বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫২ পি.এম
অসলো চুক্তির ৩৩ বছর: ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থেকে দখলদারত্বের বাস্তবতা১৯৯৩ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেজ (মধ্যে) ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে ঐতিহাসিক ইসরাইল-পিএলও অসলো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ছবি: সংগৃহীত।ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মধ্যে ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। চুক্তির আওতায়, পাঁচ বছরের মধ্যেই সম্পূর্ণ কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা দুই দশকেরও বেশি সময় আগে নির্ধারিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের মে মাসের মধ্যে জেরুজালেম, ফিলিস্তিনি শরণার্থী, ইসরাইলি বসতি এবং সীমান্তসহ স্থায়ী মর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু চুক্তির ৩৩ বছর পরেও একটি পূর্ণাঙ্গ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বরং সমালোচকদের মতে, অসলো চুক্তির সময়ের তুলনায় বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি দখলদারত্ব আরও রক্তক্ষয়ী, বিস্তৃত এবং নির্মম হয়ে উঠেছে।
অসলো চুক্তির মূল নথি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে ‘রাষ্ট্র’ শব্দটি একবারও ব্যবহার করা হয়নি। বরং ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘অন্তর্বর্তীকালীন স্বশাসন’-এর মতো পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে স্বাধীন এবং সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট নিশ্চয়তার পরিবর্তে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
এই কাঠামোর মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ)। চুক্তির শুরুতে এটিকে স্বাধীনতার দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার একটি সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরবর্তীতে এর ক্ষমতা ক্রমাগত সংকুচিত হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, একসময় পিএ এমন একটি প্রশাসনে পরিণত হয়েছে, যা ইসরাইলি দখলদারত্বের অবসান ঘটানোর পরিবর্তে দখলদার বাহিনীর নিরাপত্তা কাঠামোর সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ দমনেও পিএর ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পিএর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারী আটক এবং সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও রয়েছে। ২০২১ সালের জুনে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী নিজার বানাতের মৃত্যুর ঘটনাকে পিএর কর্তৃত্ববাদী আচরণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রামাল্লাহভিত্তিক পিএর নেতৃত্ব এখনো মাহমুদ আব্বাসের হাতে রয়েছে।
অসলো চুক্তির প্রতিশ্রুতি এবং বর্তমান গাজার বাস্তবতার মধ্যে ব্যাপক বৈপরীত্য দেখা যায়। ১৯৯৪ সালের কায়রো চুক্তির মাধ্যমে গাজা এবং জেরিকো ছিল পিএর নিয়ন্ত্রণে আসা প্রথম অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি এতটাই মর্মান্তিক যে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। প্রায় দুই দশক ধরে চলা একটি পঙ্গুকারী ইসরায়েলি অবরোধ এই ছিটমহলটিকে একটি খোলা আকাশের কারাগারে পরিণত করেছে, এবং দখলদার বাহিনী তাদের অভিযানকে লাগামহীন নৃশংসতায় রূপ দিয়েছে।
এই সবকিছু ঘটছে ঠিক সেই গাজাতেই, যেটিকে অসলো চুক্তি ফিলিস্তিনের জন্য বিশ্বের প্রবেশদ্বার হিসেবে কল্পনা করেছিল—যা ছিল শুধু স্বাধীনতারই নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র গঠনেরও একটি নীলনকশা। কিন্তু তার পরিবর্তে, সেই প্রতিশ্রুতিগুলো উবে গেছে। আজ, ফিলিস্তিনিদের জন্য অসলো চুক্তি একটি তিক্ত স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়, তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে কষ্ট সহ্য করুক, বিধ্বস্ত গাজায় টিকে থাকুক, কিংবা বিশ্বব্যাপী প্রবাস জীবনের কঠোর বাস্তবতায় বাস করুক।
তেত্রিশ বছর পরেও, ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নিয়ে আন্তর্জাতিক মৌখিক সমর্থন শান্তির পথ হিসেবে কাজ না করে, বরং একটি সুবিধাজনক কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র অদূর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হবে—এই অলীক ধারণাটি বজায় রেখে বিশ্বশক্তিগুলো কার্যকরভাবে ইসরায়েলকে পশ্চিম তীরের সহিংস ভূখণ্ড দখল চূড়ান্ত করতে এবং গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার জন্য সময় কিনে দিয়েছে। যদিও গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ ফিলিস্তিনের পক্ষে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক গতি সঞ্চার করেছে—যা নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য এবং স্লোভেনিয়ার মতো ইউরোপীয় দেশগুলোকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে প্ররোচিত করেছে—বাস্তবে সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই স্বীকৃতি প্রায় অর্থহীন।
রাজনৈতিকসংবাদ পড়ুন
অসলো চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যে একটি পর্যায়ক্রমিক শান্তি প্রক্রিয়া কল্পনা করা হলেও, তা ইসরায়েলি বর্ণবাদী নীতির চাপে পিষ্ট হয়ে অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বরে পর্যবসিত হয়েছে। এই সংঘাতের ইতিহাসে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করার বিষয়টি এতটা সুস্পষ্ট আর কখনও ছিল না, যার মূল চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিদিনের আগ্রাসী অভিযান।
রাষ্ট্র-সমর্থিত বসতি স্থাপনকারীদের এই সহিংসতাকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করেন উগ্র-ডাডানপন্থি মন্ত্রিসভার সদস্যরা—যারা নিজেরাও অবৈধ বসতি স্থাপনকারী—যেমন ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ, যারা প্রকাশ্যে পশ্চিম তীরকে সম্পূর্ণরূপে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান।
অসলো চুক্তিকে শুধু ‘ব্যর্থ শান্তি প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এটি আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা নির্মূল করতে এবং ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণের একটি স্থায়ী পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে সম্পূর্ণরূপে সফল হয়েছে, যা বিতর্কের মোড়কে একটি অবৈধ দখলদারিত্বের অবসানের ধারণা থেকে সরিয়ে নিছক ভূমি-বিরোধের দিকে নিয়ে গেছে।
প্রধান শক্তিগুলোকে, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে, অবশ্যই অসলো কাঠামোটিকে সরাসরি পুনর্মূল্যায়ন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্লিখন করতে হবে, যা এখন আর কোনো বৈধ সংঘাত নিষ্পত্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে না।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯৯৩ সালের অন্তঃসারশূন্য কাঠামোকে বর্জন করে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে: একটি একক, সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণবাদী দখলদারিত্ব, যাকে অন্তর্বর্তীকালীন অলীক কল্পনার মাধ্যমে সংস্কার করা যাবে না, বরং সরাসরি আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার মাধ্যমেই একে ভেঙে ফেলতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দিনাজপুর-৪ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া।
আজ সংসদে চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা গৃহীত হয়।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬), এসএম ফয়সাল (হবিগঞ্জ-৪), মো. নাসির চৌধুরী (সুনামগঞ্জ-২), মো. আবদুল্লাহ (মুন্সীগঞ্জ-১) এবং রেজেকা সুলতানা (সংরক্ষিত নারী আসন-৩৬); বিরোধী দলের সদস্য মো. আফজাল হোসেন (জামায়াতে ইসলামী, কুষ্টিয়া-৪) ও হাফেজ মোহাম্মদ রাবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩); এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিম (সংরক্ষিত নারী আসন-৪৮)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের পর সংসদীয় নজরদারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই স্থায়ী কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
সংসদে মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে, যার মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি সংসদীয় বিষয় সম্পর্কিত কমিটি।
এখন পর্যন্ত ৫০টি কমিটির মধ্যে ২৬টি গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯টি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংসদে পাঠানো বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া, কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে থাকে এবং তাদের আওতাধীন বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করতে পারে।
অবশিষ্ট কমিটিগুলোও শিগগিরই গঠন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার নগরের ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি মশার লার্ভা নিধনে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতন করা হয়।
মশার প্রজননস্থল সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
এ সময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মশক ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে চাই।
চসিক সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম জোরদার করা হয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চসিকের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে মশার প্রজনন হতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীতে নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- টঙ্গীর পাগাড় এলাকার মৃত আলম খানের ছেলে নুর ইসলাম বাবু ওরফে খান বাবু (৩৮), একই এলাকার নুরুল ইসলাম খানের ছেলে তরিকুল ইসলাম জিহাদ (২৩), ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার বালিয়া গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে মামুন (২৫) এবং রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার হারাগাছ গ্রামের মৃত লাবলু মিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান জনি (২৭)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাদক নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার রাতে টঙ্গীর গোপালপুর এলাকা থেকে নুরুল ইসলাম নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে যায় তার প্রতিপক্ষরা। পরে টঙ্গী আরিচপুর ইটখোলা এলাকায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তার সহযোগীরা সিএনজিযোগে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এরপর তার সহযোগীরা লাশটি বাসায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় গত বুধবার নিহতের বোন নুরজাহান আক্তার বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি খান বাবুসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত ও ঘটনার সাথে জড়িত মোট চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নকশা তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর খুব শীঘ্রই এর কার্যক্রম শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে গবাদিপশু আশ্রয়কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, পাশ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে তিস্তা এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে এটি শুধুমাত্র ধুধু বালুচর হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুদূর লন্ডন থেকে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিএনপি যদি ম্যান্ডেট পায়, তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যমুনার চরাঞ্চলে বন্যার কারণে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। তাদের জীবন ও প্রাণী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে চরাঞ্চলে গবাদিপশুর আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে, যাতে গবাদিপশু ও মানুষ উভয়ই আশ্রয় নিতে পারে।
পরে, বেলকুচির সোহাগপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালী ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী। সমাবেশে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যারা দেশের পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের কারণেই দেশে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ব্যর্থতার ফলস্বরূপ বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বিএনপি গঠিত হয়েছিল। বিএনপি সব সময় মানুষের ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করে।
মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া হিমালয়ের পর্বতের মতো অবিচল ছিলেন। তার ওপর অনেক নির্যাতন, জুলুম ও অত্যাচার হয়েছে। তবুও বিএনপির পতাকা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত উত্তোলিত হয়েছে। গোটা দেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে। সর্বশেষ নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।
বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থার কারণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অন্য দলের নেতাদের মতো বিএনপির নেতারা পালিয়ে যাননি। তারা লড়াই-সংগ্রামে মানুষের পাশে থেকেছেন। বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে এবং বাস্তবায়ন করেছে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য দলগুলো নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়, পরে সেগুলো ভুলে যায়। কিন্তু বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে। তারেক রহমানের ৩১ দফায় থাকা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা ও বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। এছাড়া বাকী প্রতিশ্রুতি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
আলোচনা সভা শেষে ত্রাণমন্ত্রী বর্ণাঢ্য র্যালীর উদ্বোধন করেন। র্যালীটি আলহাজ সিদ্দিক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে বেলকুচি সরকারি কলেজ পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালীতে হাজার হাজার নারী-পুরুষসহ দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে, মন্ত্রী বেলকুচির তামাই এলাকায় তাঁতশিল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ