রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২২ পি.এম
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : বাংলাদেশ চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে সহযোগিতা জোরদারের জন্য একগুচ্ছ প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম-মিয়ানমার হয়ে ইউনানের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ইউনানে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত চালু করা এবং সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব।
রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা সফররত চীনের ইউনান প্রদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ কার্যকর সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে দুই অঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় এবং ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, "প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।"
ইউনানকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে এ প্রদেশে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি ইউনানের প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ মানুষের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে প্রস্তাবিত বিনামূল্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে দুই অঞ্চলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক চিত্রও উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ইউনান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে।
ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে। এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, "এসব সুবিধা দ্রুত কার্যকর হবে।"
তিনি আরও বলেন, ইউনানের বাণিজ্য বিভাগ ও বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এ সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ইউনানে রপ্তানি এবং ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ইউনানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কৃষি খাতে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই অঞ্চলের কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জ্বালানি, ই-কমার্স এবং প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ ও ইউনানের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বিশেষ করে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানান।
সিলেটের পুরনো কারাগারের জায়গায় পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি কুনমিংয়ের আধুনিক পার্কগুলোর আদলে সিলেটে একটি আধুনিক পার্ক গড়ে তুলতে ইউনান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান।
ঝাও জুনমিন বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বুলবুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত বুলবুল শ্রীনগর গ্রামের মৃত গোলাপ মিয়ার ছেলে। সে পুলিশি অভিযানের তথ্য পাচারের পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।চাঁদাবাজি করাই তার মূল পেশা।
স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত বুলবুল এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে নানা কৌশল ব্যবহার করেন। তার ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং নিকটাত্মীয় পুলিশের এসপি পদে রয়েছেন এমন ভুয়া পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবদল নেতা বলেন, বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা তুলছেন। অতীতেও তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে পুলিশি হয়রানির নেপথ্যেও তার হাত রয়েছে।
শ্রীনগর ইউনিয়নের এক ছাত্রদল নেতা জানান, বুলবুল যে পুলিশের নামে নিয়মিত টাকা তোলেন, সে বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন। তবে সংগৃহীত ওই অর্থের পুরোটাই তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেন, নাকি অন্য কোথাও বণ্টন হয়—সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ করে বলেন, শ্রীনগর গ্রামে পুলিশ প্রবেশ করলেই বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এমন একটি গুঞ্জন এলাকায় রয়েছে। পুলিশের অভিযানের আগাম বার্তা দিয়ে তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ দেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে তাদের মামলায় ফাঁসানো বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বুলবুল বলেন, পুলিশ আমার গ্রামে ঢুকলে আমাকে ফোন দেয় এটি সত্য। তবে পুলিশের নামে চাঁদাবাজি বা টাকা তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বুলবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে।দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। পুলিশের নাম ব্যবহার করে এই ধরনের চক্রের চাঁদাবাজি একদিকে যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, অন্যদিকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বরিশালে বিএনপি একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছে, যা পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
আজ রোববার বেলা ১১ টায় মহানগরের সদর রোড এবং বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে মহানগর বিএনপি, জেলা শ্রমিক দল এবং বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল মহানগর বিএনপি সকালে নগরীর জিলা স্কুল মোড় থেকে একটি মিছিল বের করে। এতে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। এ সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক এখন কুদ্দুসুর রহমান এবং বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন শিকদার উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জেলা শ্রমিক দল সমাবেশ করে। পরে তারা একটি মিছিল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
একই সময়ে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। পরে তাদের আয়োজিত মিছিলে বরিশাল সদর উপজেলার নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাইফুল ইসলাম আব্বাস প্রমুখ।
বক্তারা এ সময় বলেন, "কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।" বক্তারা অভিযোগ করেন যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে।
তাহলে নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ। এ সমাবেশে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেড়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে টয়লেটের উপস্থিতি রয়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। কিছু বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে আলাদা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই এবং নিয়মিত পানি, সাবান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। এই কারণে শিশুরা প্রয়োজনের সময় টয়লেট ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বেড়া উপজেলায় ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা) ব্যবস্থায় এই ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১২টি। এসব বিদ্যালয়ে অবকাঠামোর অভাব, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম—এসব সমস্যা বিদ্যমান।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৭৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ১৯১ জন ছেলে এবং ২২৮ জন মেয়ে। তাদের জন্য মাত্র ৪টি পুরাতন টয়লেট রয়েছে। টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সমস্যা হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহার করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্মিত দুই রুম বিশিষ্ট একটি টয়লেট অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে বর্তমানে পরিত্যক্ত হয়ে আছে।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েততুল্লাহ জানান, বিদ্যালয়ে টয়লেট থাকলেও আলাদা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় টয়লেট পরিষ্কার করা হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে সমস্যা হয়। এই কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে সুস্থভাবে টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতার ধারণা দেওয়া হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টয়লেটে প্রায়ই দুর্গন্ধ থাকে এবং অনেক সময় পানি ও সাবান পাওয়া যায় না। ফলে টয়লেট ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার করার সুযোগ থাকে না। শিক্ষার্থী জীম ও আব্দুল্লাহ্ বলেন, টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় একজন ব্যবহার করলে অন্যদের অপেক্ষা করতে হয়। অধিক ব্যবহারের কারণে কখনো কখনো টয়লেটে দুর্গন্ধও হয়। তাদের মতে, নতুন ভবন ও পর্যাপ্ত টয়লেট হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে।
তবে সব বিদ্যালয়ের সমস্যা একই নয়। পৌরসভার কিছু কিছু স্থানে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টয়লেটগুলো তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন থাকলেও সেখানে মূল সমস্যা সংখ্যা ঘাটতি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য এই অল্পসংখ্যক টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিদিন চাপ তৈরি হচ্ছে।
রাক সাফূল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ মিয়া জানান, ৩৮৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে ৩টি টয়লেট রয়েছে, যার মধ্যে ছেলেদের জন্য ১টি ও মেয়েদের জন্য ২টি। টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় বর্তমানে সংস্কার করে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে টয়লেট ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা হয় এবং মা সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদেরও সচেতন করা হচ্ছে।
দুটি বিদ্যালয়ের চিত্রে সমস্যার ধরন আলাদা হলেও মূল সংকটটি একই—শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একটিতে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, অন্যটিতে শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম। এর বাইরে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিভাবক ওয়াসিম, সবুজ ও মমিনের মতে, শুধু টয়লেট নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি ও সাবানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার মতে, শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম—এটি সত্য। কিছু বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৫টি বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবনের আবেদন করা হয়েছে। নতুন ভবন হলে টয়লেটসহ অবকাঠামোগত কিছু সমস্যার সমাধান হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘স্বদেশ’ সিনেমায় গীতার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন গায়েত্রী জোশি। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি ছিল তার বলিউডে অভিষেক। তবে সেই সিনেমার পর তাকে আর অভিনয়ে দেখা যায়নি। ২০০৫ সালে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী বিকাশ ওবেরয়কে বিয়ে করে গায়েত্রী বলিউড থেকে সরে যান। বর্তমানে তিনি স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মুম্বাইয়ে পারিবারিক জীবন কাটানোর পাশাপাশি ডিজাইন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
‘স্বদেশ’ দিয়েই অভিনয়ে পরিচিতি
বলিউডে আসার আগে গায়েত্রী জোশি মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে চ্যানেল ভি-এর ভিডিও জকি (ভিজে) হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ২০০০ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। একই বছর তিনি মিস ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেন।
এরপর ২০০৪ সালে আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত ‘স্বদেশ’ সিনেমায় শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান গায়েত্রী। সিনেমায় তার চরিত্রের নাম ছিল গীতা, যিনি একজন স্কুলশিক্ষক। অন্যদিকে শাহরুখ খান অভিনয় করেন নাসার বিজ্ঞানী মোহান ভার্গবার চরিত্রে।
‘স্বদেশ’ মুক্তির পর গায়েত্রীর অভিনয় প্রশংসিত হয়। তবে সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত তার অভিনয়জীবনের শুরু ও শেষ হয়ে যায়।
কেন বলিউড ছাড়লেন?
‘স্বদেশ’-এর পর গায়েত্রী বেশ কিছু চিত্রনাট্য শুনেছিলেন। পরবর্তী সিনেমা নিয়ে তার আগ্রহও ছিল। তবে বিয়ের পর তার অগ্রাধিকার বদলে যায়।
২০১৯ সালে ‘বলিউড হাঙ্গামা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গায়ত্রী বলেছিলেন, বিয়ের পর তিনি চাইলে অভিনয় চালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজের বিয়ে ও পরিবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গায়েত্রীর বক্তব্য ছিল, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে মনোযোগ ভাগ করতে চাননি তিনি। বিয়ে ও সন্তানদের জন্য পুরোপুরি সময় দেওয়াকেই তখন অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেন।
‘স্বদেশ’কে তিনি নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। অল্প সময়ের অভিনয়জীবন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানিয়েছিলেন।
স্বামী ভারতের ৫৯তম ধনী
গায়েত্রীকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তার স্বামী বিকাশ ওবেরয়ের সম্পদের কারণে। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী, বিকাশ ওবেরয়ের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৪৮ হাজার ১০০ কোটি রুপি। এই সম্পদ নিয়ে ভারতের ধনীদের তালিকায় তার অবস্থান ৫৯তম।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে বিকাশ ওবেরয় তার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তিনি মুম্বাইভিত্তিক ওবেরয় রিয়েলটির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের তালিকায় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ৯৬০ কোটি রুপি এবং অবস্থান ছিল ৫৮তম।
দুই সন্তানকে নিয়ে পারিবারিক জীবন
বিয়ের পর গায়েত্রী ও বিকাশের সংসারে দুই ছেলে—ভিহান ও যুবান। বলিউড থেকে দূরে থেকে সন্তানদের বড় করা ও পরিবারকে সময় দেওয়াতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন গায়ত্রী।
২০১৯ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তার দুই ছেলেই ‘স্বদেশ’ সিনেমাটি দেখেছে। মায়ের অভিনীত সিনেমাটির প্রতি তাদেরও ভালো লাগা রয়েছে।
জুহুতে বিলাসবহুল বাড়ি
বর্তমানে গায়েত্রী ও বিকাশ মুম্বাইয়ের জুহুতে তাদের নতুন বাড়িতে থাকেন। প্রায় ৭৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের নয়তলা বাড়িটির নকশা করেছেন ইতালীয় স্থপতি ও ডিজাইনার পিয়েরো লিসোনি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট ইন্ডিয়া’য় বাড়িটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাড়িটিতে রয়েছে দুটি বেসমেন্ট, জিম ও স্পা, ১২ আসনের ব্যক্তিগত সিনেমা হল, অতিথি আপ্যায়নের জন্য বড় পরিসর এবং পরিবারের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত জায়গা।
এ ছাড়া ছাদে রয়েছে ইনফিনিটি পুল, যেখান থেকে আরব সাগরের দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির বিভিন্ন অংশে এম এফ হুসেন, রবীন্দ্র রেড্ডি ও মনজিৎ বাওয়ার মতো শিল্পীর শিল্পকর্মও রয়েছে।
গায়েত্রী জানিয়েছেন, বাড়িটিকে অনেকটা বুটিক হোটেলের মতো করে সাজানোর পরিকল্পনা ছিল বিকাশের। শুরুতে বিষয়টি তার পছন্দ না হলেও পরে বাড়িটির ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় তুলনাটি যথাযথ মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।
এখন কী করছেন গায়েত্রী?
বলিউড থেকে সরে যাওয়ার পর গায়েত্রী খুব একটা প্রকাশ্যে আসেন না। পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি ডিজাইন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। ‘আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদনে তাকে ওবেরয় রিয়েলটির ডিজাইন কিউরেটর হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি সিনেমায় অভিনয় করে বলিউড থেকে বিদায় নিলেও ‘স্বদেশ’-এর গীতা চরিত্রকে গায়েত্রী জোশিকে এখনও মনে রেখেছেন দর্শকরা। শাহরুখ খানের বিপরীতে তার সেই অভিনয় সিনেমাপ্রেমীদের কাছে দুই দশকেরও বেশি সময় পরও পরিচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ