বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪১ এম
নাগোয়া, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের অংশ হিসেবে নাগোয়ায় অবস্থিত টয়োটার মোতোমাচি কারখানার পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে এই কারখানাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি গাড়ি সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) প্রক্রিয়া ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন তথ্য প্রদান করেন।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাহিকো মোয়েদা, টয়োটা সুশো কর্পোরেশনের মোবিলিটি বিভাগের সিইও শিগেরু হারাদা এবং প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) শিনিচিরো ওতসুকাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রচারণার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের প্রচারণা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমনকি টেলিভিশনে প্রচারিত বিদ্বেষমূলক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন তার নিজের পরিবারের সদস্যদেরও প্রভাবিত করেছে।
মিশিগানে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাশিদা তালিব। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বিজ্ঞাপন প্রচার কেবল বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়কেই নয়, বরং তাঁর নিজ পরিবারকেও প্রভাবিত করেছে।
মার্কিন এই কংগ্রেস সদস্যের মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় এ ধরনের বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হলে তা ওই সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সে বিষয়েও চিন্তা করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা আশামনির আত্মনির্ভরশীলতার পথে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। তাঁর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।
এই উদ্যোগ আশামনির স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে এবং তাঁর পরিবারের জীবনে নতুন আশার আলো ছড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শ্যামল সিলেট পত্রিকার ফটো সাংবাদিক রেজা রুবেল ও সিলেটভিউ২৪ ডটকমের নিবেন্দু তালুকদার।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে ঝামেলা হয়। এসময় রোগীর দুই স্বজনকে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে আরও ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে ঝামেলা শুরু করে। এসময় দুইজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সাংবাদিক রেজা রুবেলের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের পঞ্চম তলার অপারেশন থিয়েটারে। তার অভিযোগ, ভিডিও করতে গেলে চিকিৎসকরা মেরে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচিত সরকারের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ফলে অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এলেও সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানির চাপ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে কোনো ইতিবাচক খবর নেই। রাজস্ব আদায়ের গতি ধীর। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
এ কারণে অর্থ বিভাগ মনে করে যে সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আহ্বান করেছে অর্থ বিভাগ। সভায় অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মনজুরুল হক সভাপতিত্ব করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়াও মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে। সরকারের ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে এপ্রিল-মার্চ মেয়াদে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে জুলাই-মার্চ মেয়াদি ৯ মাসের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের হিসাব করা হবে।
বিবিএসের তথ্যমতে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও আট শতাংশের ওপরে রয়েছে। গত অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশে আটকে আছে। চলতি বছরেও প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ নেমে এসেছে নিম্নতম স্তরে। এর ফলে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্থিতি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই বাস্তবতায় বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। অর্থনীতির বর্তমান ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগামী দিনে কোন খাতে কী ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজন সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
বাড়ছে জ্বালানি আমদানির চাপ
গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয়ের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে জ্বালানি খাত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি বিল রেকর্ড ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের ৫.১৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে বাড়তি ডলারের চাহিদা, রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে আমদানি ব্যয় এখন সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।
সবশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে সেপ্টেম্বরে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। আগস্টে এটি ছিল ৮.২৬ শতাংশ।
প্রবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা
অর্থনীতির আরেকটি বড় দুর্বলতা প্রবৃদ্ধি। বিবিএসের সর্বশেষ সাময়িক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও প্রবৃদ্ধি এখনও আগের দশকের ছয় শতাংশের বেশি গড় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারেনি। প্রতিবছর প্রবৃদ্ধির এই ধারা শ্লথ।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬.৫০ শতাংশ। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭.৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ থেকে এক অর্থবছরে প্রায় আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর বড় লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। আইএমএফ চলতি সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আর্থিক, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের চাপের কথা বলেছে। বিশ্বব্যাংকও অর্থনীতিতে ধীর প্রবৃদ্ধি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের চাপ ও দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিনিয়োগে স্থবিরতা
অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতার একটি হলো বেসরকারি বিনিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে। মে মাসে এই হার ছিল ৪.৯৮ শতাংশ। এর আগে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও এখন তা নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
কর্মসংস্থানে বাড়ছে চাপ
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। সবশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে মোট শ্রমশক্তির আকার সাত কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার এবং নারী দুই কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। প্রতিবছর গড়ে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। অর্থাৎ, প্রতিবছর প্রায় ১৩-১৪ লাখ নতুন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগ ও উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়লে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন হবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান এখন অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ