ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড সৌদির


মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড সৌদির

ফেসবুকে ইসলাম এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আনোজান শিবারাসা নামের ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। তার জীবন রক্ষার জন্য সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন করেছে তার পরিবার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, "আমি আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।" শ্রীলঙ্কায় এই ঘটনার কারণে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি। সাজা কার্যকর হওয়ার সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। সৌদি আরবে অতীতে পরিবারের সদস্য বা বিদেশি দূতাবাসকে আগাম না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুন মাসের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার পর এক মুসলিম তরুণের একটি কুকুরকে লাথি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়।

বিতর্কের এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পরে তিনি মন্তব্যটি মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে এবং তা আনোজানের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জুলাই মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ করা হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো মুছে দেয়। আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসা বিবিসিকে জানান, সৌদি আরবে প্রথমে কেউ বিষয়টি জানতেন না। শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল পাঠানোর পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানালে আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর

আনোজানকে প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। তার সাজা কমানোর আবেদন করা হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয় বলে জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ।

এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় বড় পরিবর্তন আসে। সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে আনোজানের বিচার চেয়ে আপিল করে। আপিল আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনোজানকে সহায়তার জন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করে। প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করেন যে, আনোজানের জন্য সাধারণ ক্ষমা আদায়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

সৌদি যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিদল

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে আসা বেশিরভাগ ওষুধই পাকিস্তান থেকে পাচার হওয়া: তালেবান

আনোজানের মামলার বিষয়ে তার সৌদি আরবের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে শ্রীলঙ্কার চার সদস্যের একটি আইনি প্রতিনিধিদল দেশটিতে যাচ্ছে।

প্রতিনিধি দলের সদস্য প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল উপুল কুমারাপ্পেরুমা বলেন, সৌদি আরবে দুটি আইন প্রতিষ্ঠান আনোজানের মামলা পরিচালনা করছে। তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এদিকে আনোজানের পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ হয়েছিল। তার ভাই জানান, এরপর থেকে তারা তার কোনো ফোন পাননি। বিষয়টি তারা দূতাবাসকে জানিয়েছেন এবং তার অবস্থার বিষয়ে তথ্য চেয়েছেন। তবে এখনো কোনো উত্তর পাননি।

সৌদি কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের সাধারণত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলের বলসোনারো পরিবার ক্ষমতা ও নির্বাসনের দ্বন্দ্বে

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি আরবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে কঠোর সাজা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ২০২৩ সালে সৌদি নাগরিক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আল-গামদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সাজা বাতিল করে তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ১ কোটির বেশি বিদেশি শ্রমিক রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্বের অভাবে স্বল্প আয়ের অভিবাসী শ্রমিকরা দেশটির বিচারব্যবস্থায় বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১ লাখ টাকা অনুদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১ লাখ টাকা অনুদান

দিনাজপুর, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : হাবিপ্রবি’র পরিসংখ্যান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্যা চৌধুরী জিতুর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেছে।

গতকাল সোমবার রাতে দিনাজপুর হাবিপ্রবি’র জনসংযোগ বিভাগের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল সোমবার রাত ৯টায় হাবিপ্রবি’র মেধাবী শিক্ষার্থী অনন্যা চৌধুরী জিতুর বিরামপুর বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিসাব শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. এরফান আলী খোন্দকার, পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সাইফুর রহমান, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর মো. জিয়াউল হাসান, সহকারী প্রক্টর কাজী মো. ইউসুফ এবং অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

হাবিপ্রবি’র ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান বাসস’কে জানিয়েছেন, "মেধাবী শিক্ষার্থী জিতুর সড়ক দুর্ঘটনায় আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। মেধাবী, বিনয়ী ও সম্ভাবনাময় এই শিক্ষার্থী ছিল পরিবার ও হাবিপ্রবি’র গর্ব। তার এই চলে যাওয়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের গোয়েন্দা বিমান গোপনে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিল, ২৯ বছর পর ফাঁস হলো তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


ভারতের গোয়েন্দা বিমান গোপনে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিল, ২৯ বছর পর ফাঁস হলো তথ্য

১৯৯৭ সালের ২৭ মে। সেদিন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল ভারতের একটি মিগ-২৫ গোয়েন্দা বিমান। বিমানটি প্রায় ৬৫ হাজার ৬১৭ ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ২ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়ছিল। এতদিন এই ঘটনার বিষয়ে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও এবার সেই গোপন অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলো।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর তৎকালীন ট্রাইসনিকস স্কোয়াড্রনের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার প্রদীপ জস্বন্ত ঠাকুর জানিয়েছেন, ওই দিন একটি মিগ-২৫ সত্যিই পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করেছিল।

এনডিটিভির #CtrlAltDefence পডকাস্টে তিনি বলেন, বিমানটি প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় ২.৪ ম্যাক গতিতে উড়ছিল।

ঘটনার দিন পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। পাকিস্তান পরবর্তীতে ভারতীয় মিগ-২৫কে এই শব্দের জন্য দায়ী করে। আসলে শব্দগুলো ছিল ‘সনিক বুম’—শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে উড়ন্ত বিমানের কারণে সৃষ্ট শকওয়েভের শব্দ।

পরদিন ভারত দাবি করে, কোনো ভারতীয় সামরিক বিমান আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেনি। তবে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবে একটি মিগ-২৫ পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীও বিমানটি শনাক্ত করেছিল। তাদের ধারণা ছিল, সেটি প্রায় ৬০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে যাওয়া একটি ভারতীয় মিগ-২৫। পরে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আকাশে ওঠে বলে বিভিন্ন বর্ণনায় দাবি করা হয়। কিন্তু ফক্সব্যাট ততক্ষণে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল।

ভারতের মিগ-২৫ ছিল মূলত গোয়েন্দা ও ছবি তোলার কাজে ব্যবহৃত বিমান। এর নাকে পাঁচটি ক্যামেরা ছিল। চারটি ক্যামেরা পাশের বিস্তীর্ণ এলাকার ছবি তুলত এবং একটি ক্যামেরা সরাসরি নিচের দিকে তাক করে সঠিক স্থানাঙ্ক ধারণ করত। এসব ছবি সামরিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এ ধরনের অভিযান ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। স্কোয়াড্রনের সদস্যদের মধ্যে কেউ জানতেন না কখন বা কোথায় মিশন পরিচালিত হবে। ফোনে কোনো নির্দেশ দেওয়া হতো না। কমান্ডিং অফিসারকে সদর দপ্তরে ডেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য জানানো হতো। পরে নির্দিষ্ট পাইলটকে দায়িত্ব দেওয়া হতো।

১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময়ও মিগ-২৫কে ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। সেবার অনেক নিচু উচ্চতায় উড়িয়ে পাকিস্তানি অবস্থানের ছবি তোলা হয়। এসব ছবি ভারতীয় স্ট্রাইক পাইলটদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

তবে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মিগ-২৫-এর প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। অবশেষে ২০০৬ সালের ১ মে প্রায় ২৫ বছর সেবায় থাকার পর ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের মিগ-২৫ বহর অবসর দেয়।

অর্থাৎ, পাকিস্তানের আকাশসীমায় সেই রহস্যময় উড্ডয়নের প্রায় তিন দশক পর অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার হলো—ঘটনাটি নিছক গুজব ছিল না। ভারতীয় একটি মিগ-২৫ সত্যিই পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকেছিল।

তবে এ দাবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি পাকিস্তান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে আবারও ইলন মাস্কের নাম উঠে এসেছে। স্পেসএক্স এবং টেসলার শেয়ারমূল্যের বৃদ্ধির কারণে তিনি এই মাইলফলক অর্জন করেন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর তার সম্পদের মূল্য ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলার অতিক্রম করে। এর আগে, গত জুন মাসে প্রথমবারের মতো তিনি ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। তবে পরে শেয়ারের দাম কমে যাওয়ার কারণে তিনি সেই মর্যাদা হারান।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, একদিনে মাস্কের সম্পদ ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৬০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের তুলনায় বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। বেজোসের সম্পদের মূল্য বর্তমানে ৩৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

ইয়াহু ফিন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এক সপ্তাহে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে, টেসলার শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গতকাল টেসলার শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩৭৮ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৭১ ডলারে উঠে যায়।

স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কোম্পানির মূল্যায়ন সম্পর্কে মর্গ্যান স্ট্যানলির ইতিবাচক পূর্বাভাস এবং গত সপ্তাহে স্টারশিপের সফল কক্ষপথে পৌঁছানোর ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া, তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলার গাড়ি সরবরাহ বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় কোম্পানির শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, মাস্কের জীবন নিয়ে নির্মিত প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ আগামী শুক্রবার নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিচালক অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি নিয়ে মাস্ক সমালোচনা করেছেন এবং নির্মাতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুমকি দিয়েছেন।

সম্প্রতি, মাস্কের সাবেক সঙ্গী শিভন জিলিস তাদের সম্পর্কের ইতি টানার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন। জিলিস নিউরালিংকের নির্বাহী এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের দৌড়ে চীনা ও ক্যারিবীয় নারী লেখকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ এম


নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের দৌড়ে চীনা ও ক্যারিবীয় নারী লেখকরা

ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সাহিত্য সমালোচকেরা মনে করছেন যে, এ বছর নোবেল সাহিত্য পুরস্কারটি কোনো চীনা বা ক্যারিবীয় নারী লেখকের হাতে উঠতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষ লেখকদের জন্য এই পুরস্কারটি বেশি দেওয়া হয়ে আসলেও, এবার আরও বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য কোনো প্রকাশ্য সংক্ষিপ্ত তালিকা নেই। সুইডিশ একাডেমি পুরস্কার প্রদানকারী হিসেবে আলোচনা ও মনোনীত লেখকদের তালিকা ৫০ বছর ধরে গোপন রাখে। এই কারণে, স্টকহোমের সাহিত্যাঙ্গনে পুরস্কার ঘোষণার আগে সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার এই জল্পনার অবসান ঘটবে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা) ১৮ সদস্যের সুইডিশ একাডেমি এবারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।

অ্যান্টিগুয়া-আমেরিকান লেখক জ্যামাইকা কিনকেইড, যিনি ক্যারিবীয় সংস্কৃতি, পরিবার, পরিচয়, ঔপনিবেশিকতা ও বর্ণবৈষম্য নিয়ে লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁর বয়স ৭৭ বছর।

চীনের লেখক কান শুয়েকেও সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর পরীক্ষাধর্মী ও প্রচলিত ধারার বাইরে লেখা অনেকাংশে ফ্রানৎস কাফকার লেখার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

সুইডেনের দৈনিক এক্সপ্রেসেন-এর সংস্কৃতিবিষয়ক সমালোচক ভিক্টর মালম এএফপিকে বলেন, ‘জ্যামাইকা কিনকেইডের এবার পুরস্কার পাওয়ার সময় এসেছে।’

সুইডেনের সবচেয়ে বড় দৈনিক ডাগেনস নিহেটার-এর সংস্কৃতি সম্পাদক বিওর্ন উইমানও বলেন, কিনকেইডের নাম দীর্ঘদিন ধরে নোবেল পুরস্কারের আলোচনায় রয়েছে। গত বছর নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

নোবেলে নারীরা এখনও পিছিয়ে

কিনকেইডের ১৯৯০ সালের উপন্যাস ‘লুসি’ একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা তরুণীর আত্মজীবনীমূলক গল্প। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আয়া হিসেবে কাজ করতে শুরু করা ওই তরুণীর জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়েছে।

উইমান বলেন, ‘এটি ঠিক সেই ধরনের বই, যার মাত্র তিন লাইন পড়লেই মনে হয়—হ্যাঁ, এখানে একজন নোবেলজয়ী লেখকের কথা বলা হচ্ছে।’

তবে, কিনকেইডকে পুরস্কার দেওয়া হলে সেটিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবেও কেউ কেউ ব্যাখ্যা করতে পারেন। কারণ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক।

গত বছর ক্রাসনাহোরকাইকে পুরস্কৃত করে সুইডিশ একাডেমি আবারও ইউরোপের পুরুষ লেখকদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের পথেই হেঁটেছে। উইমান মনে করেন, এ বছর কমিটিকে সেই ধারা থেকে কিছুটা সরে আসা উচিত।

১৯০১ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার চালুর পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের পুরুষ লেখকদের আধিক্য নিয়ে সুইডিশ একাডেমি সমালোচিত হয়ে আসছে।

এ পর্যন্ত সাহিত্য নোবেল পাওয়া ১২২ জন বিজয়ীর মধ্যে নারী মাত্র ১৮ জন। এশীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের ভাষায় লেখা বিশাল সাহিত্যভাণ্ডার থেকেও খুব অল্পসংখ্যক লেখক স্বীকৃতি পেয়েছেন। আফ্রিকার কোনো ভাষায় লেখা সাহিত্য এখনো এই পুরস্কারের প্রতিনিধিত্ব পায়নি।

২০১৮ সালে যৌন নিপীড়নকে কেন্দ্র করে একটি কেলেঙ্কারির পর সুইডিশ একাডেমি বড় ধরনের সংকটে পড়ে। এরপর এর অর্ধেকেরও বেশি সদস্য পরিবর্তন করা হয়।

এরপর থেকে প্রতি দুই বছর পরপর একজন করে নারী লেখক সাহিত্য নোবেল পেয়েছেন। ফলে এবারও কোনো নারী লেখক পুরস্কার পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সুইডিশ একাডেমির বক্তব্য, লেখকের লিঙ্গ, অঞ্চল বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়—একজন লেখকের সাহিত্যকর্মের মানই তাদের একমাত্র বিবেচ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%