০৯:২৪ এম
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এসির সংযোগ তার চুরির কারণে আটটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার জুমার নামাজে অংশ নিতে আসা হাজারো মুসল্লি চরম গরম ও অস্বস্তির সম্মুখীন হয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মসজিদের নিরাপত্তাকর্মী ওবায়দুর রহমান, আলী ও মহসিন এবং প্রধান খাদেম নাসিরুল্লাহ ও খাদেম বিল্লালকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ছাদের তালা ভাঙা বা কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে নিরাপদে চাবি ব্যবহার করে ছাদে প্রবেশ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালে একই কায়দায় এই মসজিদ থেকে একসঙ্গে ৪০টি এসির সংযোগ তার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সে সময় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললেও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই সময়ও মসজিদের ওই অংশের চাবি কেবল সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির জিম্মায় ছিল। ওই চুরির পর এসির সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। সর্বশেষ চুরি যাওয়া তারের সংযোগ ঠিক করতে এবারও প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: পূজায় নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে এতে অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: মুফতী আব্দুল মালেক
বায়তুল মোকাররমে বারবার একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটায় এর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল। মুসল্লি ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মসজিদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন সচিব শেখ মুশিদুল ইসলামের দায়িত্বে চরম উদাসীনতা রয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কিংবা এর অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাঁর অনীহা সর্বমহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এছাড়াও, মসজিদের উপ-পরিচালক পদে মো. আবু তালহা নামের এক অদক্ষ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তাকে বিশেষ সুবিধায় নিয়োগ দিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিবিধি ১৯৯৮ (সংশোধিত ২০০৯) উপেক্ষা করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী নবম গ্রেডে চাকরির অভিজ্ঞতা ছাড়া সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের সুযোগ নেই, তবে কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুযোগ দিতে ১৩তম গ্রেড থেকে সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন মহাপরিচালক ড. মুশফিকুর রহমান এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
মসজিদ মার্কেট ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের এহেন উদাসীনতা ও অদক্ষতার কারণে বায়তুল মোকাররম মুসল্লি পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন: হজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় ও গুরুত্ব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন