বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৪১ পি.এম
দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি একটি দেশব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ নামে এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন নিজের শহর ছত্রপতি সম্ভবনাগরে।
মানুষের সমস্যাগুলো বোঝার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচিটি দেওয়া হয়েছে বলে অভিজিৎ দীপ জানান।
চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায়, তখনকার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর সেই আন্দোলন শেষ হয়।
বৃহস্পতিবার, দীপকের সঙ্গে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা ভবিষ্যৎ কৌশল তুলে ধরেন।
দীপকে বলেন, তাদের প্রচারে শিক্ষা অগ্রাধিকার পাবে। তাঁর দাবী, স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের বেতন বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে এবং ক্ষোভ বাড়ছে।
‘সকালে মানুষ এক দলকে ভোট দেয়, সন্ধ্যায় সেই জনপ্রতিনিধি অন্য দলে চলে যান। কোথাও ভোট একটি সরকারের পক্ষে পড়ে, কিন্তু পরে অন্য সরকার গঠন হয়। তা না হলে ইডি-সিবিআই ব্যবহার করে দল ভাঙা হয়। এভাবে চলতে থাকলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’, বলেন তিনি।
দীপকে নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার জবাবদিহি বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আগে ভোটার সরকার বেছে নিত, এখন সরকার ঠিক করছে কে ভোট দেবে। সাধারণ মানুষের মামলার শুনানি বিলম্বিত হলেও প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে দ্রুত, এমনকি মধ্যরাতে শুনানি হয়।’
ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, দলটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে। একটি প্রতিনিধি দল রাঁচিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করবে এবং পরে দলের শীর্ষ নেতারাও সেখানে যাবেন।
দেশব্যাপী প্রচার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীপকে বলেন, কোনো সংগঠনের নিজস্ব এজেন্ডা থাকা জরুরি, তবে জনগণের মতামতও জানতে হবে। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষই শিক্ষা ইস্যুর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থা নিয়েও কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই তিনি মনে করেন আরও বিস্তৃত জনপরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, 'শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।' তিনি মন্তব্য করেন যে, পরিকল্পিত প্রস্তুতি ছাড়া এ ধরনের ঘোষণা নেতাকর্মীদের জন্য আইনি এবং রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করছে।
বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জে জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, 'শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জনকে ঘিরে নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।' তিনি বলেন, 'যদি পরিকল্পিতভাবে এমন ঘোষণা আসে তাহলে দলটির নেতাকর্মীরা উৎসাহিত হতে পারতেন। কিন্তু এখন এ ধরনের ঘোষণার কারণে অনেকেই জেলে যাচ্ছেন এবং আইনি জটিলতায় পড়ছেন।'
ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তিনি দেশের যে ক্ষতি করেছেন, তার বিচার হলেও তা কম হবে।' তিনি আরও বলেন, 'তবে জুলাই দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ড. ইউনূসকে যে সম্মান দেখিয়েছেন, সেটিকে তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।'
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, 'জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সংকটের মধ্যেও বর্তমান সরকার অধ্যাপক ইউনূসের সময়ের তুলনায় ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করছে।'
জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, 'জামায়াতে ইসলামী একটি দুর্ভাগা দল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত তারা ব্রিটিশদের পক্ষে ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও স্বাধীনতার পক্ষে না দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। এ কারণেই তাদের অধঃপতন হয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর-কাওয়ালীপাড়া আঞ্চলিক সড়কের মধুডাঙ্গা এলাকায় একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী পশু চিকিৎসক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. বজলুর রশীদ। তার বাড়ি ধামরাই উপজেলার কাঁঠালিয়া এলাকায়। তিনি পেশায় একজন পশু চিকিৎসক (ভেটেরিনারি সেবাদাতা) ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি মোটরসাইকেলে কালামপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন মধুডাঙ্গা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একটি শিশুকে নিয়ে একজন ব্যক্তি রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করছিল। শিশুটিকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল আরোহী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সে অবস্থায় ট্রাক তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটে। একই ঘটনায় ট্রাকের হেলপারও আহত হন এবং তাকে পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মাতব্বর এ বিষয়ে জানাচ্ছেন, হাইওয়ে সড়কের দুর্ঘটনাগুলোর তদন্ত আমরা করি। এই ঘটনাটি বাইপাস সড়কের দুর্ঘটনা। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
কাওয়ালীপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. ইলিয়াছ জানান, কালামপুর-কাওয়ালীপাড়া সড়কের মধুডাঙ্গা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কেউ অবহিত করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নকলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ১৭ মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে, যার নাম মুজাহিদুল ইসলাম। ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা সহ আরও পাঁচজন আহত হন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নকলা ইউনিয়নের ধনাকুশা এলাকায়।
নিহত মুজাহিদুল ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম ও নিলুফা ইয়াসমিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভটভটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময় মায়ের কোলে থাকা শিশু মুজাহিদুল ইসলাম ছিটকে পড়ে সড়কে আঘাত প্রাপ্ত হয়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার মঞ্জুরুল ইসলাম শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সিএনজিতে থাকা নাহিদ হাসান (১৫) এবং জাহানারা বেগম (৫৫) গুরুতর আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নিহত শিশুর মা নিলুফা ইয়াসমিন (২৫), বাবা মনিরুল ইসলাম (৩০) এবং অপর একজন ফুরকান হামিদ (৩০) আহত হয়েছেন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার বোনের নাতি দেখতে গিয়ে ফেরার পথে ধনাকুশা এলাকায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে আমার ছেলেটা মারা গেছে। দুই মাইয়্যার পর আল্লাহর রহমতে এক ছেলে দিয়েছিল আমাকে। আজ আমার একমাত্র বুকের ধন মুজাহিদ নেই। আমি কি বিচার পামু?'
নকলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি ও ভটভটি জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে।
এদিকে, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ধনাকুশা বাজারের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুকুরে ডুবে তানজিনা আক্তার মীম (১৭) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে হাটহাজারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তানজিনা আক্তার হচ্ছেন ওই গ্রামের প্রবাসী আবু তাহেরের কন্যা।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, তানজিনা দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পাশে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। অসাবধানতাবশত তিনি পুকুরের পানিতে পড়ে যান। অনেক সময় তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পরে পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ তানজিনাকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান, সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, তানজিনা মৃগীরোগে ভুগছিলেন। দুর্ঘটনার দিন পুকুরে পড়ে গিয়ে তিনি আর উঠতে পারেননি।
রাতের সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ