধান অতিথি করা হয়নি? আর নামফলকেই বা কেন শুধু একজনের নাম থাকবে? এই পরিদর্শনকক্ষ কি শুধু আব্দুল মুনতাকিমের?"
জবাবে জামায়াত মনোনীত এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, "এই কক্ষ ৩৫০ জন জাতীয় সংসদ সদস্যের জন্যই উন্মুক্ত। তবে যেহেতু এলাকাটি আমার নির্বাচনী আসন, তাই নিয়ম অনুযায়ী নামফলকে আমার নামই থাকবে।" সংরক্ষিত আসনের এমপিদের নির্দিষ্ট কোনো একক নির্বাচনী এলাকা থাকে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "অধিকার দাবি করতে হলে সরকারি পরিপত্র মেনে করতে হবে। এভাবে দলবল নিয়ে এসে হট্টগোল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
এ জবাবে আরও চটে যান বিলকিস ইসলাম। বিষয়টি সংসদে তোলা এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, "আমার দল সহজ-সরল হতে পারে, কিন্তু আমি ছাড় দেওয়ার পাত্রী নই। দেশের অন্য কোথায় কী নিয়ম চালু আছে তা আমার জানার বিষয় নয়; সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শনকক্ষে আমার যথাযথ স্থান ও অধিকার দিতে হবে।"
বাগ্বিতণ্ডার সময় ঘটনাস্থলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, এম এ পারভেজ লিটন এবং সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ মাজহারুল ইসলামসহ দুই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন বলেন, "উপজেলা পরিষদ ভবনের পরিদর্শনকক্ষের ফলকে স্থানীয় ও সংরক্ষিত—দুই সংসদ সদস্যেরই নাম থাকা উচিত ছিল। সরকারি পরিপত্রে যদি সংরক্ষিত নারী এমপির নাম রাখার নিয়ম না-ও থাকে, তবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে এভাবে অসম্মান করা প্রশাসনের ঠিক হয়নি।"
তবে প্রশাসনের আয়োজনের বিষয়টি অস্বীকার করে সৈয়দপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকমিলা জানান, "উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসন আয়োজন করেনি। সংসদ সদস্যরাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কক্ষটি উদ্বোধনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন