বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১২:৩১ পি.এম
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন, এটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রদ্রিগেজ জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলার প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। খবরটি বিবিসি’ ই থেকে এসেছে।
অন্যান্য নেতাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে রদ্রিগেজ যেসব বার্তা শেয়ার করেছেন, এটি সেগুলোরই একটি বার্তা। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিলির প্রেসিডেন্টসহ আরও অনেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম’ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম বর্তমান চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার বিভিন্ন প্রস্তাবও ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা নিয়ে রদ্রিগেজই প্রথম কোনো পরিসংখ্যান দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আর কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে বিবিসি জানায়, ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানে শক্তিশালী দুইটি ভূমিকম্প। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প ঘটেছে, যার মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউএসজিএস বলছে, ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পের পর ১০,০০০ প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার ঘটনায় বিব্রত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একইসঙ্গে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে, তার নির্বাচনী এলাকা সদর দক্ষিণ থানায় চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিলেন না এবং মামলাটি কারা দায়ের করেছেন, সে বিষয়ে তার জানা নেই।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে আমি বিব্রত হয়েছি।’
এছাড়াও, মনিরুল হক চৌধুরী আরো জানান, মামলার খবর পাওয়ার পরই তিনি তার নেতাকর্মীদের বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন যাতে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, বাদী মামলা প্রত্যাহারে সম্মতি জানিয়েছেন।
তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং তার আইনজীবীকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে সংঘটিত একটি অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার যে অভিযোগ ছিল, তা তিনি সংসদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি সবসময় আইনশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পক্ষে বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার। মামলার পর বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়।
তবে সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী মামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ায় জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারুননেছা সুমি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামসহ উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মেলা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফলের চারা, সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। তবে উপকারভোগী নির্বাচন ও তালিকা প্রণয়ন নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা এবং অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কৃষক রয়েছেন। অতীতে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা প্রকৃত কৃষকদের মূল্যায়ন করে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব, আত্মীয়করণ এবং প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, প্রকৃত চাষিদের পরিবর্তে অন্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সরকারি সহায়তার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারাও তাদের দায়িত্ব পালনে অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন এবং কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কৃষকদের দাবি, উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আটক ব্যক্তির নাম সফিক গাজী (৪৫)।
বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম গোরস্থান রোড এলাকার ধোপাবাড়ির পুরাতন বেকারি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক সফিক গাজী বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার কুটিখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. খালেক গাজীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিএমপির মিডিয়া সেল জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন সফিক গাজীকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নগরীতে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। পরে আটক সফিক গাজীকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে মাদক নির্মূল এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় গৃহবধূ আয়শা বেগম (৪৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়, নিহতের আপন ভাতিজাসহ মোট দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন নিহতের ভাতিজা মো. সোহাগ (১৭) এবং তার সহযোগী মো. ওমর আলী (১৯) রয়েছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, অর্থ লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় এবং পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে লুট করা ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরে নগদ অর্থ থাকার বিষয়টি সোহাগ আগে থেকে জানত। সেই অর্থ হাতিয়ে নিতে সে সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে খালাকে হত্যা করে। হত্যার পর তারা ঘরে থাকা নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ২১ জুন সন্ধ্যায় ইসলামপুর এলাকায় আয়শা বেগম নিজ বাড়িতে একা অবস্থায় নিহত হন। ঘটনার সময় তার স্বামী ও সন্তানরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরে পরিবারের সদসদের ঘরে ফিরে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ