১০:০৯ পি.এম
রাজশাহীর তানোর উপজেলার চৌবাড়িয়া মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি জবরদখলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে স্কুলের সামনে চৌবাড়িয়া-দেলুয়াবাড়ি রাস্তার দুই পাশে এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চৌবাড়িয়া মালশিরা স্কুলের পশ্চিম পাশে রাস্তার ধারের খতিয়ান নম্বর ১, জেল নম্বর ১৬৩, মৌজা চৌবাড়িয়া, দাগ নম্বর ৪৬৫, শ্রেণী স্কুল, পরিমাণ ২০ শতক জমি ১৯৬২ ও ১৯৭২ সালে স্কুলের নামে রেকর্ড করা হয়। ওই জমি স্কুল কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছে। দীর্ঘদিন আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই ২০ শতক জমির উপর পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করলে মান্দা উপজেলার ভারশো ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের আব্দুলের দুই পুত্র বেলাল এবং হোসেন আলী ওই জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। ২০২৬ সালের ২৪ মে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেয়। এর পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে আব্দুলের দুই পুত্র বেলাল ও হোসেন টিনের বেড়া দিয়ে ঘর নির্মাণ করেন। এর পর রোববার স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ওই অবৈধ ঘর ভেঙে দেয়। এই ঘটনার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এলাকাবাসী জানান, গভীর রাতে আব্দুল ও তার দুই পুত্র বেলাল এবং হোসেন আলী বহিরাগত ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে স্কুলের পাকা বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে সেখানে টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন, "আব্দুল নামের এক ব্যক্তি জাল দলিল তৈরি করে স্কুলের জমি জবরদখলের জন্য স্কুলের প্রাচীর ভেঙে রাতারাতি টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করছে।" তিনি প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আব্দুলের পুত্র বেলাল উদ্দীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "পৈতৃক সূত্রে ওই জমি আমাদের। আমরা আদালতের রায় পেয়ে দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু স্কুলের লোকজন এবং এলাকার কিছু লোকজন এসে দোকান ঘর ভাঙচুর করেছে এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন