মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৮ পি.এম
বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে কর্মী নিয়োগের প্রেক্ষাপটে অস্থায়ী কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের নিচতলায় আয়া, সুইপার, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য পদে কর্মরত নিয়োগবঞ্চিত কর্মচারীরা এ কর্মসূচি পরিচালনা করেন। এ সময় তারা ওয়ার্ড মাস্টারের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
কর্মচারীদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাসে তারা মাসে মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনে অস্থায়ীভাবে কাজ করে আসছিলেন। তাদের বলা হয়েছিল, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই আশায় অনেকেই বছরের পর বছর ধরে নামমাত্র বেতনে সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু তাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আয়া, সুইপার, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য পদে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা কর্মস্থলে যোগ দিতে এলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অস্থায়ী কর্মচারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে তারা হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
হাসপাতালে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আয়ার কাজ করা লাকি বেগম বলেন, "আমি এই হাসপাতালে মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনে ১৫ বছর ধরে আয়ার কাজ করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। উল্টো আমাদের কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। আমরা এই অবিচার মেনে নেব না। আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে।"
হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনারের কাজ করা নোমান বলেন, "মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নামমাত্র বেতনে কাজ করিয়েছে। অথচ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন করে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ আমাদের প্রাপ্য ছিল। আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া হলে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করে নেব।"
এ বিষয়ে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, "আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন যে ২৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই।"
তিনি আরো বলেন, "সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জনবল নিয়োগের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে। পরে ওই প্রতিষ্ঠান নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া বা কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কিছু করার সুযোগ ছিল না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিয়োজিত টহল পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ২৮ মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রতন ব্যাপারী নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া রতন ব্যাপারী বগুড়া সদর উপজেলার উত্তর চেলোপাড়া এলাকার বাদল ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রতনের বিরুদ্ধে চুরি, মাদক এবং ডাকাতির প্রস্তুতি সহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া সদর থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) পেন্ডিং রয়েছে। আহত এএসআই উজ্জ্বল বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
জানা গেছে, সারা দেশের মতো বগুড়াতেও দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাস্তাঘাটের যানজট নিরসন, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ টহল পুলিশের ব্যবস্থা করে। যাতে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং পকেটমারদের খপ্পরে না পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের টহল দল দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডে অবস্থান করার সময় চার-পাঁচজন পকেটমার অপরাধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ তাদের মধ্যে থেকে রতনকে ধরে ফেললে তার সঙ্গে থাকা লোকজন ও আশপাশের আত্মীয়-স্বজনরা পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ সদস্য উজ্জ্বল আহত হন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, "পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং থাকবে। চলতি ও গত মাস মিলিয়ে আমরা ৩০-৩৫ জন পকেটমারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি, যারা এখনো কারাগারে আছেন। পকেটমারদের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভাতিজার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে মোকসেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, তার নাতি তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানার নব্ধিগঞ্জ কলাবাড়ী এলাকার মৃত সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে মঙ্গলবার রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে হত্যাকাণ্ডের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বড় বোন মাজেদা বেগম মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী জানান, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সফরের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বর্তমানে চলমান মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সংকটের সময় পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। আসিম মুনিরের এই সফর আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) একটি অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার মধ্যরাতে, ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি টিম বাড়িটিতে অভিযান চালায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়িতে নিয়মিত মাদক সেবনের আসর বসত এবং ডিজে পার্টিও অনুষ্ঠিত হতো। বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ সেখানে মাদক সেবনের জন্য আসতেন। তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত আছেন।
অভিযানের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেছেন, অতিরিক্ত ডিআইজি অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। যাঁরা ভাড়া নিয়েছিলেন, তাঁরা বাড়িটি মাদকসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতেন। আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী রয়েছেন।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিচারের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে এবং প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ