ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিকে আরও শক্তিশালী হচ্ছে


ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিকে আরও শক্তিশালী হচ্ছে

২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় দুই দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সম্মত হয়। এই চুক্তিগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক ও সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং যৌথ সহযোগিতার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত দুই দশকের মধ্যে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক বাণিজ্য ও অভিবাসনের সীমা ছাড়িয়ে প্রতিরক্ষা খাতে আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রতি অনিশ্চয়তা দুই দেশকে আরো কাছাকাছি এনেছে। যোগাযোগ ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও যৌথ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, সামুদ্রিক নজরদারি এবং সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধে ও নির্বাচনে হেরেছেন ট্রাম্প, আরও পরাজয় উপহার দেবে ইরান: বিচার বিভাগীয় প্রধান

কৌশলগত প্রেক্ষাপট

ঐতিহাসিকভাবে, চারটি কারণে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে পারেনি। প্রথমত, স্নায়ুযুদ্ধের সময় অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মিত্র ছিল, যেখানে ভারত জোটনিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করলেও ১৯৭১ সালের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই সময় অস্ট্রেলিয়া ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক স্থাপন করে।

দ্বিতীয়ত, ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে।

তৃতীয়ত, দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সীমিত ছিল।

আরও পড়ুন: যেভাবে রাশিয়ার যুদ্ধ ফাঁদে দিশেহারা বাংলাদেশি শ্রমিকরা

চতুর্থত, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের অভাব ছিল। অস্ট্রেলিয়ার ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া’ নীতি এই দূরত্বকে আরো বাড়িয়ে দেয়। তবে ২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ডের ভারত সফরের পর সম্পর্ক উন্নতির সূচনা ঘটে। ওই বছর প্রতিরক্ষা আলোচনা শুরু হয় এবং ২০০১ সালে প্রথম কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৪ সালে সুনামির পর ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে মানবিক সহায়তা প্রদান করে। ২০০৬ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০০৭ সালে প্রথম কোয়াড সংলাপ এবং মালাবার নৌ-মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া কোয়াড থেকে সরে যায় এবং একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কারণে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নেয়। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কঠোর অবস্থান, সাইবার হামলা এবং ২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনা এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০০৯ সালে দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে প্রথম যৌথ ঘোষণা দেয়। ২০১১ সালে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হয়। এরপর যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হয়। ২০১৭ সালে কোয়াড পুনরায় সক্রিয় হয় এবং ২০১৮ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন

২০১৯ সালের পর চীনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পায়। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বিরোধ ও সাইবার হামলার ঘটনা এবং ২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত দুই দেশের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করে। ওই সংঘাতে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। এরপর ভারত চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেয়। অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অকাস চুক্তি করে। অন্যদিকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ায়। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা নীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় দুই দেশ বিকল্প অংশীদারির দিকে নজর দিচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশ ভারত মহাসাগরের দুই প্রান্তে অবস্থিত। তাদের বাণিজ্যের জন্য হরমুজ, মালাক্কাসসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখা অপরিহার্য। যৌথভাবে সমুদ্র নিরাপত্তা বৃদ্ধি করলে দুই দেশ নিজেদের উপকূল ও বাণিজ্যপথ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।

২০২০ সালের পর ভারত-অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত সহযোগিতা

আরও পড়ুন: ঝাড়খণ্ডের থানার ভেতরে ধর্ষণের অভিযোগে ১৫ পুলিশ বরখাস্ত

২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি ও স্কট মরিসন পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সহযোগিতা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০২০ সালে দুই দেশ ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারি’ গড়ে তোলে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও সাইবার নিরাপত্তা, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় একাধিক চুক্তি সম্পন্ন হয়।

২০২১ সালে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বৈঠক করেন। এ সময় ভারত অস্ট্রেলিয়ার ‘তালিসমান সাবর’ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করতে সম্মত হয়। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও মহাকাশ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

২০২৪ সালে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। একই বছর আকাশে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশ সমঝোতা করে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় নিয়মিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর যৌথ মহড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ১৪টি দ্বিপক্ষীয় এবং ৬৪টি ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে।

২০২১ সালে দুই দেশের নৌবাহিনী পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি যৌথ নির্দেশিকা স্বাক্ষর করে। তাদের যৌথ নৌ-মহড়া ‘অসইন্ডেক্স’-এ সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ ও যুদ্ধবিমান ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। অন্যদিকে স্থলবাহিনীর ‘অস্ত্রাহিন্দ’ মহড়ায় ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধের কৌশলে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের মহড়ায় উভচর যুদ্ধ ও উপকূলীয় এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে রানওয়েতে আটকে গেল এমিরেটসের এ-৩৮০

যৌথ উৎপাদন ও সামরিক সহযোগিতার পথে বাধা

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও কিছু সমস্যা এখনও বিদ্যমান। এর মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার অভাব, সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণে জটিলতা এবং দ্রুত ভিসা পাওয়ার সমস্যা অন্তর্ভুক্ত।

অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় ভারত-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপক্ষীয় সামরিক কার্যক্রমে অনেক সময় যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানে সমস্যা দেখা দেয়। আবার যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নীতির কারণে সামরিক বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতের কাজও জটিল হয়ে পড়ে।

এছাড়া সামরিক মহড়া, বন্দর পরিদর্শন ও অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিতে দুই দেশের সেনাসদস্যদের দ্রুত ভিসা পাওয়ার সুযোগও সীমিত। এসব সমস্যা সমাধান না হলে যৌথ সামরিক অভিযান ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের রেকর্ড সাফল্য

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের উদ্বেগ প্রায় একই। এই সহযোগিতা জোরদার করতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি যৌথভাবে উৎপাদন, সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, পি-৮ নজরদারি বিমানের পারস্পরিক ব্যবহার এবং নৌযান ও সাবমেরিন মেরামতে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা, সাঁজোয়া যান ও চালকবিহীন ডুবোযান তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হারামিয়া ইউপির চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চান ফছিউল আলম রহিম ৬৮টি রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, ১০ বছরের বেশি সময় ছিলেন কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


হারামিয়া ইউপির চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চান ফছিউল আলম রহিম ৬৮টি রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, ১০ বছরের বেশি সময় ছিলেন কারাগারে

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার ১৮ নম্বর হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফছিউল আলম রহিম।
এ উপলক্ষে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নিজের বাসভবনে সন্দ্বীপে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় হারামিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফছিউল আলম রহিম বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়।
তিনি জানান, ১৯৭৭ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর তার বড় ভাই সৈনিক আবুল কালাম আজাদ ২২ বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরে তার মা ও বড় ভাই আবুল কাশেমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার ভাইয়ের প্রাণভিক্ষার আবেদন গ্রহণ করেন। সেই ঘটনা তাদের পরিবারের রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
নিজের ও পরিবারের রাজনৈতিক নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তাকে ও তার পাঁচ ভাইকে একসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়। তার মরহুম ভাই আবুল কাশেম, অহিদুল মাওলা, আবু তাহের ও সামছুল হক বলি মেম্বারসহ পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেন।
ফছিউল আলম রহিমের দাবি, জাতীয় পার্টির শাসনামল থেকে ১৯৯০ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১৯টি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার বিরুদ্ধে আরও ৪৯টি মামলা করা হয়। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ৬৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলা। এসব মামলায় তাকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং জীবনের ১০ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি হারামিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, তিনবারের সাবেক সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও জানান, ২০১১ ও ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাকে দুইবার দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিল। প্রথমবার জাহাজ প্রতীক এবং দ্বিতীয়বার ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই দুই নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী তাকে বিপুল ভোটে সমর্থন দিলেও কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করতে পারেননি।
আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেলে হারামিয়া ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ফছিউল আলম রহিম। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত, জনবান্ধব সেবাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও পরিবারের অবদানের মূল্যায়ন করে বিএনপি এবারও তাকে চূড়ান্ত সমর্থন দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে হারামিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ মহড়া শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ মহড়া শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ মহড়া ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ শুরু হচ্ছে, যা দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ডের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রামে এই যৌথ মহড়া শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। মহড়াটিতে খরস্রোতা পানিতে উদ্ধার অভিযান এবং চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দুই বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবেলায় যৌথভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের অভিন্ন কৌশল তৈরি করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব পরিস্থিতির আদলে তৈরি বিভিন্ন অনুশীলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময় করবেন। এর মাধ্যমে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

‘গার্ডিয়ান শার্ক’ মহড়া বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে আঞ্চলিক নিরাপত্তার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই ধরনের যৌথ মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে এবং একটি মুক্ত, অবাধ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার অভিন্ন অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রয়োদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ৯ নভেম্বর শুরু হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


ত্রয়োদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ৯ নভেম্বর শুরু হবে

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন, যা আগামী ৯ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে, তার মেয়াদ হতে পারে মাত্র ১০ দিন, এমনটাই জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, চতুর্থ অধিবেশনের মেয়াদ কতদিন হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কতদিন এই অধিবেশন চালানো হবে। তবে সম্ভাবনা রয়েছে, অধিবেশন আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।

চতুর্থ অধিবেশনে আলোচনা হবে কোন কোন বিষয় নিয়ে, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এই অধিবেশনে পাঁচ থেকে ছয়টি বিল আসবে এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা হবে।

অন্যদিকে, বিরোধী দল যদি কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে আসে, সেটির ওপরও আলোচনা হতে পারে, উল্লেখ করেন তিনি।

চিফ হুইপ আরও জানান, এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে।

চতুর্থ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কোনো বিল আসবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কোনো বিল আসছে না। এই বিলগুলো অন্যান্য বিষয় নিয়ে হবে।

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের আলোকে ৬০ দিন পরপর সংসদ বসতে হবে, সেই কারণে অধিবেশন বসবে।’

সংবিধান সংশোধনের বিল কবে নাগাদ আসতে পারে, এ প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আগামী ডিসেম্বর মাসে একটি সুপারিশমালা তৈরি করতে। এই সুপারিশমালা জানুয়ারিতে সংসদ অধিবেশনে দিতে চাই, যদি বিরোধীদল এগিয়ে আসে।

আগামী সোমবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এটি ২০২৬ সালের চতুর্থ অধিবেশন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ পর্যন্ত তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।

প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়।

দ্বিতীয় অধিবেশন ৭ জুন শুরু হয়ে ১৫ জুলাই শেষ হয় এবং ২৬ কার্যদিবস চলে। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা ১৪ কার্যদিবসে মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী হয়। এতে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়।

তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। ৯ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬; সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬; ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ সহ ছয়টি বিল পাস হয়।

এ অধিবেশনে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয় এবং একটি বিশেষ কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ডভাবে কমেছে, কলকাতার চিকিৎসা ও পর্যটন ব্যবসা সংকটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ডভাবে কমেছে, কলকাতার চিকিৎসা ও পর্যটন ব্যবসা সংকটে

একসময় চিকিৎসা, কেনাকাটা কিংবা নিছক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেশের হাজার হাজার নাগরিক কলকাতার পাশাপাশি ভারতের দিল্লি, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর মতো বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে কলকাতার হাসপাতাল ও শপিং মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে সাম্প্রতিক সরকারি ও পর্যটন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই পরিচিত চিত্রে নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর পতন ঘটেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন কমে গেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৪ লাখ ৬৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

যদিও ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে গত ১৮ আগস্ট কলকাতার নিউ মার্কেট থানা এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের (মির্জা গালিব স্ট্রিট) ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনের মৃত্যুর পর বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে আরো বড় ধস দেখা দিয়েছে। এত অল্প সময়ে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কেন এতটা কমে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কলকাতা পৌরসভা সংশ্লিষ্ট এলাকার হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর পুনরায় খুলে দিলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে ‘শিখা ইন’ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক এখনো অনেকের মনে রয়ে গেছে।

এছাড়া ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা, দীর্ঘ অপেক্ষা, সীমিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক আবেদনকারী ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট এবং বিদেশ ভ্রমণের বাড়তি ব্যয়ও অনেককে বিদেশ সফর থেকে বিরত রেখেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে সীমান্ত পারাপার ও পর্যটন খাতে। এ পরিস্থিতির পাশাপাশি বিকল্প পর্যটন গন্তব্যের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। বর্তমানে দেশের অনেক পর্যটক ভারত ভ্রমণের পরিবর্তে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা তুরস্কের মতো দেশ বেছে নিচ্ছেন। সহজ ভিসা প্রক্রিয়া ও সাশ্রয়ী ট্যুর প্যাকেজ তাদের এসব দেশের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

অন্যদিকে, কলকাতার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খরচ চাপানোর অভিযোগে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ কারণে অনেকে কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের নাগরিক আবু বক্কর নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পায়ের চিকিৎসার জন্য কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকার একটি হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা শুরুর আগেই তাকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হয়। তার দাবি, চিকিৎসকেরা কোনো ওষুধ না দিয়েই প্রথমে এসব পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। অথচ অন্তত কয়েকদিনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া যেত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সেদিনই ঢাকায় ফিরে আসেন। প্রয়োজনে থাইল্যান্ড কিংবা অন্য কোনো দেশে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন, তবু ভারতে নয় বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কলকাতার হোটেল, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, শপিং মার্কেট ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বহু বছর ধরেই ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজমের অন্যতম বড় উৎস ছিল বাংলাদেশ। প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য হাজার হাজার বাংলাদেশি ভারতে যেতেন। কলকাতা মার্কুইস স্ট্রিট ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে হায়দার আলী বলেন, শুধু সাম্প্রতিক সময়ে নয়, ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করে। ‘শিখা ইন’ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের পর সেই পতন আরো তীব্র হয়। তবে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। আগামী দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিদেশে ছুটি কাটানোর প্রতি ভারতীয় পর্যটকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩ কোটি ২৭ লাখেরও বেশি ভারতীয় বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। ভারতীয়দের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালদ্বীপ ও নেপাল। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি, সহজ ভিসানীতি এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণ প্যাকেজের কারণে ভারতীয়দের বিদেশযাত্রা বেড়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই মেডিকেল ও ট্যুরিস্ট ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সংস্কৃতি, চিকিৎসা ও কেনাকাটার টানে আবারো বাংলাদেশি পর্যটকদের ভারতে যাতায়াত বাড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%