শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৫ পি.এম
হেফাজতে ইসলামের নতুন জোট সাতটি রাজনৈতিক দল নিয়ে ঘোষণা করার পর ১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই গুঞ্জনকে অস্বীকার করে সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছেন যে, ঐক্যে ভাঙনের কোনো বিষয় নেই।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ‘সরকার জনগণের গণরায়কে উপেক্ষার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের ওপর চপেটাঘাত করেছে। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।’
তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেই ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। উল্টো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে মিথ্যাচার করছে তারা।’
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক অভিযোগ করেন যে, প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এখন দুর্নীতি হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়, তবে সরকারের পরিণতি খারাপ হবে।’
১১ দলীয় ঐক্যের ভাঙন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের ভাঙনের কোনো বিষয় নেই। এ বিষয়ে যে তথ্য প্রচার হচ্ছে, তা প্রোপাগান্ডা। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ চলমান আন্দোলন কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ থাকবে সব দল।’
কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সাতটি রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে গত বৃহস্পতিবার হেফাজতের মহাসচিব নতুন জোটের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন জোটে ঐক্যবদ্ধ হবে দলগুলো। এই ঘোষণার পর আজ বৈঠকে বসে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের তত্ত্বাবধানে গঠিত জোটের দলগুলোর নেতারাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী আনান মুস্তাফিজ কুইন্স কমনওয়েলথ রাইটিং প্রতিযোগিতায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। আনানকে এই পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি ইমেইলের মাধ্যমে।
রাজধানীর অ্যাপল ট্রি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আনান মুস্তাফিজের লেখার শিরোনাম ছিল ‘দ্য রিদম অব আইডেন্টিটি’। রচনাটিতে তিনি প্রধানত কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সংস্কৃতি বিনিময়ের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আনান তার লেখায় উল্লেখ করেছেন যে, বৃষ্টিভেজা এক বিকেলে জামাইকান কিশোরী আম্যারার সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি সম্পর্কে জানতে চায়। আনান তাকে ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন ভাত, ডাল, বেগুন ভাজা ও ইলিশের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, কৃষি, নদী ও মানুষের জীবনযাত্রার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
আনান তার লেখায় লালনগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, ভাটিয়ালি ও ভাওয়াইয়ার মতো বাংলা গানের বৈচিত্র্য এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন। জামাইকার কিংবদন্তি শিল্পী বব মার্লেনের গান যে বাংলাদেশের মানুষও ভালোবাসে, তা জানতে পেরে আবেগাপ্লুত হয় আম্যারা। দুজনের কথোপকথনে বাংলাদেশ ও জামাইকার সাংস্কৃতিক বন্ধন ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে। রচনাটির শেষ অংশে আনান উল্লেখ করেন, অন্য একটি দেশের মানুষের সঙ্গে সংস্কৃতি ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করা সম্ভব।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আর্ট নিউজকে আনান জানান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে তিনি খুশি। তবে গত বছর গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেলেও এবার ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আগামী বছর আরও ভালো করার জন্য এই ব্রোঞ্জ প্রাপ্তি তাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে জানান আনান। তিনি আরও বলেন, গত এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই রচনাটি জমা দিয়েছিলেন। রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি ইমেইলের মাধ্যমে ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির খবর জানিয়েছে এবং সনদের ডিজিটাল কপিও পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, কুইন্স কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোর একটি, যা ১৮৮৩ সাল থেকে রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি পরিচালনা করে আসছে। এ বছর কমনওয়েলথের ৫৬টি সদস্য দেশের মোট ৫৩,৮৪০ জন শিক্ষার্থী সিনিয়র ও জুনিয়র গ্রুপে অংশগ্রহণ করেছে।
প্রতিযোগিতায় অর্জনের পাশাপাশি আনান মুস্তাফিজ ২০২৩ সালে ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘স্মার্ট চিলড্রেন কার্নিভাল’-এর কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। তিনি নিয়মিত গল্প লেখার পাশাপাশি তার ইউটিউব চ্যানেল ‘মুগলি’স ওয়ার্ল্ড’-এ দেশ-বিদেশের সেলিব্রেটিদের নিয়ে ‘টক উইথ আনান’ নামে একটি টক শো পরিচালনা করেন। আনানের বাবা রহমান মুস্তাফিজ একজন সিনিয়র সাংবাদিক এবং মা কাজী তামান্না সিনিয়র সংবাদ উপস্থাপক, চিত্রশিল্পী ও আর্ট নিউজের প্রকাশক ও সম্পাদক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে বিমানবন্দর অবকাঠামোয় হামলার কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সেখানে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান সংস্থা ও সফর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছে। এই তথ্যটি ভারতীয় গণমাধ্যম দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে, সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েসি বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, ফ্লাইট বাতিলের ফলে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় প্রায় চার হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী আটকা পড়েছেন।
এক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়েসি একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে যাওয়া প্রায় ৪ হাজার ভারতীয় ওমরাহ যাত্রী মক্কা ও মদিনায় আটকে আছেন। এসব বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করায় তারা ফিরতে পারছেন না।’ আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বড় আকারের বিমান চলাচলের অনুমতি দিতে অথবা বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-এ প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ওয়েসির উদ্বেগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে কাজ করছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত এক সপ্তাহে উপলব্ধ বিভিন্ন ফ্লাইটের মাধ্যমে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার ওমরাহ যাত্রীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া স্বাভাবিক শিডিউল ফ্লাইটে আরও ১০ হাজারের বেশি ওমরাহ যাত্রী দেশে ফিরেছেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জরুরি সহায়তার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি কন্ট্রোল রুমের নম্বরও চালু করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত ভোলা দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিশাল মোহনায় পলি জমে গঠিত এই দ্বীপটি প্রকৃতির এক অপার সুষমামণ্ডিত ক্যানভাসের মতো। চারপাশে পানির খেলা, অন্তহীন আকাশ এবং সবুজ ম্যানগ্রোভ বনের মিতালি ভোলা উপকূলকে রূপের এক অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।
ভোলার উপকূলীয় অঞ্চল মানেই পানি ও স্থলের অন্তহীন মিতালি। উত্তাল মেঘনা এবং প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদী এই জেলাকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, কিন্তু এর বুক চিরে বয়ে চলা ছোট-বড় শাখা নদী ও জালের মতো ছড়িয়ে থাকা আঁকা বাঁকা খালের সৌন্দর্য একে জাদুকরী রূপে রূপান্তরিত করেছে। এখানকার জোয়ার-ভাটার, নদী পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা এবং লবণাক্ত বাতাসের গন্ধ এক ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
উপকূলীয় ভোলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সবুজ বনায়ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দ্বীপটিকে রক্ষা করতে গড়ে ওঠা এই বনাঞ্চল আজ নিজেই একটি স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র হিসেবে পরিচিত। চর কুকরি-মুকরি, ভোলার মুকুটহীন রত্ন বলা চলে এই চরটিকে। এখানকার বালিয়াচ্ছাদিত সৈকত এবং বনের ছায়ায় গড়ে উঠেছে বিশাল বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, যেখানে জীববৈচিত্র্য, হরিণ, বানর, উদবিড়াল এবং নাম না জানা শত প্রজাতির পাখির কলকাকলীতে মুখরিত থাকে চারপাশ। শীতের মৌসুমে সাইবেরিয়া ও অন্যান্য শীতল অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানার ঝাপটায় উপকূলের আকাশ মুখরিত হয়।
বালুর চরে ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়ার দল ঘুরে বেড়ানো এবং বালুর ওপর চমৎকার আলপনা তৈরি করা প্রকৃতির এক অপূর্ব দৃশ্য, কেওড়া ও গেওয়া বন, সবুজ পাতার অরণ্য এবং গাছের শ্বাসমূলের অদ্ভুত গঠন প্রকৃতির রূপকে আরো রহস্যময় করে তোলে। মনপুরা দ্বীপ, যা মূল ভোলা থেকে আরো গভীরে অবস্থিত, যেন রূপকথার কোনো দ্বীপ। এখানকার সবুজ মাঠ, নদীর চরে ছুটে চলা মহিষের পাল এবং গোধূলি বেলার আকাশ পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়।
তজুমদ্দিন ও চর নিজাম, এখানকার নিরিবিল সৈকত এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর ক্লান্তি দূর করতে সক্ষম। জেলেরা নদীর বুকে রঙবেরঙের পালতোলা নৌকা নিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য উপকূলীয় সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এখানকার মানুষের নিরন্তর জীবনসংগ্রাম। নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস এবং সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিত্যদিনের সঙ্গী করেই ভোলা উপকূলের মানুষ বেঁচে থাকে। তবুও তাদের মন বড় উদার। অতিথিপরায়ণতা, সুস্বাদু ইলিশ মাছের ঘ্রাণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সরলতা এই অঞ্চলের সামাজিক রূপকে সমৃদ্ধ করেছে।
ভোলার উপকূল কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড নয়, এটি বাংলা মায়ের এমন এক রূপ, যা একাধারে স্নিগ্ধ ও রুদ্র, শান্ত ও উত্তাল। প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষাবলয় তৈরি করা এই উপকূলীয় অরণ্য আমাদের জাতীয় সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই রূপের অভয়ারণ্য টিকে থাকুক যুগ যুগ ধরে— এটাই উপকূলবাসীর প্রাণের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিউনিসিয়ায় পুলিশের হাতে কয়েকজনের মৃত্যুর পর রাজধানী তিউনিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। দেশটির চলমান গভীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
রাজধানীর উপকণ্ঠ ইততাদামেনে মাদক ব্যবসার সন্দেহে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ওই ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ করেছে যে, পুলিশের নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাদক গিলে ফেলার পর ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে, টায়ারে আগুন দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ওই এলাকার একটি জাতীয় রক্ষীবাহিনীর স্থাপনা নিরাপদ রাখতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
এদিকে, দেশটির স্ফাক্স প্রদেশের জেবিনিয়ানা শহরেও এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির স্বজনদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়িতে আগুন দেন এবং টায়ার পোড়ান। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
অন্যদিকে, উপকূলীয় শহর স্ফাক্সে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত এক ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেরি হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্ফাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া, তিউনিসিয়ায় জীবনযাত্রার অবনতি ও সরকারি সেবার দুরবস্থা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। বৃহস্পতিবারের (২২ অক্টোবর) সংঘর্ষের ঘটনাগুলো দেশজুড়ে আরও বড় ধরনের সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীতে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। হাজারো মানুষ ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র দুর্বল করা এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির একটি সামরিক আদালত বিরোধী রাজনীতিক ওলফা হামদিকে চার বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীকে আদেশ অমান্যে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট সাঈদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ