০৪:০৬ পি.এম
রংপুরে গত কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই প্রকৃতির রুক্ষ আচরণের প্রভাব রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমের ওপরে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে এবারের হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের সময়সূচি পাঁচ দিন এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পৃথিবীর কৃষি বৃহত্তম অঞ্চলগুলোতে আগে ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাতের আনুষ্ঠানিক তারিখ নির্ধারণ করা হলেও, বর্তমানে তা পরিবর্তন করে ১৫ জুন করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগে থেকেই স্থানীয় বাজারে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আমের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার হাঁড়িভাঙা আমের একটি অসাধারণ বছর। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গাছে প্রচুর আম ধরেছে। তবে এই আমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর সংরক্ষণক্ষমতা কম হওয়া। পাকার পর সাধারণত এই আম তিন থেকে চার দিনের বেশি ভালো থাকে না। ফলে দেশের বাইরে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ছেন।
আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা
রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হাঁড়িভাঙা আম দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও একটি সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ প্রযুক্তির অভাব এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতির কারণে রপ্তানিকারদের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষি বিভাগ যদি এই আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়, তাহলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও ব্যাপক পরিসরে রপ্তানি সম্ভব হবে। যদিও গত পাঁচ বছর ধরে কৃষি বিভাগ সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার কাজ করছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে এখনো তার দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
রংপুরের সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী মো. জুননুন বলেন, “রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে চাষিরা আরও লাভবান হবেন এবং বিশ্বের আরও অনেক মানুষ এই সুস্বাদু আমের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।” তিনি এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে ১ হাজার ৯০২ হেক্টরের বেশি জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন হয়। এবারে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত গরমের কারণে হাঁড়িভাঙা আম দ্রুত পরিপক্ব হচ্ছে। এ কারণে আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন