বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১২:২৩ পি.এম
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ধারাবাহিক দুর্ঘটনার কারণে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানবাহনের তুলনায় সড়কটি অপর্যাপ্ত হওয়ায় চার বা ছয় লেনে উন্নীতকরণ, নিরাপত্তা ডিভাইডার স্থাপন এবং তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসের মধ্যে ৭১টি দুর্ঘটনায় ৭২ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭৮ জন আহত হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের উদ্যোগে সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিকল্প আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক অফিসে দেখা করেন চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়ার আব্দুছ ছালাম (৫৫)। তিনি ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ডুলহাজারায় ট্রাকচাপায় মারাত্মকভাবে আহত হন। বর্তমানে তিনি জীবন বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। দুর্ঘটনায় তার দুটি পা ভেঙে যায়, পায়ের রগ ছিঁড়ে যায়, কাঁধ ও হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুটি আঙুল নষ্ট হয়। স্বাভাবিক চলাফেরা এখন তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আব্দুছ সালাম (৫৫) দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মনে করেন, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার সড়কের সংকীর্ণতাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তিনি মন্তব্য করেন, সড়কটি যদি আরও প্রশস্ত হতো এবং পৃথক লেনের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে হয়তো তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হতেন না।
শুধু আব্দুছ সালামই নন, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কে গত ছয় মাসে ৭২ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের স্বজনরা মনে করেন, সড়কটির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।
দুর্ঘটনায় ভাই হারানো খুরুশকুল এলাকার বাসিন্দা জানিব বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, এজন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সরকার ইতোমধ্যে সড়কটি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনসাধারণের দীর্ঘদিনের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মহাসড়কটির উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
জানিব আরও বলেন, সড়কটি প্রশস্ত ও নিরাপদ করা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, যান চলাচল আরও সহজ হবে এবং মানুষের দুর্ভোগও অনেকাংশে লাঘব হবে। তাই তিনি মহাসড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সন্তানের বাবা কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকা পল্লীর কামাল আরমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর ছেলে শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং কক্সবাজার—টেকনাফ সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, বর্তমান সড়কের সক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক বেশি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
কামাল আরমান বলেন, ‘সরকার, ট্রাফিক বিভাগ ও বিভিন্ন সংস্থা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে সড়কগুলোকে পর্যাপ্ত প্রশস্ত ও আধুনিক করা না হলে দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।’
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার—টেকনাফ সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হলে যান চলাচল আরও নিরাপদ হবে এবং দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিআরটিএ। বুধবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হল রুমে এসব পরিবারে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় পরিবহন মালিকরা বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা শুধু তাদের নয়, স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদেরও দীর্ঘদিনের দাবি।
কক্সবাজার জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এস্তাফিজুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। তার মতে, যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী সড়ক না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।
তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, জনসচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রী ও পথচারীরা যদি সড়ক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করেন, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
এস্তাফিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পর কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। সড়কটি প্রশস্ত করা হলে বর্তমানের অনেক সমস্যা দূর হবে এবং যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত ও অন্যান্য তিন চাকার যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এসব যানবাহনের অনেক চালকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তারা হঠাৎ করে সড়কের মাঝখানে থেমে যান বা দিক পরিবর্তন করেন। ফলে পেছন থেকে আসা বাস ও ট্রাকের মতো ভারী যানবাহনের চালকদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনা ঘটে।
তার মতে, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এসব যানবাহনকে বিকল্প বা ফিডার সড়কে পরিচালিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
কক্সবাজার বাস—মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে দ্রুত সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমান সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটছে, যা প্রাণহানির অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি মাঝখানে নিরাপত্তা ডিভাইডার স্থাপন করা জরুরি। ডিভাইডার না থাকলে বিপরীতমুখী যানবাহনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকেই যায়, ফলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।
মাহাবুবুর রহমান আরও বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি শুধু পরিবহন মালিকদের নয়, এটি স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদেরও দীর্ঘদিনের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সড়কটির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
এদিকে বিআরটিএ কতৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন বলছে, দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিকল্প আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করছে সরকার।
বিআরটিএ কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সময় সংবাদকে বলেন, কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। তবে যানবাহনের চাপের তুলনায় সড়কটি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। একদিকে মোটরচালিত ও অযান্ত্রিক যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে এই মহাসড়কে ৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৭২ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় বিআরটিএ বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে। এর আগে ৫৬টি পরিবারকে মোট ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আজ আরও ৩৮টি পরিবারকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিআরটিএ নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীদের মধ্যে নিয়মিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাস টার্মিনালে গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে এবং পথচারীদের জন্যও বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ নিয়মিত রোড শো আয়োজন করছে এবং চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি মাসে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার যানবাহনের চালক ও শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন টার্মিনালে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী ও পথচারী—সবার সম্মিলিত সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রণকৃতভাবে যাত্রী ওঠানামা করানো। উপজেলা পর্যায়সহ বিভিন্ন স্থানে টমটম, অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন অনেক সময় মহাসড়কের ওপরেই হঠাৎ থেমে যায়। কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়ক একটি দ্রুতগতির সড়ক হওয়ায় পেছন থেকে আসা যানবাহনের চালকদের জন্য পর্যাপ্ত সময়ে ব্রেক মারার সুযোগ থাকে না। অনেক সময় ছোট যানবাহনের চালকেরা রাস্তার পাশে নেমে যাত্রী উঠানো বা নামানোর প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেন না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তিনি জানান, সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অংশে প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা চিহ্ন স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, সরকারের উদ্যোগে একটি বিকল্প আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা আনোয়ারা থেকে টইটং পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই সড়ক সম্পূর্ণ চালু হলে অনেক যানবাহন বিকল্প পথে চলাচল শুরু করবে, ফলে কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর চাপ কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ হতাহতের এই তথ্য জানালেন। খবরটি সোমবার বিবিসি’র মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা নিয়ে রদ্রিগেজই প্রথম কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে আর কিছু বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে বিবিসি জানায়, ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এরপর ৩৯ সেকেন্ড পরে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে, যার মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভূমিকম্পের পর বহু ভবন ধসে পড়েছে, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলার তদারকির জন্য একজন জেনারেলকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ভাষণে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, ভূমিকম্পে যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের অনুভূতি প্রতিবেশী কলম্বিয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। এএফপি জানাচ্ছে, ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেইয়ো জনগণকে তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বলেছেন। তিনি জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ভবনে আগে থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে যে তারা ‘ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’। জনগণকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করতে’ আহ্বান জানিয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে আঘাত হানে। ওই সময়টি সাধারণত ব্যস্ততম যানজটের সময় হয়ে থাকে। তবে ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় একটি জাতীয় ছুটির দিন। ১৮২১ সালের কারাবোবো যুদ্ধের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়, যেখানে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা সিমন বলিভার স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছিলেন। তাই, সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় এদিন বেশি মানুষ ঘরে অবস্থান করছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ফুটেজে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি ছেড়ে বাসিন্দারা রাস্তায় বেরিয়ে যেতে শুরু করেছেন।
ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আক্রমণ এটাই প্রথম নয়। ১৯৬৭ সালে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প কারাকাসে আঘাত হানলে ২০০’র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সে সময় মধ্যবিত্ত এলাকা পালোস গ্রান্দেস এবং উচ্চবিত্ত এলাকা আল্তামিরায় অনেক ভবন ধসে পড়েছিল।
এই দু’টি এলাকাও বুধবারের ভূমিকম্পে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে জানিয়েছেন যে ‘সেখানে ভবন ধসে পড়েছে’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের উদ্যোগে তিনদিন ব্যাপী একটি নাট্য উৎসব অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আগামী ২৯ জুন (সোমবার) থেকে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমীতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই তিনদিনের আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
‘আগামীর মঞ্চ: জিয়া হায়দার নাট্যমেলা ২০২৬’ শিরোনামে নাট্যকলা বিভাগের নাট্যমেলা দেশের প্রয়াত নাট্যকার, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিয়া হায়দারকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
উদ্বোধন হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হবে জিয়া হায়দার রচিত এবং ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ-এর নব-নাট্যরূপে নির্মিত 'উম্মাদ সাক্ষাৎকার' নাটকটি। নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন, বিলকিস জাহান ইয়াসমিন, সাদিয়া আফরিন, ইন্দ্রজিৎ শীল, শাহরিয়ার শাকিল, রিয়াদূস সালেহিন। একই দিন রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হবে সাঈদ আহমদ রচিত 'তৃষ্ণায়'। নাটকটি নির্দেশনা নিয়েছেন যথাক্রমে, মেহেদী নূর, উজ্জ্বয়নী রায়, গোলাম মাহমুদ, মাহমুদুল হাসান ও মেহেদী হাসান শ্যামল।
৩০ জুন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টায় পরিবেশিত হবে জিয়া হায়দার রচিত নাটক 'শুভ্র সুন্দর কল্যাণী আনন্দ' নাটকটি। যার নির্দেশনায় রয়েছেন, রাশিফ বিন ফাহিম, লক্ষ্মী চাকমা, মাসুমা আক্তার মীম, আফিয়া তাহমিন জেরিন, ফাইরুজ সাদেক ও মেহেদী হাসান সাদী। একই দিন রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হবে ইয়ারোস্লাভা পুলিনোভিচ রচিত ও সনজিত কুমার দে'র নব নাট্যরূপকৃত নাটক 'আকাশ কেন ডাকে', যার নির্দেশনায় রয়েছেন, সাইমা সাদিয়া, সাইকা শরীফ, রাফিদ বসুনিয়া, এস এম শফিক, তাসরিব আহমেদ ও রিফাহ্ তাসনিয়া অহনা।
নাট্যমেলার শেষ দিনে ১ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হবে আন্তন চেখভের কালজয়ী নাটক 'দ্য বিয়ার'। নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন, সাদিয়া শাহনেওয়াজ, খন্দকার মমতাহান, মাহমুদুল হাসান, আব্দুল হামিদ মির্জা ও আন্তাজ আলী। রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হবে নিকোলা এরডম্যান রচিত 'দ্য সুইসাইড', যার নির্দেশনায় রয়েছেন, সালোয়া তাবাসসুম, আফিয়া ইবনাত ওয়াফা, মানতাশা শাহরিন মিম, নয়ন মিয়া ও ইসমাইল হোসেন। এই নাটকটি প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনদিন ব্যাপী মেলাটির পর্দা নামবে। প্রতিটি নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
নাট্যপ্রদর্শনীর পাশাপাশি প্রতিদিন পুতুলনাট্য প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, নাটকের পোস্টার, সেট ও কস্টিউম প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করা হবে।
নাট্যমেলাটির আহ্বায়ক ও বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অসীম দাশ বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগ বিশ্বাস করে, এই নাট্যমেলা শিক্ষার্থী, নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে সৃজনশীল বিনিময় এবং গবেষণাভিত্তিক নাট্যচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। যার মাধ্যমে তরুণরা নাট্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হবে।
বিভাগীয় সভাপতি ফাহমিদা সুলতানা তানজী বলেন, আমরা আশা করি, এই আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে বেগবান করবে এবং আগামীর নাট্যশিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পর পর কয়েকটি ভূকম্প অনুভূত হয়েছে। দেখা গেছে, এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত। গত সোমবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ৪ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ। যা ঢাকার আগারগাঁও থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে। এর আগে কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুর এবং নরসিংদী। ঢাকার এত কাছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২২শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও এর সীমান্তবর্তী এলাকায় যতগুলো ভূমিকম্প হয়েছে, এর মাঝে বেশ কয়েকটির উৎপত্তিস্থল ঢাকার কাছাকাছি ছিল। এর মধ্যে চলতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৪২ কিলোমিটার।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার, যা দেশে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের মধ্যে একটি। ওই ভূমিকম্পে ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচ জন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হন। আহন হন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ। ওই মাধবদীর ভূমিকম্পের পরদিন, ২২ নভেম্বর নরসিংদীর পলাশে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প উৎপত্তি হয়। ঢাকা থেকে যার দূরত্ব ২৯ কিলোমিটার ছিল। একইদিনে ঢাকার বাড্ডায় ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প উৎপত্তি ঘটে।
এ বিষয়ে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয়ের নিচে ইউরেশিয়ান প্লেটের ওপর ইন্ডিয়ান প্লেট চাপ তৈরি করছে। এই কারণেই ওই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এর বাইরেও তুলনামূলকভাবে ছোট বার্মা প্লেট বাংলাদেশের ভূখন্ডে চাপ তৈরি করছে। এই কারণেই মূলত এখানে ছোটখাটো ভূমিকম্প হচ্ছে।
ঢাকার আশপাশে একের পর এক ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এগুলো কি রাজধানীতে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার আশপাশের এসব ভূমিকম্প নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, সম্প্রতি ঢাকার কাছাকাছি যেসব ছোট বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে, সেগুলো থেকে বড় ধরনের ভবনধস বা ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, ঢাকায় সেভাবে কোনো ফল্ট লাইন নেই। ঢাকার আশপাশে যেগুলো হচ্ছে, সেগুলো মূলত স্থানীয় ফল্ট লাইনের কারণে হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে এখানে বড় ভূমিকম্প হওয়ার রেকর্ড নেই। তাই আমরা এখনই বলতে পারি না যে এটি সামনে আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
তবে ঢাকার আশপাশে বড় ফল্ট লাইন না থাকলেও দেশের অন্যান্য প্রান্ত বা প্রতিবেশী দেশগুলোর ফল্ট লাইন থেকে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান মেহেদি আহমেদ আনসারী। তিনি জানান, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ঐতিহাসিকভাবে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে সক্ষম ফল্টগুলো। তার মতে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি রয়েছে শ্রীমঙ্গল এবং বগুড়ার শেরপুর এলাকায়। ১৯১৮ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সাত দশমিক ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল এবং ১৮৮৫ সালে বগুড়ার শেরপুর এলাকায় সাত দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, প্রত্যেকটি ভূমিকম্পের রিটার্ন পিরিয়ড আছে। ঢাকা থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বড় ভূমিকম্প হয়েছিলো। যার রিটার্ন পিরিয়ড হবে প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর। সেটা হয়তো ২২৫০ সালের আশেপাশে হতে পারে। আর ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলোর রিটার্ন পিরিয়ড হবে দেড়শো থেকে দুইশো বছরের মাঝে। সেজন্যই আমরা বলি ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ঢাকায় শিগগিরই আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এটা কবে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। ২০ বছরও সময় লাগতে পারে।
২০০৯ সালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং কমপ্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (সিডিএমপি)-এর যৌথ জরিপে বলা হয়েছিল, ঢাকায় মোট বাসযোগ্য স্থাপনার সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে ১৫ লাখই ছোট বিল্ডিং বা টিনশেড, যা ভেঙে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা কম। বাকি ৬ লাখ ভবন ছয়তলার ওপরে অবস্থিত। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে এর মধ্যে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড না মানা, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতি বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ঢাকার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর চিহ্নিত করা এবং ধাপে ধাপে উন্নত করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন, এটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রদ্রিগেজ জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলার প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। খবরটি বিবিসি’ ই থেকে এসেছে।
অন্যান্য নেতাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে রদ্রিগেজ যেসব বার্তা শেয়ার করেছেন, এটি সেগুলোরই একটি বার্তা। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিলির প্রেসিডেন্টসহ আরও অনেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম’ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম বর্তমান চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার বিভিন্ন প্রস্তাবও ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা নিয়ে রদ্রিগেজই প্রথম কোনো পরিসংখ্যান দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আর কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে বিবিসি জানায়, ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানে শক্তিশালী দুইটি ভূমিকম্প। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প ঘটেছে, যার মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউএসজিএস বলছে, ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পের পর ১০,০০০ প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ