১২:৪১ এম
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন নিশ্চিত করতে এবং পাঁচ দিনের টানা ছুটিতে ঘরমুখী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত প্রস্তুতির নির্দেশনা প্রদান করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার বেলা ৩টায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আরাধনা শারদীয় দুর্গাপূজা সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচ দিনের টানা ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। এই সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
তিনি আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা যাত্রী হয়রানির কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন করতে পারেন এবং পাঁচ দিনের ছুটিতে ভ্রমণকারী মানুষ যেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় দুর্গাপূজার ছুটিতে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ বাস সার্ভিস চালু, প্রয়োজনীয়সংখ্যক ফেরি প্রস্তুত রাখা, অনিয়ম প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সেতুর টোল প্লাজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন।
এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী রাখা, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে যাত্রীচাপ বিবেচনায় তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু এবং অন্যান্য রুটগুলোতে অতিরিক্ত কোচের ব্যবস্থা ও টিকিটের কালোবাজারি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জনসমাগম ও যাতায়াত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সড়ক, রেল ও নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, বাস মালিক সমিতি এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন এবং পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি সবার সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন