বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১২:০৬ পি.এম
রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ব্যাপকতা দেখা দিয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।
ড্রোন হামলায় শহরটির প্রধান বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন, যেখানে গভর্নর রাজভোঝায়েভ বলেন, কিছু এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, শত্রুপক্ষ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলা চালাচ্ছে। তবে পরিস্থিতির মধ্যে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়ার কারণে বয়স্ক প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানান, এ হামলায় ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে, বাখচিসারাই, কের্চ ও মাউন্ট আই-পেট্রি এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর, ২০১৪ সাল থেকে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে এলাকাটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত নেতা সের্গেই আকসিওনভ রবিবার সব ধরনের পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিছু গ্যারেজে এখনও পেট্রোল মজুত রয়েছে, তবে তা মূলত সরকারি সেবার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আতঙ্কে অনেক মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে চিনির ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এটি সড়ক ও রেলপথে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল দিয়ে একটি স্থলপথ এবং কের্চ প্রণালীর ওপর নির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর মাধ্যমে এই সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতে ইউক্রেন থেকে আসা ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০১টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার, ইউক্রেনের প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায়। হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর কালো তেলের মতো পদার্থ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে রাস্তায় পড়ে। তবে মস্কো কর্তৃপক্ষ এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই তেলমিশ্রিত বৃষ্টিতে তাদের পোশাকও নোংরা হয়ে যায়। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।
গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠান। তবে পুতিন ওই চিঠিকে ‘অশোভন’ বলে মন্তব্য করেন এবং সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালক কাউছার মিয়া (৩২) নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাউছার মিয়া নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার ভাটেরচর গ্রামের মৃত মুতি মিয়ার ছেলে।
পুলিশের তত্ত্বাবধানে ঘটনা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সকালে ঢাকাগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপ ভ্যান সিলেটগামী শাহ সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাক এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষে পতিত হয়। সংঘর্ষের পর পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। উক্ত সময়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই পিকআপ ভ্যানের চালক কাউছার মিয়ার মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে, পিকআপ ভ্যানের হেলপার, অটোরিকশাচালক এবং ট্রাকচালক সকলেই গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনা জানার পর শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা শেষে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নেন।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, সকালে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষের ফলে পিকআপ ভ্যানের চালক নিহত হয়েছেন এবং আহত তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন রেলগেট মহা সমস্যায় রয়েছে। লোকবল সংকট, ত্রুটিযুক্ত ব্যারিয়ারসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই রেলগেটগুলো। ট্রেন যখন আসছে, তখন নিয়ম ভেঙে রেললাইন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে; গেটম্যান কিংবা সিগনাল কিছুই নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার ওপর দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
এই বিষয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন বৈধ এবং অবৈধ অরক্ষিত রেলগেট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে অসংখ্য মানুষ। ট্রেন আসার আগে সিগনাল দিয়ে গেট বন্ধ থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা দেখা যাচ্ছে না।
বৈধ রেলগেটে তিনজন দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও, অনেক সময় একজন বা দুজনই দায়িত্ব পালন করেন। ফলে দুর্ঘটনার ঘটনায় কেউ কেউ আহত হচ্ছেন বা প্রাণ হারাচ্ছেন। গেল ছয় মাসে অন্তত আটজন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ২৭টি বৈধ এবং ৫টি অবৈধ রেলগেট রয়েছে। রেললাইনের ওপর দিয়ে মানব সৃষ্ট মোট প্রায় শতাধিক চলাচলের রাস্তা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে দিনে-রাতে আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে এবং জেলায় রেলপথের দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার।
স্থানীয়রা আরও জানান, বিভিনগত কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। দুধপাতিলা রেলগেটে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবক মারা যায়। যেখানে বৈধ গেটে লোকবল কম রয়েছে। রেলগেট নির্মাণ ও যথাযথ লোকবল দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। চলাচলকারীদের সচেতন হতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান এই সমস্যার ব্যাপারে জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত আছেন। যেখানে গেট এবং গেটম্যান নেই সেখানে সতর্কতার সঙ্গে পারাপার হওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। লোকবল কম থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
গত আট দিন আগে দুধপাতিলা রেলগেটে মহানন্দা ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু ঘটে। ১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে রেলপথে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্ব আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি করে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ কথা জানান।
৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হবে। এছাড়া, ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হবে বলেও তিনি জানান।
দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস পর দেশের সকল অঞ্চলে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন। এ দিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন পরবর্তী চার দিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এর আগে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করেন।
ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেন, আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য এরইমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআই’র নিয়মিত কেন্দ্র। এছাড়া আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে।
ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য ব্যবস্থা করবেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীতে শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।
অন্যদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন এবং মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (তাদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদারকি কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করার জন্য সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দিন, পরিবারে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আকুল আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না, বরং ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায়।
শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়েছিল। সে সময় এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। পরে ২০০৩ সাল থেকে এর নাম রাখা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান শান্তি চুক্তি কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিক এটিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সিবিএস নিউজের এক জরিপে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ওই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে। অন্যদিকে মাত্র ২২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, যদি আরো চাপ দেওয়া হতো তবে ইরানের কাছ থেকে অতিরিক্ত ছাড় আদায় করা সম্ভব হতো। কিন্তু যুদ্ধের সমাপ্তি বাড়তি আনন্দ দিলেও, অধিকাংশ আমেরিকান আসলে বিশ্বাস করেন যে, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কোনো সাফল্য বয়ে আনতে পারেনি।
জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিকটি হলো ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে জনমত। ট্রাম্পের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। তবে জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের প্রায় অর্ধেক মনে করছেন যে, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামাতে পারবেনা। অনেকের কাছে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রয়োজনীয় উপায়।
এছাড়া, ইরান যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফল নিয়েও মার্কিনদের মধ্যে হতাশার ছাপ রয়েছে। ৪৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে সফল হয়নি। অধিকাংশের ধারণা, যুদ্ধের আগে ইরান যেমন ছিল, এখনো ততটাই অথবা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একইসাথে ৫৭ শতাংশ নাগরিকের বিশ্বাস, এই যুদ্ধটি সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ফলে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিজয়ের বর্ণনার সাথে সাধারণ জনগণের মূল্যায়নের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, মার্কিনদের একটি বৃহৎ অংশ মনে করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিণতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। ৬৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংঘাতের প্রভাব প্রশাসনের ধারণার চেয়ে বেশি হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিকের মতে, প্রশাসন সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি, বরং যেকোনো মূল্যে সংঘাতের ইতি টানার প্রয়োজন থেকেই তারা এই চুক্তিতে পৌঁছেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ