০১:১৫ এম
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বাংলাদেশি অধ্যুষিত লেকাম্বা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই পথচারীর একজন অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। ৮ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে লিভারপুল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৩ বছর বয়সী নুরহায়াতি পামুংকাস মারা যান।
একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৬৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি মাহবুবুল হক এখনও সেন্ট জর্জ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাহবুবুল হকের অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটজনক।
এদিকে, নুরহায়াতির মৃত্যুর ফলে এই সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণহানির ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে বিষয়টির তদন্তের গুরুত্বও বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সোলায়মানের জন্য ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা
পুলিশ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার সব আলামত, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণের কাজ আরও জোরদার করেছে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার দিন নুরহায়াতি দুই সন্তানকে স্কুল থেকে আনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। নির্ধারিত পথপারাপারের স্থানে পৌঁছানোর পর দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে লিভারপুল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার সময় যদিও তাঁকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়েছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় মাহবুবুল হকও গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম করছেন। হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তিনি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিষ্ট মন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন কারণ তাঁর শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
ঘটনার সময়ের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। পরে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি সেবাটিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৮২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁকে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তদন্তের সময় চালকের শারীরিক সক্ষমতা, গাড়ির যান্ত্রিক অবস্থান, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের মাধ্যমে। নুরহায়াতির মৃত্যুর পর তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাটি করোনারের কাছেও পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ছয় ইসরায়েলি সেনা
এদিকে, এক দুর্ঘটনায় দুই শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে, এবং মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মাহবুবুল হক। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বৃহত্তর বহুসাংস্কৃতিক সমাজেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু আগে, সিডনির লেকাম্বার দ্য বুলেভার্ড সড়কের পথচারী পারাপারের নির্ধারিত স্থানে একটি সাদা রঙের টয়োটা টারাগো দুই পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বিপরীত পাশে থাকা আরো দুটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় নুরহায়াতি পামুংকাস ও বাংলাদেশি মাহবুবুল হক গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরহায়াতি পামুংকাসের মৃত্যু ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন