প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান শান্তি চুক্তি কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিক এটিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সিবিএস নিউজের এক জরিপে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ওই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে। অন্যদিকে মাত্র ২২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, যদি আরো চাপ দেওয়া হতো তবে ইরানের কাছ থেকে অতিরিক্ত ছাড় আদায় করা সম্ভব হতো। কিন্তু যুদ্ধের সমাপ্তি বাড়তি আনন্দ দিলেও, অধিকাংশ আমেরিকান আসলে বিশ্বাস করেন যে, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কোনো সাফল্য বয়ে আনতে পারেনি।
জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিকটি হলো ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে জনমত। ট্রাম্পের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। তবে জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের প্রায় অর্ধেক মনে করছেন যে, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামাতে পারবেনা। অনেকের কাছে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রয়োজনীয় উপায়।
এছাড়া, ইরান যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফল নিয়েও মার্কিনদের মধ্যে হতাশার ছাপ রয়েছে। ৪৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে সফল হয়নি। অধিকাংশের ধারণা, যুদ্ধের আগে ইরান যেমন ছিল, এখনো ততটাই অথবা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একইসাথে ৫৭ শতাংশ নাগরিকের বিশ্বাস, এই যুদ্ধটি সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ফলে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিজয়ের বর্ণনার সাথে সাধারণ জনগণের মূল্যায়নের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, মার্কিনদের একটি বৃহৎ অংশ মনে করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিণতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। ৬৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংঘাতের প্রভাব প্রশাসনের ধারণার চেয়ে বেশি হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিকের মতে, প্রশাসন সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি, বরং যেকোনো মূল্যে সংঘাতের ইতি টানার প্রয়োজন থেকেই তারা এই চুক্তিতে পৌঁছেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন