ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখ ২৩ হাজার নিবন্ধন


‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখ ২৩ হাজার নিবন্ধন

‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে অন্তত ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়াসচিব মো. মাহফুজুল আলম খান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখ ৬৮ হাজার। এবারের প্রতিযোগিতায় ১০টি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস (সিজন-২) উদ্বোধনের জন্য আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ক্রীড়াসচিব আরও বলেন, খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করতে সরকার স্কুল-কলেজের মাঠের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছর এক হাজার ইউনিয়নে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এছাড়া, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অবশিষ্ট অংশে গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মাহফুজুল আলম খান।

আরও পড়ুন: কচুয়ায় উদ্যোক্তা আলোচনা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

এ সময় খুলনার হারানো ‘স্পোর্টস সিটি’র ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের আয়োজনের মাধ্যমে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারা একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

হুইপ আরও বলেন, এক সময় খুলনা ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়ে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। খুলনা অঞ্চলে শিল্পায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মোংলা বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে খুলনার অর্থনৈতিক অগ্রগতি জড়িত। বন্দরটির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে খুলনায় উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়াসচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কেডিএ চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর মিলনমেলা: অনুষ্ঠিত হলো ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’

প্রেস ব্রিফিংয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬২ হাজার ১০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে ভিড়লো মাদার ভ্যাসেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


৬২ হাজার ১০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে ভিড়লো মাদার ভ্যাসেল

৬২ হাজার ১০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে একটি মাদার ভ্যাসেল, যার গভীরতা ১৩ মিটার। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটির নাম ‘এমভি এমবিএস তাইসি’, এবং এর আগমন পায়রা বন্দরে বড় আকারের জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে জাহাজটি পায়রা বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। গভীর সমুদ্রে বন্দরের নির্ধারিত অবস্থানে নোঙর করে জাহাজটি। ১৯৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩২ মিটার প্রস্থের এ জাহাজটি ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার তারাহান বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। জাহাজটিতে থাকা কয়লা পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কয়লা খালাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পায়রা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে মাদার ভ্যাসেলটি নির্বিঘ্নে বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করেছে। বুধবার থেকেই কয়লা খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথমে জাহাজটির অর্ধেকের বেশি পণ্য খালাস করা হবে। এরপর জাহাজটি টার্মিনালে নিয়ে অবশিষ্ট কয়লা খালাস করা হবে। তিনি আরও জানান, এখন থেকে পায়রা বন্দরে একের পর এক বড় জাহাজ আসতে থাকবে, যা বন্দরের পণ্য পরিবহন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে পায়রা বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেভাবে রাশিয়ার যুদ্ধ ফাঁদে দিশেহারা বাংলাদেশি শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


যেভাবে রাশিয়ার যুদ্ধ ফাঁদে দিশেহারা বাংলাদেশি শ্রমিকরা

বাংলাদেশি শ্রমিকেরা রাশিয়ায় যুদ্ধে আহত হয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন। লক্ষ্মীপুর জেলার ৩১ বছর বয়সী মাকসুদুর রহমানের কাছে যখন একজন দালাল কাজের প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তখন তাকে বলা হয়েছিল রাশিয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। লক্ষ্মীপুরের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই কেউ না কেউ বিদেশে কর্মরত, তাই বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের তথ্যানুসারে, তিনি ১২ লক্ষ টাকা (প্রায় ৯,৮০০ মার্কিন ডলার) ঋণ করে দালালকে দেন। সাধারণ পরিবারের জন্য এটি একটি বিরাট অংকের অর্থ, তবে প্রতিশ্রুত বেতনের তুলনায় ঋণের বোঝা শোধ করা সম্ভব বলেই মনে হয়েছিল। তিনি চুক্তিতে সই করে বিমানে উঠলেন।

কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ঝাড়ু বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কোনো চিহ্নই ছিল না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যান। তাকে এবং আরও তিন বাংলাদেশি শ্রমিককে রুশ ভাষায় লেখা একটি কাগজে সই করতে বলা হয়, যে ভাষা তাদের কারোরই জানা ছিল না। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি সেনা ক্যাম্পে, যেখানে ড্রোন পরিচালনা, আহতদের উদ্ধার এবং ভারী অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রহমান প্রতিবাদ জানালে একজন রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে জানান যে, তার নিজের দালালই তাকে এখানে পাঠিয়েছে। রহমানের দলের শ্রমিকদের ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়।

তার এই গল্পটি একটি সুসংগঠিত যুদ্ধ ফাঁদের জলজ্যান্ত উদাহরণ: স্থানীয় দালাল, ঋণের বোঝা, কেউ পড়তে পারে না এমন একটি চুক্তিপত্র এবং একটি যুদ্ধ—যা কখনো আলোচনার অংশই ছিল না। তবে লক্ষ্মীপুরের একজন মানুষ কীভাবে সেই ক্যাম্পে গিয়ে পৌঁছালেন তা বুঝতে হলে রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং এই নিয়োগ ফাঁদের পেছনের কারণগুলো জানা প্রয়োজন।

লোকবলের সংকটে রাশিয়া

রাশিয়ায় চরম সেনা সংকট দেখা দিয়েছে এবং পরিসংখ্যানে তা স্পষ্ট। ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম কর্তৃক প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চুক্তিবদ্ধ সামরিক সেবায় যোগদানের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মস্কো সাইনিং বোনাস হিসেবে ৮০,০০০ ডলার পর্যন্ত এবং ১,৪০,০০০ ডলার পর্যন্ত ঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়ার সত্ত্বেও এই ঘাটতি রয়ে গেছে।

এদিকে, স্থানীয় শোকসংবাদের ওপর ভিত্তি করে বিবিসি এবং মিডিয়াজোনার সাংবাদিকদের অনুমান, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিন লাখ রুশ সেনা নিহত হয়েছে। অন্যান্য পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার মতে এই মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি এবং প্রতি মাসে নিহতের সংখ্যা ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০।

এক হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার শ্রমবাজার স্থিতিশীল করতে আরও ১৫ লাখ শ্রমিকের প্রয়োজন এবং দেশটির কর্মকর্তারা নিজেরাও ২০৩০ সালের মধ্যে ৩১ লাখ শ্রমিকের ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছেন। কঠোর অভিবাসন নিয়মের কারণে প্রায় ১০ লাখ অস্থায়ী শ্রমিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় সামরিক বাহিনী এবং কারখানাগুলো এখন একই সংকুচিত শ্রমবাজার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মতো আরেকটি পূর্ণমাত্রার বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আদেশ জারি করার সাহস রাশিয়া পাচ্ছে না, কারণ এটি সরকারের জনসমর্থনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। ফলে কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ, বয়স্ক ও সেনাক্যাম্পে নিবন্ধন করতে আসা মানুষদের কৌশলে ও বলপ্রয়োগ করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছেন।

এই ঘাটতি পূরণে মস্কো বিদেশের দিকে নজর দিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা হাজার হাজার বন্দি এবং তিন ধাপে উত্তর কোরিয়ার সেনা ব্যবহার করেছে, তবে তা পর্যাপ্ত ছিল না।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মূল্যায়নের ভিত্তিতে একটি ইউক্রেনীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগার থেকে বন্দি নিয়োগের উৎস হয়তো শেষ হয়ে এসেছে। তাই দেশে নতুন করে গণ-সংগ্রহ এড়াতে রাশিয়া এখন 'গ্লোবাল সাউথ' বা উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে লোক সংগ্রহের পরিধি বাড়াচ্ছে।

ইউক্রেনীয় তথ্যানুসারে, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯,০০০ বিদেশি চুক্তিভিত্তিক সেনাসেবা সই করেছেন। ২০২৬ সালে আরও অন্তত ১৮,৫০০ জন নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান টার্গেট হিসেবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ রয়েছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই পরিসংখ্যানের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট ছক দেখতে পাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ) তিনটি মহাদেশ জুড়ে অবৈধ অভিবাসী, বন্দি, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিক এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত চক্রের বিবরণ দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও গত মাসে মস্কোর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক, বলপ্রয়োগমূলক ও শোষণমূলক নিয়োগের অভিযোগ এনেছে।

এই প্রস্তাব কারা গ্রহণ করছে?

দক্ষিণ এশিয়ায় এই নিয়োগ চক্র কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং নেপালের মন্দার পর রাশিয়ায় মাসে অন্তত ৫৫০ ডলারের বেতনকে অনেকে বেঁচে থাকার পথ হিসেবে দেখেন। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, ২০০ জনেরও বেশি নেপালি নাগরিককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ইউক্রেনে বহু নেপালি প্রাণ হারানোর পর কাঠমান্ডু রাশিয়ায় কাজের অনুমতি দেওয়া স্থগিত করে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ জন প্রাক্তন সেনাসদস্য এতে যোগ দেন।

তাহলে এই ঝুঁকি মানুষ কেন নিচ্ছেন? প্রথম কারণ অর্থ। বেঁচে ফেরাদের বিবরণভিত্তিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক ওয়েল্ডারকে ২০,৯৯০ ডলার সাইনিং বোনাস, মাসে ২,৬৬৪ ডলার বেতন এবং নাগরিকত্বের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ঋণে ডুবে থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই অর্থের অংক জীবনঝুঁকির ভয়কেও আড়াল করে দেয়।

তবে কেবল অর্থই একমাত্র কারণ নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিছু বাংলাদেশি জেনেশুনেই যোগ দিলেও তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। আবার কেউ কেউ ভিসাভিত্তিক চাকরি হারিয়ে দালালের লোভনীয় চুক্তির ফাঁদে পড়েছেন। অনেকে এমনকি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনাও হননি—এক বন্দি জানান, এক উজবেক দালাল তাকে ইতালিতে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে পাঠায়। ফোরটিফাই রাইট এবং ট্রুথ হাউন্ডস-এর মতে, একবার ভেতরে ঢুকে পড়লে পছন্দের আর কোনো সুযোগ থাকে না; রুশ ভাষায় চুক্তিপত্র সামনে দেওয়া হয় এবং দ্বিধা করলেই আসে হুমকি ও নির্যাতন। অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে পৌঁছানোর পরপরই পাসপোর্ট ও ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।

আইনি চুক্তিহীন শ্রমপ্রবাহ

রাশিয়া কখনোই বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য প্রচলিত কোনো গন্তব্য ছিল না। যুদ্ধের কারণে যখন অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে টান পড়ে, তখন শিপইয়ার্ডে দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তায় প্রথম এই দেশে কর্মী যাওয়া শুরু হয়। শুরুতে প্রায় ৫৬ জন শ্রমিককে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ে। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৯৯৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৪,৬৬৩ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসেবে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৮,২৪৭ জন কর্মী দেশটিতে গেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল মাত্র ৪২৬ জন কর্মী পাঠিয়েছিল এবং তারা সেখানে নিরাপদ রয়েছেন; বাকি বিশাল অংশই গেছে বেসরকারি বা দালাল চক্রের মাধ্যমে।

এত বড় অঙ্কের শ্রমপ্রবাহ সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কোনো আনুষ্ঠানিক শ্রম চুক্তি নেই। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মস্কো সফরকালে উভয় পক্ষ কেবল ঝুলে থাকা চুক্তিগুলো—যেমন মানবসম্পদ চুক্তি ও প্রত্যাবর্তন চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের আহ্বান জানান। এক বছরের মধ্যে ১,০০,০০০ বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রস্তাব দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে রাশিয়া সম্মত হয়েছে। একজন প্রতিমন্ত্রী এমনকি পাঁচ বছরে ৩ থেকে ৪ লাখ শ্রমিক পাঠানোর কথা বলেছেন। এর মধ্যেই মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশি নাগরিকদের সামরিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য রাশিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছে।

আনুষ্ঠানিক চুক্তির অভাব বাংলাদেশি শ্রমিকদের অরক্ষিত ও প্রতারণার মুখে ফেলে দিয়েছে।

যুদ্ধের বাইরেও প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চাকরিচ্যুত হয়ে ৩৫ জন শ্রমিক রাশিয়া থেকে ফেরত আসেন, যাদের প্রত্যেকে প্রায় ৭,০০,০০০ টাকা (প্রায় ৫,৬৫১ ডলার) করে দিয়েছিলেন।

দালাল, এজেন্সি এবং টিকিটের মূল্য

গ্রাম থেকে সামরিক ব্যারাকের এই পথটি সাধারণ কিছু অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানায়, ২০২৬ সালের মে মাসে যে ৩০ জন ব্যক্তি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, তারা জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল এবং টিএস গ্রুপ নামক তিনটি জনশক্তি এজেন্সির মাধ্যমে যান। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পুলিশ দুজন মূল হোতাকে গ্রেফতার করে এবং জানায় যে এক রুশ পুরুষ এবং এক কির্গিজ নারী এই চক্রের সাথে জড়িত, যদিও এই অভিযোগগুলো এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সংসদে জানান, ওই ব্যক্তিরা বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সির মাধ্যমেই গেছেন—যা প্রমাণ করে যে কেবল কাগজের অনুমোদনই সব সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না।

তারা পৌঁছানোর পরই পুরনো চিত্র রিপিট হয়—পাসপোর্ট ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় ফ্রন্টলাইনে। তদন্তকারীরা জানান, ড্রোনের সামনে শত্রুপক্ষের অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য এদেরকে 'টোপ' হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

লাশের সঠিক হিসাব মেলা ভার

ইউক্রেনীয় তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফোরটিফাই রাইটস এবং ট্রুথ হাউন্ডস জানায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১০৪ জন বাংলাদেশি যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। তবে তারা সতর্ক করেছে যে আসল সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর এসআরবি জানায়, ওই ৩০ জনের দলের মধ্যে ২০ জনই মারা গেছেন—যার মধ্যে ১৭ জন ফ্রন্টলাইনে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় নিহত হন এবং ৬ জন এখনও লড়াই করছেন।

এই তথ্যগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে কারণ তথ্যের উৎস ভিন্ন: পুলিশ, মানবাধিকার সংস্থা এবং কিয়েভ। আর ওদিকে স্বজনেরা দেহ ছাড়াই দিন গুনছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ঢাকাকে এই দালাল চক্র ভেঙে দেওয়ার এবং ইউক্রেনকে বন্দী আন্তর্জাতিক যোদ্ধাদের মানবপাচারের শিকার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। তবুও পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছে এবং জাতীয় দৈনিকগুলো আটকে পড়া মানুষদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের ভাগ্যে অধরা বিচার

পুনরায় মাকসুদুর রহমানের কথায় আসা যাক: তিনি কোনোক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছেন। আজ তিনি লক্ষ্মীপুরের নিজ বাড়িতে বসে আছেন এবং হাতে ধরে আছেন একটি রুশ সামরিক ডগ ট্যাগ—যা তার সেখানে থাকার এক জ্যান্ত প্রমাণ। কিন্তু একই অঞ্চলের অনেকেই ফিরতে পারেননি। ২০ বছরের তরুণ সাজ্জাদকে যুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার পর হত্যা করা হয়। তার বাবা মোহাম্মদ সিরাজ এখন ছেলের একটি ছবি আঁকড়ে ধরে আছেন। সিরাজের কাছে 'বিচার' কোনো কথার কথা নয়—এটি একটি চার্জশিটে থাকা নাম, দাফনের জন্য এক খণ্ড মরদেহ এবং তার ছেলেকে যারা যুদ্ধে পাঠাল তাদের জবাবদিহিতা।

গ্রামে স্বজনেরা দালালদের মুখোমুখি হয়ে জানতে চাইছেন, কেন তাদের প্রিয়জনদের যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো। এই প্রশ্নগুলোর স্থান কোনো গ্রামের উঠানে নয়, বরং আদালতের কাঠগড়ায়। যে দালালরা এই চাকরি বিক্রি করেছে এবং যে সরকারি ব্যবস্থা তাদের কাগজপত্রের অনুমোদন দিয়েছে—তাদের জবাবদিহিতার আওতায় না আনা পর্যন্ত এই পরিবারগুলো এক অশেষ দেনার বোঝা বয়ে বেড়াবে।

রহমানের নেওয়া ঋণ সত্যি ছিল, যুদ্ধটাও বাস্তব ছিল, কেবল ছিল না সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরিটি। যে মানুষটি জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়েছিলেন, তিনি আজ ফিরেছেন একজন সৈনিকের ডগ ট্যাগ নিয়ে—আর তার বিচার আজও বহু দূরে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সেঞ্চুরি করেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও রোহিত শর্মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সেঞ্চুরি করেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও রোহিত শর্মা

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে দ্রুত রান তোলার চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, একাধিক তারকা ধারাবাহিকতা দেখিয়ে নিজেদেরকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড বর্তমানে যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং ভারতের সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মার দখলে রয়েছে। উভয়ের সেঞ্চুরির সংখ্যা পাঁচটি করে।

রোহিত শর্মা ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর থেকে ১৫৯ ম্যাচে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন, যা তার দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের একটি অংশ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১২১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি তার পঞ্চম শতক অর্জন করেন। একই বছর তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন।

অন্যদিকে, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর পাঁচটি সেঞ্চুরি করে রোহিতের রেকর্ডে সমান হন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ৫৫ বলে অপরাজিত ১২০ রানের ইনিংস খেলে তিনি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

এই তালিকার পরবর্তী স্থানে রয়েছেন চারজন ক্রিকেটার, যাদের মধ্যে দুইজন ভারতীয়। ভারতের অভিষেক শর্মা এবং সূর্যকুমার যাদব ছাড়াও ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট এবং অস্ট্রিয়ার কারানবির সিংও রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি রয়েছে চারটি করে।

এছাড়া, পাকিস্তানের বাবর আজম, নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুহাম্মদ ওয়াসিমের রয়েছে তিনটি করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি সেঞ্চুরি নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন ম্যাক্সওয়েল এবং রোহিত। তবে, তারা অবসর নেওয়ার পর বর্তমান প্রজন্মের অন্যান্য ব্যাটারদের জন্য তাদের রেকর্ড ছোঁয়া কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


রাজবাড়ীতে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা নতুন মামলায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কেরামত আলীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলা মামলায় কাজী কেরামত আলীকে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ১৫ অক্টোবর দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় শুনানির জন্য কাজী কেরামত আলীকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে হাজির করা হয়েছিল। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২০২৭ সালের ১৮ জানুয়ারি ধার্য করেন আদালত।

এদিকে, পরবর্তীতে গোয়ালন্দ আমলি আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইনের আদালতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার একটি মামলায় কাজী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলাটি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৩ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন রেজা তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন।

কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা জানান, এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে কাজী কেরামত আলী প্রথমে গ্রেপ্তার হন। পরে উচ্চ আদালত থেকে তিনি ওই মামলায় জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলে সেই মামলাতেও তিনি জামিন পান। এরপর আবারও তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল।

আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিয়মিত হাজিরার দিন ধার্য ছিল। তবে এর আগের দিনই গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন পেশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আদালত তা মঞ্জুর করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকেই সাবেক এ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে এ গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজবাড়ী সদর থানায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে উৎস সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বুধবার (৪ নভেম্বর) তাকে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%