০৩:৩৯ পি.এম
মালয়েশিয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে এয়ার ট্যাক্সি এবং ড্রোন সেবা চালুর লক্ষ্যে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী লোকে সিউ ফুক, যা দেশটির উদীয়মান নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতিকে আঞ্চলিক পর্যায়ে এক ধাপ এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
এই পরিকল্পনার আওতায় দেশের আকাশসীমায় চালকবিহীন উড়োজাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব মালয়েশিয়াকে (সিএএএম) একটি ব্যাপকভিত্তিক আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী আরও জানান যে, এই আইনি কাঠামো নিরাপদ আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা এবং কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি শিল্পের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিএএএম আগামী ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে সীমিত আকারে বাণিজ্যিক মালবাহী ড্রোন সেবা চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে যাত্রীবাহী ড্রোন এবং এয়ার ট্যাক্সি সেবার মত সংবেদনশীল প্রযুক্তিগুলো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আগে আরও নিবিড় গবেষণা ও পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের প্রয়োজন হবে, এমন অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, ঐতিহ্যবাহী এভিয়েশন শিল্পের তুলনায় এই খাতটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায়, মালয়েশিয়া ড্রোন ও এয়ার ট্যাক্সির রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, ওভারহোলিং এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। মূলত ১ হাজার মিটার বা তার কম উচ্চতায় পরিচালিত পণ্য পরিবহন, অবকাঠামো পরিদর্শন, জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত এয়ার মোবিলিটি সেবার মত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো এই লো-অ্যালটিটিউড ইকোনমির আওতাভুক্ত।
সিএএএম-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূরাজমান মাহমুদ জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার এই নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে দেশের আইন অনুযায়ী বিদেশি অপারেটরদের এখানে কার্যক্রম শুরু করার আগে অবশ্যই স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগ গঠন করতে হবে।
পরিবহনমন্ত্রী লোকে সিউ ফুক সাংবাদিকদের জানান, এই রোডম্যাপটি অপারেটর, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে, যার পূর্ণাঙ্গ ব্লুপ্রিন্ট চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
চীনসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে বর্তমানে পণ্য সরবরাহ, যাত্রী পরিবহন এবং অগ্নিনির্বাপণের মত কাজে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে, যার ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার গ্রামীণ কৃষি খাতে ড্রোনের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন