প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৯৯৭ সালের ২৭ মে। সেদিন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল ভারতের একটি মিগ-২৫ গোয়েন্দা বিমান। বিমানটি প্রায় ৬৫ হাজার ৬১৭ ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ২ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়ছিল। এতদিন এই ঘটনার বিষয়ে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও এবার সেই গোপন অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলো।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর তৎকালীন ট্রাইসনিকস স্কোয়াড্রনের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার প্রদীপ জস্বন্ত ঠাকুর জানিয়েছেন, ওই দিন একটি মিগ-২৫ সত্যিই পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করেছিল।
এনডিটিভির #CtrlAltDefence পডকাস্টে তিনি বলেন, বিমানটি প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় ২.৪ ম্যাক গতিতে উড়ছিল।
ঘটনার দিন পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। পাকিস্তান পরবর্তীতে ভারতীয় মিগ-২৫কে এই শব্দের জন্য দায়ী করে। আসলে শব্দগুলো ছিল ‘সনিক বুম’—শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে উড়ন্ত বিমানের কারণে সৃষ্ট শকওয়েভের শব্দ।
পরদিন ভারত দাবি করে, কোনো ভারতীয় সামরিক বিমান আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করেনি। তবে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবে একটি মিগ-২৫ পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।
পাকিস্তান বিমানবাহিনীও বিমানটি শনাক্ত করেছিল। তাদের ধারণা ছিল, সেটি প্রায় ৬০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে যাওয়া একটি ভারতীয় মিগ-২৫। পরে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আকাশে ওঠে বলে বিভিন্ন বর্ণনায় দাবি করা হয়। কিন্তু ফক্সব্যাট ততক্ষণে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল।
ভারতের মিগ-২৫ ছিল মূলত গোয়েন্দা ও ছবি তোলার কাজে ব্যবহৃত বিমান। এর নাকে পাঁচটি ক্যামেরা ছিল। চারটি ক্যামেরা পাশের বিস্তীর্ণ এলাকার ছবি তুলত এবং একটি ক্যামেরা সরাসরি নিচের দিকে তাক করে সঠিক স্থানাঙ্ক ধারণ করত। এসব ছবি সামরিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এ ধরনের অভিযান ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। স্কোয়াড্রনের সদস্যদের মধ্যে কেউ জানতেন না কখন বা কোথায় মিশন পরিচালিত হবে। ফোনে কোনো নির্দেশ দেওয়া হতো না। কমান্ডিং অফিসারকে সদর দপ্তরে ডেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য জানানো হতো। পরে নির্দিষ্ট পাইলটকে দায়িত্ব দেওয়া হতো।
১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময়ও মিগ-২৫কে ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। সেবার অনেক নিচু উচ্চতায় উড়িয়ে পাকিস্তানি অবস্থানের ছবি তোলা হয়। এসব ছবি ভারতীয় স্ট্রাইক পাইলটদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
তবে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মিগ-২৫-এর প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। অবশেষে ২০০৬ সালের ১ মে প্রায় ২৫ বছর সেবায় থাকার পর ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের মিগ-২৫ বহর অবসর দেয়।
অর্থাৎ, পাকিস্তানের আকাশসীমায় সেই রহস্যময় উড্ডয়নের প্রায় তিন দশক পর অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার হলো—ঘটনাটি নিছক গুজব ছিল না। ভারতীয় একটি মিগ-২৫ সত্যিই পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকেছিল।
তবে এ দাবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি পাকিস্তান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন