বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৪ পি.এম
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্দেশ্যে আজ জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর পরিবর্তে আসছে।
আজ সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এই বিলের মাধ্যমে র্যাব গঠনের আইনি বিধানগুলো বাতিল করে পুলিশের অধীনে এসআরবি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটির উত্থাপনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের উক্তির জবাবে বলেন, “র্যাব নামে কোনো সংস্থা থাকবে না-এটি ছিল সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।” তিনি আরও বলেন, পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার বিষয়টি পুরো পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করার কারণ হতে পারে না।”
তিনি জানান, প্রস্তাবিত এসআরবিতে র্যাবের তুলনায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী বিধান থাকবে। বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের সংসদীয় কমিটিতে বিলটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার এবং সেখানে নিজেদের সুপারিশ তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বিলে র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং রেজিস্টার ও নথিপত্র এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, অন্যান্য বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে এটি গঠন করা হবে।
এই ইউনিটের জন্য বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত পতাকা, প্রতীক ও নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম থাকবে। এর মহাপরিচালক একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা হবেন, যার পদমর্যাদা ‘অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক’-এর নিচে হবে।
এসআরবির ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত এবং তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও মালামাল বা আলামত জব্দের ক্ষমতা থাকবে। এছাড়া তাদের নিজস্ব মালখানা বা মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই বিলে একাধিক সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য এই নতুন ইউনিটের প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত আইনে এই বিশেষায়িত ইউনিটের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন এবং এটি যাচাই-বাছাই করে ৪ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।
এরই মধ্যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন; যার লক্ষ্য হলো বিদ্যমান অধ্যাদেশটি বাতিল করে এই বাহিনীর জন্য একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রবর্তন করা।
প্রস্তাবিত আইনে পুলিশের অধীনে এপিবিএন ইউনিটগুলোর (যেমন—স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, হিল ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়ন এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যেকোনো ব্যাটালিয়ন) বিধান রাখা হয়েছে।
এই বিলের মাধ্যমে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ ও অন্যান্য বিদ্যমান আইনের সাপেক্ষে তাদের কোনো প্রাঙ্গণে প্রবেশ, তল্লাশি চালানো, সম্পত্তি জব্দ করা এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে।
এতে এপিবিএন সদস্যদের জন্য শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত কোনো সংগঠনের সদস্য হওয়া কিংবা কোনো সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হওয়া তাদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে; তবে পেশাগত উন্নয়ন বা এপিবিএন-এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি থাকবে।
এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথিপত্র প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশে সহায়তা করা থেকেও এপিবিএন সদস্যদের বিরত থাকতে হবে।
যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এই বিলটিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী রোববার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এই মুলতবি ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে একটি ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে কুলসুম বেগম(৮৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার(৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার পিঙ্গলিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কুলসুম বেগম ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের উথলী গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার স্ত্রী ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে বসবাস করতেন এবং নিয়মিত বিকেলে রেললাইনে হাঁটতে যেতেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলেও কুলসুম বেগম রেললাইনে হাঁটতে বের হন। এ সময় ভাটিয়াপাড়া থেকে রাজবাড়ীগামী ‘ভাটিয়াপাড়া কমিউটার’ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা রেল লাইনের ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভাটিয়াপাড়া থেকে রাজবাড়ীগামী ভাটিয়াপাড়া কমিউটার ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
ওসি আরও জানান, বিষয়টি রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এরপর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ হাতিয়া উপজেলাধীন চর আতাউর সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৪০ কেজি ওজনের একটি জবাইকৃত হরিণ উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় কোস্টগার্ড স্টেশন হাতিয়া এ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অসাধু মাংস ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জবাইকৃত হরিণটি পরবর্তীতে হাতিয়া বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. মো. সালমান বিন শওকত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অসলো চুক্তির ৩৩ বছর: ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থেকে দখলদারত্বের বাস্তবতা১৯৯৩ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেজ (মধ্যে) ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে ঐতিহাসিক ইসরাইল-পিএলও অসলো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ছবি: সংগৃহীত।ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মধ্যে ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। চুক্তির আওতায়, পাঁচ বছরের মধ্যেই সম্পূর্ণ কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা দুই দশকেরও বেশি সময় আগে নির্ধারিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের মে মাসের মধ্যে জেরুজালেম, ফিলিস্তিনি শরণার্থী, ইসরাইলি বসতি এবং সীমান্তসহ স্থায়ী মর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু চুক্তির ৩৩ বছর পরেও একটি পূর্ণাঙ্গ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বরং সমালোচকদের মতে, অসলো চুক্তির সময়ের তুলনায় বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি দখলদারত্ব আরও রক্তক্ষয়ী, বিস্তৃত এবং নির্মম হয়ে উঠেছে।
অসলো চুক্তির মূল নথি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে ‘রাষ্ট্র’ শব্দটি একবারও ব্যবহার করা হয়নি। বরং ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘অন্তর্বর্তীকালীন স্বশাসন’-এর মতো পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে স্বাধীন এবং সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট নিশ্চয়তার পরিবর্তে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
এই কাঠামোর মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ)। চুক্তির শুরুতে এটিকে স্বাধীনতার দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার একটি সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরবর্তীতে এর ক্ষমতা ক্রমাগত সংকুচিত হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, একসময় পিএ এমন একটি প্রশাসনে পরিণত হয়েছে, যা ইসরাইলি দখলদারত্বের অবসান ঘটানোর পরিবর্তে দখলদার বাহিনীর নিরাপত্তা কাঠামোর সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ দমনেও পিএর ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পিএর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারী আটক এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও রয়েছে। ২০২১ সালের জুনে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী নিজার বানাতের মৃত্যুর ঘটনাকে পিএর কর্তৃত্ববাদী আচরণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রামাল্লাহভিত্তিক পিএর নেতৃত্ব এখনো মাহমুদ আব্বাসের হাতে রয়েছে।
অসলো চুক্তির প্রতিশ্রুতি এবং বর্তমান গাজার বাস্তবতার মধ্যে ব্যাপক বৈপরীত্য দেখা যায়। ১৯৯৪ সালের কায়রো চুক্তির মাধ্যমে গাজা এবং জেরিকো ছিল পিএর নিয়ন্ত্রণে আসা প্রথম অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি এতটাই মর্মান্তিক যে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। প্রায় দুই দশক ধরে চলা একটি পঙ্গুকারী ইসরায়েলি অবরোধ এই ছিটমহলটিকে একটি খোলা আকাশের কারাগারে পরিণত করেছে, এবং দখলদার বাহিনী তাদের অভিযানকে লাগামহীন নৃশংসতায় রূপ দিয়েছে।
এই সবকিছু ঘটছে ঠিক সেই গাজাতেই, যেটিকে অসলো চুক্তি ফিলিস্তিনের জন্য বিশ্বের প্রবেশদ্বার হিসেবে কল্পনা করেছিল—যা ছিল শুধু স্বাধীনতারই নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র গঠনেরও একটি নীলনকশা। কিন্তু তার পরিবর্তে, সেই প্রতিশ্রুতিগুলো উবে গেছে। আজ, ফিলিস্তিনিদের জন্য অসলো চুক্তি একটি তিক্ত স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়, তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে কষ্ট সহ্য করুক, বিধ্বস্ত গাজায় টিকে থাকুক, কিংবা বিশ্বব্যাপী প্রবাস জীবনের কঠোর বাস্তবতায় বাস করুক।
তেত্রিশ বছর পরেও, ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নিয়ে আন্তর্জাতিক মৌখিক সমর্থন শান্তির পথ হিসেবে কাজ না করে, বরং একটি সুবিধাজনক কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র অদূর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হবে—এই অলীক ধারণাটি বজায় রেখে বিশ্বশক্তিগুলো কার্যকরভাবে ইসরায়েলকে পশ্চিম তীরের সহিংস ভূখণ্ড দখল চূড়ান্ত করতে এবং গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার জন্য সময় কিনে দিয়েছে। যদিও গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ ফিলিস্তিনের পক্ষে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক গতি সঞ্চার করেছে—যা নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য এবং স্লোভেনিয়ার মতো ইউরোপীয় দেশগুলোকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে প্ররোচিত করেছে—বাস্তবে সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই স্বীকৃতি প্রায় অর্থহীন।
রাজনৈতিকসংবাদ পড়ুন
অসলো চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যে একটি পর্যায়ক্রমিক শান্তি প্রক্রিয়া কল্পনা করা হলেও, তা ইসরায়েলি বর্ণবাদী নীতির চাপে পিষ্ট হয়ে অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বরে পর্যবসিত হয়েছে। এই সংঘাতের ইতিহাসে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করার বিষয়টি এতটা সুস্পষ্ট আর কখনও ছিল না, যার মূল চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিদিনের আগ্রাসী অভিযান।
রাষ্ট্র-সমর্থিত বসতি স্থাপনকারীদের এই সহিংসতাকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করেন উগ্র-ডাডানপন্থি মন্ত্রিসভার সদস্যরা—যারা নিজেরাও অবৈধ বসতি স্থাপনকারী—যেমন ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ, যারা প্রকাশ্যে পশ্চিম তীরকে সম্পূর্ণরূপে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান।
অসলো চুক্তিকে শুধু ‘ব্যর্থ শান্তি প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এটি আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা নির্মূল করতে এবং ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণের একটি স্থায়ী পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে সম্পূর্ণরূপে সফল হয়েছে, যা বিতর্কের মোড়কে একটি অবৈধ দখলদারিত্বের অবসানের ধারণা থেকে সরিয়ে নিছক ভূমি-বিরোধের দিকে নিয়ে গেছে।
প্রধান শক্তিগুলোকে, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে, অবশ্যই অসলো কাঠামোটিকে সরাসরি পুনর্মূল্যায়ন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্লিখন করতে হবে, যা এখন আর কোনো বৈধ সংঘাত নিষ্পত্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে না।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯৯৩ সালের অন্তঃসারশূন্য কাঠামোকে বর্জন করে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে: একটি একক, সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণবাদী দখলদারিত্ব, যাকে অন্তর্বর্তীকালীন অলীক কল্পনার মাধ্যমে সংস্কার করা যাবে না, বরং সরাসরি আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার মাধ্যমেই একে ভেঙে ফেলতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ