ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিয়মের তোয়াক্কা নেই রেলগেটে, এত প্রাণহানির দায় নেবে কে?


নিয়মের তোয়াক্কা নেই রেলগেটে, এত প্রাণহানির দায় নেবে কে?

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন রেলগেট মহা সমস্যায় রয়েছে। লোকবল সংকট, ত্রুটিযুক্ত ব্যারিয়ারসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই রেলগেটগুলো। ট্রেন যখন আসছে, তখন নিয়ম ভেঙে রেললাইন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে; গেটম্যান কিংবা সিগনাল কিছুই নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার ওপর দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

এই বিষয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন বৈধ এবং অবৈধ অরক্ষিত রেলগেট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে অসংখ্য মানুষ। ট্রেন আসার আগে সিগনাল দিয়ে গেট বন্ধ থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে মাটিয়ান হাওরপাড় মাটিয়ান গ্ৰামে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

বৈধ রেলগেটে তিনজন দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও, অনেক সময় একজন বা দুজনই দায়িত্ব পালন করেন। ফলে দুর্ঘটনার ঘটনায় কেউ কেউ আহত হচ্ছেন বা প্রাণ হারাচ্ছেন। গেল ছয় মাসে অন্তত আটজন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ২৭টি বৈধ এবং ৫টি অবৈধ রেলগেট রয়েছে। রেললাইনের ওপর দিয়ে মানব সৃষ্ট মোট প্রায় শতাধিক চলাচলের রাস্তা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে দিনে-রাতে আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে এবং জেলায় রেলপথের দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার।

স্থানীয়রা আরও জানান, বিভিনগত কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। দুধপাতিলা রেলগেটে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবক মারা যায়। যেখানে বৈধ গেটে লোকবল কম রয়েছে। রেলগেট নির্মাণ ও যথাযথ লোকবল দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। চলাচলকারীদের সচেতন হতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান এই সমস্যার ব্যাপারে জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত আছেন। যেখানে গেট এবং গেটম্যান নেই সেখানে সতর্কতার সঙ্গে পারাপার হওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। লোকবল কম থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ভৈরবে দোকান ও বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় বিকাশে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওসি মাহবুবুর রহমান

গত আট দিন আগে দুধপাতিলা রেলগেটে মহানন্দা ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু ঘটে। ১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে রেলপথে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাস অনুসারে শিশুদের নীল ও লাল রঙের ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


মাস অনুসারে শিশুদের নীল ও লাল রঙের ভিটামিন

জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্ব আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি করে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ কথা জানান।

৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হবে। এছাড়া, ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হবে বলেও তিনি জানান।

দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস পর দেশের সকল অঞ্চলে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন। এ দিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন পরবর্তী চার দিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এর আগে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করেন।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেন, আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য এরইমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআই’র নিয়মিত কেন্দ্র। এছাড়া আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে।

ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য ব্যবস্থা করবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীতে শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

অন্যদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন এবং মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (তাদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদারকি কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করার জন্য সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দিন, পরিবারে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আকুল আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না, বরং ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায়।

শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়েছিল। সে সময় এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। পরে ২০০৩ সাল থেকে এর নাম রাখা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামলেও মার্কিনিদের মনে স্বস্তি নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামলেও মার্কিনিদের মনে স্বস্তি নেই

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান শান্তি চুক্তি কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিক এটিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সিবিএস নিউজের এক জরিপে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ওই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে। অন্যদিকে মাত্র ২২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, যদি আরো চাপ দেওয়া হতো তবে ইরানের কাছ থেকে অতিরিক্ত ছাড় আদায় করা সম্ভব হতো। কিন্তু যুদ্ধের সমাপ্তি বাড়তি আনন্দ দিলেও, অধিকাংশ আমেরিকান আসলে বিশ্বাস করেন যে, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কোনো সাফল্য বয়ে আনতে পারেনি।

জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিকটি হলো ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে জনমত। ট্রাম্পের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। তবে জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের প্রায় অর্ধেক মনে করছেন যে, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামাতে পারবেনা। অনেকের কাছে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রয়োজনীয় উপায়।

এছাড়া, ইরান যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফল নিয়েও মার্কিনদের মধ্যে হতাশার ছাপ রয়েছে। ৪৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে সফল হয়নি। অধিকাংশের ধারণা, যুদ্ধের আগে ইরান যেমন ছিল, এখনো ততটাই অথবা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একইসাথে ৫৭ শতাংশ নাগরিকের বিশ্বাস, এই যুদ্ধটি সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ফলে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিজয়ের বর্ণনার সাথে সাধারণ জনগণের মূল্যায়নের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, মার্কিনদের একটি বৃহৎ অংশ মনে করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিণতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। ৬৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে সংঘাতের প্রভাব প্রশাসনের ধারণার চেয়ে বেশি হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিকের মতে, প্রশাসন সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি, বরং যেকোনো মূল্যে সংঘাতের ইতি টানার প্রয়োজন থেকেই তারা এই চুক্তিতে পৌঁছেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭১ দুর্ঘটনায় ৭২ প্রাণহানি, কবে হবে ৬ লেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


৭১ দুর্ঘটনায় ৭২ প্রাণহানি, কবে হবে ৬ লেন?

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ধারাবাহিক দুর্ঘটনার কারণে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানবাহনের তুলনায় সড়কটি অপর্যাপ্ত হওয়ায় চার বা ছয় লেনে উন্নীতকরণ, নিরাপত্তা ডিভাইডার স্থাপন এবং তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসের মধ্যে ৭১টি দুর্ঘটনায় ৭২ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭৮ জন আহত হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের উদ্যোগে সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিকল্প আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক অফিসে দেখা করেন চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়ার আব্দুছ ছালাম (৫৫)। তিনি ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ডুলহাজারায় ট্রাকচাপায় মারাত্মকভাবে আহত হন। বর্তমানে তিনি জীবন বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। দুর্ঘটনায় তার দুটি পা ভেঙে যায়, পায়ের রগ ছিঁড়ে যায়, কাঁধ ও হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুটি আঙুল নষ্ট হয়। স্বাভাবিক চলাফেরা এখন তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আব্দুছ সালাম (৫৫) দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মনে করেন, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার সড়কের সংকীর্ণতাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তিনি মন্তব্য করেন, সড়কটি যদি আরও প্রশস্ত হতো এবং পৃথক লেনের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে হয়তো তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হতেন না।

শুধু আব্দুছ সালামই নন, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কে গত ছয় মাসে ৭২ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের স্বজনরা মনে করেন, সড়কটির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।

দুর্ঘটনায় ভাই হারানো খুরুশকুল এলাকার বাসিন্দা জানিব বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, এজন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সরকার ইতোমধ্যে সড়কটি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনসাধারণের দীর্ঘদিনের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মহাসড়কটির উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

জানিব আরও বলেন, সড়কটি প্রশস্ত ও নিরাপদ করা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, যান চলাচল আরও সহজ হবে এবং মানুষের দুর্ভোগও অনেকাংশে লাঘব হবে। তাই তিনি মহাসড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সন্তানের বাবা কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকা পল্লীর কামাল আরমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর ছেলে শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং কক্সবাজার—টেকনাফ সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, বর্তমান সড়কের সক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক বেশি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

কামাল আরমান বলেন, ‘সরকার, ট্রাফিক বিভাগ ও বিভিন্ন সংস্থা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে সড়কগুলোকে পর্যাপ্ত প্রশস্ত ও আধুনিক করা না হলে দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।’

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার—টেকনাফ সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হলে যান চলাচল আরও নিরাপদ হবে এবং দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিআরটিএ। বুধবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হল রুমে এসব পরিবারে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় পরিবহন মালিকরা বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা শুধু তাদের নয়, স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদেরও দীর্ঘদিনের দাবি।

কক্সবাজার জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এস্তাফিজুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। তার মতে, যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী সড়ক না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, জনসচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রী ও পথচারীরা যদি সড়ক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করেন, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

এস্তাফিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পর কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। সড়কটি প্রশস্ত করা হলে বর্তমানের অনেক সমস্যা দূর হবে এবং যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত ও অন্যান্য তিন চাকার যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এসব যানবাহনের অনেক চালকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তারা হঠাৎ করে সড়কের মাঝখানে থেমে যান বা দিক পরিবর্তন করেন। ফলে পেছন থেকে আসা বাস ও ট্রাকের মতো ভারী যানবাহনের চালকদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনা ঘটে।

তার মতে, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এসব যানবাহনকে বিকল্প বা ফিডার সড়কে পরিচালিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

কক্সবাজার বাস—মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে দ্রুত সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমান সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটছে, যা প্রাণহানির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি মাঝখানে নিরাপত্তা ডিভাইডার স্থাপন করা জরুরি। ডিভাইডার না থাকলে বিপরীতমুখী যানবাহনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকেই যায়, ফলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।

মাহাবুবুর রহমান আরও বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি শুধু পরিবহন মালিকদের নয়, এটি স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদেরও দীর্ঘদিনের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সড়কটির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

এদিকে বিআরটিএ কতৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন বলছে, দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিকল্প আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করছে সরকার।

বিআরটিএ কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সময় সংবাদকে বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। তবে যানবাহনের চাপের তুলনায় সড়কটি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। একদিকে মোটরচালিত ও অযান্ত্রিক যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে এই মহাসড়কে ৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৭২ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় বিআরটিএ বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে। এর আগে ৫৬টি পরিবারকে মোট ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আজ আরও ৩৮টি পরিবারকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিআরটিএ নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীদের মধ্যে নিয়মিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাস টার্মিনালে গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে এবং পথচারীদের জন্যও বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ নিয়মিত রোড শো আয়োজন করছে এবং চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি মাসে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার যানবাহনের চালক ও শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন টার্মিনালে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী ও পথচারী—সবার সম্মিলিত সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রণকৃতভাবে যাত্রী ওঠানামা করানো। উপজেলা পর্যায়সহ বিভিন্ন স্থানে টমটম, অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন অনেক সময় মহাসড়কের ওপরেই হঠাৎ থেমে যায়। কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ক একটি দ্রুতগতির সড়ক হওয়ায় পেছন থেকে আসা যানবাহনের চালকদের জন্য পর্যাপ্ত সময়ে ব্রেক মারার সুযোগ থাকে না। অনেক সময় ছোট যানবাহনের চালকেরা রাস্তার পাশে নেমে যাত্রী উঠানো বা নামানোর প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেন না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তিনি জানান, সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অংশে প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা চিহ্ন স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সরকারের উদ্যোগে একটি বিকল্প আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা আনোয়ারা থেকে টইটং পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই সড়ক সম্পূর্ণ চালু হলে অনেক যানবাহন বিকল্প পথে চলাচল শুরু করবে, ফলে কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর চাপ কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: এ পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প: এ পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত

ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ হতাহতের এই তথ্য জানালেন। খবরটি সোমবার ব‌িবিসি’র মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা নিয়ে রদ্রিগেজই প্রথম কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে আর কিছু বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে বিবিসি জানায়, ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এরপর ৩৯ সেকেন্ড পরে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে, যার মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভূমিকম্পের পর বহু ভবন ধসে পড়েছে, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলার তদারকির জন্য একজন জেনারেলকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ভাষণে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, ভূমিকম্পে যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের অনুভূতি প্রতিবেশী কলম্বিয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। এএফপি জানাচ্ছে, ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেইয়ো জনগণকে তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বলেছেন। তিনি জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ভবনে আগে থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে যে তারা ‘ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’। জনগণকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করতে’ আহ্বান জানিয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে আঘাত হানে। ওই সময়টি সাধারণত ব্যস্ততম যানজটের সময় হয়ে থাকে। তবে ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় একটি জাতীয় ছুটির দিন। ১৮২১ সালের কারাবোবো যুদ্ধের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়, যেখানে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা সিমন বলিভার স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছিলেন। তাই, সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় এদিন বেশি মানুষ ঘরে অবস্থান করছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ফুটেজে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি ছেড়ে বাসিন্দারা রাস্তায় বেরিয়ে যেতে শুরু করেছেন।

ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আক্রমণ এটাই প্রথম নয়। ১৯৬৭ সালে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প কারাকাসে আঘাত হানলে ২০০’র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সে সময় মধ্যবিত্ত এলাকা পালোস গ্রান্দেস এবং উচ্চবিত্ত এলাকা আল্তামিরায় অনেক ভবন ধসে পড়েছিল।

এই দু’টি এলাকাও বুধবারের ভূমিকম্পে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে জানিয়েছেন যে ‘সেখানে ভবন ধসে পড়েছে’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%