০৯:০০ পি.এম
রাজশাহীতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর জন্য দাবিতে হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন আলুচাষি এবং ব্যবসায়ীরা। তাঁরা ঘোষণা করেছেন, ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা হিমাগার থেকে আলু বের করবেন না। কর্মসূচির প্রথম দিনে জেলার বিভিন্ন হিমাগারে সংঘটিত হয়েছে এক ধরনের অচলাবস্থা। চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, হিমাগারের প্রকৃত খরচ বিবেচনা করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা জরুরি। যদি এই ভাড়া না কমানো হয় তাহলে তাঁদের উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি সরাসরি প্রভাব ফেলবে আলুচাষি, ব্যবসায়ী এবং সর্বশেষ ভোক্তার ওপরও। অন্যদিকে, হিমাগার মালিকদের দাবী, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার সরকার কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করে দেখা যায়, হিমাগার থেকে আলু বের করার কোনো কার্যক্রম নেই। একই অবস্থা লক্ষ্য করা যায় পাশের উত্তরা কোল্ড স্টোরেজেও। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায়, এই কোল্ড স্টোরেজগুলোর সামনে আলু কেনাবেচা, লোড-আনলোড ও পরিবহনের ব্যস্ততা থাকলেও, আন্দোলনের কারণে সকাল থেকে এখানে স্থবির পরিবেশ বিরাজমান। আলুচাষিদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি আগের দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। সংগঠনের নেতারা জানান, হিমাগারের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুক্ষীন হয়েছেন। তাই তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আলু বেচাকেনা বন্ধ রাখবে তাঁরা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে, মঙ্গলবার থেকে সমিতির আওতাধীন ৩৬টি হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার বিকালে পবার তকিপুর এলাকার সমিতির প্রধান কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। তিনি জানান, ২০২৫ সাল থেকে হিমাগারে ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করে আসছেন। প্রতি বস্তা আলুর জন্য ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পরে তা সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় উন্নীত হয়। পরবর্তীতে, ওই বছর কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ও ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন একতরফাভাবে আলুর ভাড়া বাড়িয়ে বস্তাপ্রতি মূল্য ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করে। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ জানান, এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে মালিকপক্ষের সর্বোচ্চ খরচ হয় ১০০ টাকা। কিন্তু চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪৭৫ টাকা। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বটে। তিনি আরো বলেন, পূর্বে হিমাগার ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তখন দেশের পরিস্থিতির কারণে সুশীল সমাজ, আর্মি এবং রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেছিলেন। বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক সরকার এলে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এখনও কোনো সুরাহা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন