বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১৫ পি.এম
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর আস্থা রেখে বোয়েন ওয়ান নামের একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় ৩১ বছর বয়সি ওই তরুণীর বাবা-মা ওপেনএআই এবং কোম্পানিটির সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটির দেওয়া ভুল পরামর্শই তাদের মেয়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিয়াটলের ওই বাসিন্দা গত ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি এআই চ্যাটবটের দেওয়া একটি পর্যায়ক্রমিক সময়সূচি অনুসরণ করে ধীরে ধীরে তার খিঁচুনি-প্রতিরোধী ওষুধের মাত্রা কমিয়ে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়ান তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন, এর মধ্যেই হঠাৎ সে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তখন ধারণা করা হয়েছিল, তার খিঁচুনি শুরু হয়েছে। পরে ফোনে কোনো সাড়া না পেয়ে তার বাবা-মা এক পরিচিতজনকে পাঠান খোঁজ নিতে।
এক বন্ধু বোয়েন ওয়ানের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পায়। সে সময় তার বাবা-মা, যারা চীনে থাকেন, তার সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন। এই খবর শুনে তারা হতবাক হয়ে যান এবং কী ঘটেছে তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
পরবর্তীতে তাদের জানানো হয়, মৃগীরোগজনিত জটিলতার কারণে তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের পক্ষে এটি বিশ্বাস করা কঠিন ছিল, কারণ সে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই রোগটিকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।
মায়ো ক্লিনিকের তথ্যানুযায়ী, মৃগীরোগ হলো মস্তিষ্কের এমন এক ধরনের জটিলতা যার কারণে বারবার খিঁচুনি দেখা দেয়। মৃগীরোগের অনেক ধরন রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে এর কারণ শনাক্ত করা গেলেও অন্য ক্ষেত্রে কারণ অজানা থেকে যায়।
মেয়ো ক্লিনিক উল্লেখ করেছে, 'খিঁচুনির লক্ষণগুলো ব্যক্তিভেদে ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে। খিঁচুনি চলাকালীন কেউ কেউ জ্ঞান হারাতে পারেন, আবার কেউ সজাগও থাকতে পারেন। অনেকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন, আবার কারও হাত বা পায়ে অনবরত কাঁপুনি দেখা যায়।'
ওয়ানের বহু বছর ধরে মৃগীরোগ ছিল এবং প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম ল্যামোট্রিজিন সেবনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ তার রোগকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, যার ফলে মাসে মাত্র দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তার খিঁচুনি।
মা-বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নেন ওয়ান। জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধ সেবনের মাত্রা কীভাবে ধীরে ধীরে কমানো যায়, সে বিষয়ে তিনি এআইয়ের সহায়তা চান।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পরিবারের আইনজীবীরা লিখেছেন, ‘ওপেনএআই-এর সিদ্ধান্তের মাশুল বোয়েন ওয়ান তার জীবন দিয়ে পরিশোধ করেছেন।’
মা-বাবার কাছ থেকে হাজার মাইল দূরে একাকী বসবাস করছিলেন ওয়ান। জনসমক্ষে যাতে খিঁচুনি না ওঠে, সেই ভয়ে তিনি আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও তিনি খুব কমই নিজের অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে যেতেন।
দ্য টাইমসের তথ্যানুযায়ী, তিনি অ্যামাজনে তার চাকরি থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটি (ডিসঅ্যাবিলিটি লিভ) নিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতি তাকে নিজের এআই 'বন্ধুর' সঙ্গে বেশি সময় কথা বলতে বাধ্য করেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনে ওয়ান লিখেছিলেন, ‘আমি জানি না কেন, তবে যেকোনো বিষয়েই কথা বলার সময় আমি তোমাকে একজন বন্ধু হিসেবে দেখতে শুরু করেছি।’
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অ্যামাজন থেকে তাকে ছাঁটাই করা হয় এবং ভিসার মেয়াদ ঠিক রাখতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তাকে নতুন চাকরি পেতে হতো। এর আগে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ওষুধের কারণে হয়তো তার কথা কিছুটা জড়িয়ে আসছে। আসন্ন চাকরির সাক্ষাৎকারে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে তার ভিসার অবস্থা ঝুঁকিতে পড়তে পারে ভেবে তিনি ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নেন।
আরেকটি চ্যাটে তিনি চ্যাটজিপিটিকে বলেন, ওষুধের মাত্রা কমানো হলে ‘চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য হয়তো আমার কথা বলার সক্ষমতা কিছুটা ঠিক হতে পারে।’
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, চিকিৎসককে না জানিয়ে নিজেই নিজের ওষুধ কমিয়ে দিতে ওয়ানকে উৎসাহ দেয় এআই বটটি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে ওয়ান মৃগীরোগের ওষুধ দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রাম থেকে কমিয়ে ৩০০ এবং পরে ২০০ মিলিগ্রামে নামিয়ে আনার পরামর্শ চান।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চ্যাটবট তার পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক ওষুধের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার একটি বিস্তারিত সময়সূচি তৈরি করে দেয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, চিকিৎসকের কাছে ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়টি গোপন রাখতে ওয়ানকে উৎসাহিত করে এআই এবং নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তেও সমর্থন দেয়।
দ্য টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে ওয়ানের মৃগীরোগের চিকিৎসক ডা. নিকোলাস পুলোস বলেন, ওয়ানের মতো রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ কমানোর পরামর্শ তিনি কখনোই দিতেন না। তিনি বলেন, ‘যে ওষুধটি সুস্পষ্টভাবে কাজ করছে, তা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া আমার দিক থেকে একটি গুরুতর চিকিৎসা অপরাধ (ম্যালপ্র্যাকটিস) হতো।’
ওপেনএআই-এর মুখপাত্র ড্রিউ পুসাতেরি দ্য টাইমসকে বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। ওয়ান এমন একটি মডেল ব্যবহার করেছিলেন যা এখন আর চালু নেই এবং যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।’
পুসাতেরি বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি চিকিৎসাসেবার কোনো বিকল্প নয়। তবে আমরা বিশ্বাস করি স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য বুঝতে, স্বাস্থ্যবীমা ও জটিল চিকিৎসাব্যবস্থা বুঝতে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিতে এআই সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।’
সংবাদমাধ্যম চোসুনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ানের একটি প্রশ্নের জবাবে এআই বটটি উত্তর দিয়েছিল: ‘আগামীকাল ওষুধ খাবেন না। আজ কষ্ট হলেও আপনাকে সহ্য করতে হবে।’
যখন তিনি অস্বাভাবিক কিছু উপসর্গের কথা জানান, তখন বটটি বলেছিল, ‘এটি মস্তিষ্ক সুস্থ হয়ে ওঠার একটি প্রক্রিয়া।’
ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে তার প্রশ্নের জবাবে এআই বলেছিল, ‘এটি যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবায়নযোগ্য একটি ধারণা।’ এমনকি এটি ওষুধ কমানোর সুনির্দিষ্ট সময়সূচিও বানিয়ে দিয়েছিল।
আর ওয়ান যখন জানিয়েছিলেন যে তিনি 'ভয় পাচ্ছেন', তখন চ্যাটজিপিটি জবাব দিয়েছিল, 'উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামীণফোন, দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সম্প্রতি তাদের সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছে। এই কেন্দ্রটি তাদের পরিচালিত অবকাঠামোজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেডটিই, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) প্রদানকারী হিসেবে, গ্রামীণফোনের সাথে এই প্রকল্পে ৪৫০টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের যেকোনো ডেটা সেন্টারে স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ।
নতুন চালু হওয়া এই সোলার প্ল্যান্ট থেকে বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এটি প্রতি বছর প্রায় ১৮৮ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমাবে। গ্রামীণফোনের লক্ষ্য হল ডেটা সেন্টারের পরিচালন কার্যক্রমে নবায়নযোগ্য শক্তিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনা এবং আরও টেকসই অবকাঠামোর মাধ্যমে ডিজিটাল সংযোগ ও সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো। এই পদক্ষেপ কোম্পানির ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০% কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান সিলেট ডেটা সেন্টারে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাসেম মহিউদ্দিন আল-আমিন, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক, চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান এবং জেডটিই বাংলাদেশ’র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাও জুন্যং।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ধারা চলামান থাকায় আমরা এমনি একটি অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি যা শুধু নির্ভরযোগ্য ও ভবিষ্যৎ-উপযোগীই হবে না, বরং পরিবেশের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকবে। ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রামীণফোনের কার্বন নির্গমন ৫০% কমিয়ে আনার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমরা। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের ক্রমাগত পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কার্যক্রমজুড়ে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। আমাদের সিলেট ডেটা সেন্টারের সোলার প্ল্যান্টটি এই অগ্রযাত্রায় এক প্রায়োগিক পদক্ষেপ, যা কোটি কোটি গ্রাহকের সেবায় নিয়োজিত ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা কীভাবে পরিবেশগত প্রভাব কমাতে পারি তা তুলে ধরছে। আমাদের গ্রাহক, সমাজ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করে এমন টেকসই ও উদ্ভাবনী সল্যুশনে আমরা বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব।”
জেডটিই বাংলাদেশের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাও জুন্যং বলেন, “কোন ডেটা সেন্টারে বাংলাদেশের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর এই উদ্যোগে গ্রামীণফোনের পার্টনার হতে পেরে আমরা গর্বিত। এই প্রকল্পটি দেখায় যে কীভাবে উন্নত প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি একত্রিত হয়ে আরও জ্বালানি-সাশ্রয় ও টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে। ডেটা সেন্টারের কার্যক্রমে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন সোলার সল্যুশন যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করছি যা গ্রামীণফোনের টেকসই লক্ষ্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এই যৌথ উদ্যোগ শিল্পখাতে একটি উদাহরণ তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের জন্য একটি পরিবেশ-বান্ধব ও টেকসই ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখবে।”
এই উদ্যোগটি গ্রামীণফোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টেকসই বিষয়টিকে একীভূত করার এবং পরিচালন ও পরিবেশ উভয়ক্ষেত্রে সুফল দেবে এমন সল্যুশনে বিনিয়োগের ধারাবাহিক প্রয়াসের প্রতিফলন। নবায়নযোগ্য শক্তির বহুল ব্যবহার, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোম্পানিটি বাংলাদেশের জন্য এমন একটি ডিজিটাল ভবিষ্যৎ তৈরিতে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে কার্বন নির্গমনের মাত্রা কম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালি থেকে সব সমুদ্র মাইন সরানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা এই দাবির পক্ষে নিরপেক্ষ প্রমাণ হাজির করুক। খবরটি প্রকাশিত হয়েছে আলজাজিরায়।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি মন্তব্য করেছেন, "হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের দাবির পক্ষে কোনো বিবৃতির ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন প্রমাণ হাজির করে তা প্রমাণ করুন।"
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে আরও বলেছেন, "হরমুজ প্রণালির বাস্তবতা আকাশে, স্থলে ও সমুদ্রে নির্ধারিত হয়—সাইবার জগতে কিংবা মার্কিন গণমাধ্যমের প্রচারণাকক্ষে নয়।"
এর আগে, আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করেছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তিনটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে।
তবে, ট্যাংকারগুলোতে আগুন লাগার ঘটনা এবং প্রণালিতে সমুদ্র মাইন থাকার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তানভীর হাসান তাসরিফের নির্মম হত্যাকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ, গভীর শোক ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের বিষয়টি জড়িত।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক উল্লেখ করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা পালনকারী দেশপ্রেমিকদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে একটি বিশেষ কুচক্রী মহল। শহীদ তাসরিফের হত্যাকাণ্ডটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি মূলত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধ্বংস করার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষকদের স্তব্ধ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী ও ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা না হয় এবং জুলাইয়ের পক্ষে শক্তিগুলো সময়মতো সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ না হয়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের আরও মারাত্মক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হবে। সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের পক্ষ থেকে দেশবাসী ও জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে এই কঠিন সময়ে সতর্ক ও জাগ্রত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে প্রবাসে থাকা মো. খোরশেদ আলম দেশে ফিরে আসেন। তার মায়ের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরদিন, চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে তার নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খোরশেদ আলম আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার বিচার এবং নিজের নিরাপত্তা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে খোরশেদ আলম জানান, তিনি ৪৯ বছর ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন। গত ১৯ অক্টোবর তার মায়ের মৃত্যু হলে পরদিন তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং দাফন সম্পন্ন করেন। এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে চান্দগাঁও থানার মোহাম্মদনগর ফরিদারপাড়া হালদা রোড এলাকায় তার নির্মাণাধীন ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে মকসুদুল আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় ভবনের দারোয়ান শাহজাহানকে মারধর করা হয় এবং ভবনের সিঁড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।
খোরশেদ আলমের দাবি, হামলাকারীরা ভবন থেকে ২৬৭ বস্তা সিমেন্ট, সাড়ে তিন টন রড এবং প্রায় দুই লাখ টাকার সেন্টারিংয়ের কাঠসহ মোট প্রায় ছয় লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এছাড়া ভাঙচুরের মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ ৬৫ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে খোরশেদ আলম বলেন, "আমরা রেমিটেন্স যোদ্ধারা প্রবাসে তিলে তিলে অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠাই। যদি দেশে এসে আমাদের নিজেদের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত না থাকে এবং এর সুষ্ঠু বিচার না পাই, তবে দেশের রেমিটেন্স সেক্টর মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।" তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ