ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৩৯ অভিবাসীর মৃত্যু, ৮৪ জন নিখোঁজ


জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৩৯ অভিবাসীর মৃত্যু, ৮৪ জন নিখোঁজ

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : ইয়েমেনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে জিবুতির উপকূলে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাতিসংঘের একটি সংস্থা রোববার জানায়, এ ঘটনায় আরও ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এক বিবৃতির মাধ্যমে নাইরোবি থেকে এএফপি জানায়, ৩০৫ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি গত ৮-৯ অক্টোবর রাতে জিবুতির ওবক শহরের উত্তরে উল্টে যায়। যাত্রীদের অধিকাংশই ইথিওপীয় নাগরিক ছিলেন।

আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়িসাক এএফপিকে বলেন, ‘বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা আমাকে জানিয়েছেন, নৌকায় ওঠার পরপরই সেটি পেছনের দিকে ডুবতে শুরু করে।’

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

তিনি এর আগে বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি প্রাণহানির এক ভয়াবহ ঘটনা।’

কোয়িসাক আরও বলেন, ‘যারা বেঁচে ফিরেছেন এবং যারা স্বজন হারিয়েছেন কিংবা এখনও তাদের স্বজনদের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না, তাদের সবার প্রতি আমাদের সমবেদনা।’

আইওএম প্রথমে ১০৯ জনের মৃত্যু ও ১১৬ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছিল। পরে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর সংস্থাটি সংশোধিত বিবৃতিতে জানায়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৯ এবং নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৮৪ হয়েছে।

কোয়িসাক বলেন, জরুরি সহায়তা দিতে আইওএমের দল জিবুতির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

তিনি উল্লেখ করেন, ‘অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে ইয়েমেনে এবং সেখান থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে এই অভিবাসনপথে মানুষ কী ধরনের বিপদের মুখোমুখি হন, এ মর্মান্তিক ঘটনা তারই নির্মম স্মারক।’

কোয়িসাক জানান, নৌকাডুবিতে বেঁচে যাওয়া একজনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। ওই ব্যক্তি উত্তর ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলের বাসিন্দা। সেখানে সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্যে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের লড়াই চলছে।

বিপজ্জনক ইয়েমেন রুট

আইওএমের প্রাথমিক বিবৃতি অনুযায়ী, এর আগে উদ্ধার করা ১০৯টি মরদেহের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও ১৫টি শিশু ছিল। শিশুদের মধ্যে নয়জন মেয়ে ও ছয়জন ছেলে।

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, নৌকাডুবিতে বেঁচে যাওয়া ৮২ জনই ইথিওপীয় নাগরিক।

আইওএম বলেছে, ‘দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব অনেক মানুষকে এই বিপজ্জনক যাত্রায় নামতে বাধ্য করছে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে।’

সংস্থাটি জানায়, ওবকের একটি অভিবাসী কেন্দ্রে ৬৪ জন বেঁচে ফেরা ব্যক্তিকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় জিবুতির কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

আইওএম এই ঘটনাকে ওই অভিবাসনপথে নথিভুক্ত ‘সবচেয়ে প্রাণঘাতী নৌকাডুবির ঘটনাগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেছে।

আইওএমের মুখপাত্র কেনেডি ওমোন্দি ওকোথ এ সপ্তাহে এএফপিকে বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইথিওপিয়া থেকে ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ জিবুতিতে পৌঁছেছেন।

তিনি জানান, ইয়েমেনে সংঘাত বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষের সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা শনাক্ত করেছে আইওএম।

সৌদি আরব-সমর্থিত সরকার ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ে ইয়েমেন বিপর্যস্ত। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতেও হুতিরা যোগ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

কোয়িসাক বলেন, জিবুতির উপকূলে ডুবে যাওয়া নৌকাটির ১৫০ জন যাত্রীকে এর আগে ইয়েমেন থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তারা আবার সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেন।

ইথিওপীয় ও সোমালীয় অভিবাসী

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইয়েমেন যাওয়ার সমুদ্রপথে ৯০০ জনের বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয় অথবা তারা নিখোঁজ হন। ওই বছর এ পথে যাত্রার চেষ্টাও ১৮ শতাংশ বেড়েছিল।

২০২৬ সালের মার্চে আরেকটি নৌকাডুবিতে নয়জনের মৃত্যু হয় এবং ৪৫ জন নিখোঁজ হন।

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

ওকোথ বলেন, এ পথে যাত্রার চেষ্টাকারীদের অধিকাংশই ইথিওপিয়া অথবা সোমালিয়ার নাগরিক।

তিনি বলেন, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত জিবুতিতে ‘আটকে পড়ছেন’।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কেউই এমন নৌকায় ওঠেন না, যদি না তিনি বিশ্বাস করেন যে নিরাপদে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই মৃত্যুগুলোকে আর স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করতে পারি না। নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনপথ মানুষের জীবন বাঁচায়। পরবর্তী নৌকাটি ডুবে যাওয়ার আগেই আমি সরকার ও দাতাদের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আইওএম জিবুতির অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং জীবন রক্ষাকারী সহায়তাসহ দেশটির কার্যক্রমে সহায়তা বাড়াতে ‘দাতা সংস্থা ও অংশীদারদের’ প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক কেফায়েত উল্লাহ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪০ এম


মুন্সীগঞ্জে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক কেফায়েত উল্লাহ গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ কেফায়েত উল্লাহ (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় নির্মাণাধীন টোল প্লাজার নতুন অফিসের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে পাকা সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া কেফায়েত উল্লাহ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পুরান পল্লান পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. সেলিম।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুক্তারপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে কেফায়েত উল্লাহর কাছ থেকে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কামরুল হাসান পিপিএম।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, জেলায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধ দমনে এসব অভিযানকে আরও জোরদার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ে ২৩৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় বিশেষ নজর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪০ এম


ধামরাইয়ে ২৩৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় বিশেষ নজর

শরতের নীল আকাশ, সাদা কাশফুল এবং সোনালি রোদের আবহে দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা প্রকৃতির মাঝে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে পূজার প্রস্তুতিতে শিল্পী ও আয়োজকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ। কোথাও দেবী দুর্গার প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা, কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। ঢাকার ধামরাইয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে এই ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সব প্রস্তুতি শেষে দুর্গোৎসব আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে।

এবার ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২৩৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসার কারণে প্রতিমা নির্মাণের শেষ ধাপের কাজ সারতে কারিগরেরা ব্যস্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে উৎসব নির্বিঘ্ন করতে মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ

ধামরাইয়ে প্রতিমা নির্মাণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাটির অবয়ব তৈরির পর দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমায় রং ও কারুকাজ করছেন শিল্পীরা। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তাঁদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রের দোকানগুলোতেও চলছে প্রস্তুতি।

ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর বাড়িতে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন শ্রমিক স্বপন পাল। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, "চার দিন আগে আমাদের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে রং করার কাজ শুরু করেছি।"

তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেলেও সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক বাড়েনি বলে জানিয়েছেন কারিগরেরা। ধামরাই পৌরসভা এলাকার একটি মণ্ডপে কাজ করা শ্রমিক শ্যামল পাল বলেন, "রঙের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাজের মূল্য সেই হারে পাওয়া যায় না।"

ধামরাইয়ের একটি মণ্ডপের পূজা আয়োজক জানান, "শিল্পীদের কাজ এখনো চলছে। আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরপর কাজ শেষ হয়ে যাবে।"

মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে ধামরাইয়ে মন্দিরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধামরাই উপজেলা মন্দির কমিটির সদস্যসচিব রণজিৎ পাল বলেন, "প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে।"

পূজার সময় শব্দযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে নামাজ ও আজানের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে আশপাশের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটে।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, "বিশেষ করে নামাজ ও আজানের সময় সব পূজামণ্ডপে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার অবশ্যই সীমিত রাখতে হবে, যাতে আশপাশের কারও অসুবিধা না হয়। সাধারণত নামাজ ও আজানের সময় শব্দযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। এবারও সেটি চালু থাকবে। এ বিষয়ে সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে।"

২৩৪ মণ্ডপে পূজার আয়োজন

এবার ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে ২৩৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ধামরাই পৌরসভা এলাকায় রয়েছে ৪৬টি মণ্ডপ। প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করার পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আয়োজকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গোৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। তাই উৎসবের আনন্দের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ যথাসময়ে শেষ হবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মন্দির কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্যোগে ধামরাইয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে এক রাতে তিনটি সরকারি বিদ্যালয়ে চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪১ এম


হবিগঞ্জে এক রাতে তিনটি সরকারি বিদ্যালয়ে চুরি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক রাতের মধ্যে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়গুলো হলো উপজেলার বহরা ইউনিয়নের দলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চৌমুহনী ইউনিয়নের কালিকাপুর ও গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ঘটনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে সংঘটিত চুরির ঘটনায় দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়গুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের পানির ট্যাপসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই রাতে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনার কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় তিনটি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, মাদকাসক্ত কিছু ব্যক্তি রাতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রবেশ করে মাদক সেবন এবং পরে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে থাকতে পারে। তবে চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চুরির যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। আমরা পড়াব, নাকি চোর পাহারা দেব? এখন পানির লাইনের সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে।"

গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবিনা আক্তার বলেন, "আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে চুরি হওয়া সরঞ্জামগুলো পুনরায় স্থাপনের ব্যবস্থা করা হোক।"

এ বিষয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, বিদ্যালয়গুলোকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সার্কেল এএসপি মহোদয়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

এদিকে শিক্ষক নেতা ও সুরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়ন চৌধুরী বলেন, "প্রায়ই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চুরির ঘটনা ঘটছে। নৈশপ্রহরী না থাকায় কিছু বিদ্যালয়ের অবস্থা বেশি খারাপ। চুরির ঘটনায় দায়ের করা জিডি ও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে চুরির ঘটনা কমে আসবে।"

মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমান বলেন, "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার ছুটিতে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের জন্য সমন্বিত প্রস্তুতির নির্দেশ সড়কমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪১ এম


দুর্গাপূজার ছুটিতে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের জন্য সমন্বিত প্রস্তুতির নির্দেশ সড়কমন্ত্রীর

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে এবং পাঁচ দিনের টানা ছুটিতে ঘরমুখী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত প্রস্তুতির নির্দেশনা প্রদান করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার বেলা ৩টায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আরাধনা শারদীয় দুর্গাপূজা সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচ দিনের টানা ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। এই সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা যাত্রী হয়রানির কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপন করতে পারেন এবং পাঁচ দিনের ছুটিতে ভ্রমণকারী মানুষ যেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় দুর্গাপূজার ছুটিতে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ বাস সার্ভিস চালু, প্রয়োজনীয়সংখ্যক ফেরি প্রস্তুত রাখা, অনিয়ম প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সেতুর টোল প্লাজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন।

এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী রাখা, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে যাত্রীচাপ বিবেচনায় তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু এবং অন্যান্য রুটগুলোতে অতিরিক্ত কোচের ব্যবস্থা ও টিকিটের কালোবাজারি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জনসমাগম ও যাতায়াত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সড়ক, রেল ও নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, বাস মালিক সমিতি এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন এবং পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি সবার সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%