বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:১১ পি.এম
উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করে বলেছে, যদি দেশটি হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে ‘ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির’ সম্মুখীন হতে হবে। একই সঙ্গে, দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে সীমান্তজুড়ে নতুন পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুরো সীমান্ত এলাকায় সতর্কতার মাত্রা বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ানোর লক্ষণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছেন, সিউল যদি হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কোন নির্দিষ্ট পদক্ষেপের জন্য এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সাম্প্রতিক এই ঘোষণাটি দুই কোরিয়ার সম্পর্কের আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের পর শান্তিচুক্তির পরিবর্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশ এখনো যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে পারেনি।
সূত্র: আনাদোলু
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্সেনালের বিরুদ্ধে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় মাঠে নেমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করলেন নয়্যার। ইউরোপের সেরা এই প্রতিযোগিতায় এটি ছিল তার ১৬৫তম ম্যাচ। এই ম্যাচের মাধ্যমে সাবেক বায়ার্ন সতীর্থ থমাস মুলার এবং আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির রেকর্ডে পৌঁছালেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
অপটার তথ্য অনুযায়ী, এই ম্যাচটি খেলার মাধ্যমে নয়্যার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মোট ১৬৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ফলে তিনি সর্বকালের তালিকায় লিওনেল মেসি ও টমাস মুলারের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
এই তিনজনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মাত্র দুজন। পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ১৮৩ ম্যাচ খেলে শীর্ষস্থানে রয়েছেন, এবং ১৭৭ ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় স্থানে আছেন স্পেনের ইকার ক্যাসিয়াস। তারা দুজনেই রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একাদশের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে টস ছাড়াই খেলা শুরু হয়েছে। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল আলোচনার মাধ্যমে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এই ম্যাচটি আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে এখানে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, ঘরোয়া প্রতিযোগিতা এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে বড় পরিসরে ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে স্টেডিয়ামটি।
ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে গত ১৯ অক্টোবর আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সার্বিক প্রস্তুতি ও সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেন বিসিবির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বিসিবির গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে আসা এই প্রতিনিধিদলটি পিচ, আউটফিল্ড, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসাসেবা, লজিস্টিকস, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্ধারিত স্থান ও সম্প্রচারসুবিধাসহ পুরো ভেন্যু ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনের পর বিসিবি মাঠের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, এই স্টেডিয়ামে ভবিষ্যতে আরো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে বিসিবির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এছাড়া এই কমপ্লেক্সে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট মাঠ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ক্যারিবীয়রা। সিরিজের প্রথম টেস্ট আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে। এরপর ৫ নভেম্বর সিলেটে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল : রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), জোমেল ওয়ারিকান (সহ-অধিনায়ক), জশুয়া বিশপ, জন ক্যাম্পবেল, তেজনারায়ণ চন্দরপল, জশুয়া ডা সিলভা (উইকেটকিপার), জাস্টিন গ্রিভস, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু (উইকেটকিপার), শামার জোসেফ, ব্র্যান্ডন কিং, কেমার রোচ, জেইডেন সিলস, শামার স্প্রিঙ্গার ও কেভিন উইকহ্যাম।
বিসিবি একাদশ : মাহফিজুল ইসলাম, জিসান আলম, কালাম সিদ্দিকি, ইফতেখার হোসেন, জাকের আলি, এস এম মেহেরব হাসান, চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান, আইচ মোল্লা, শামীম হোসেন, আব্দুল হালিম, অনিক দেব বর্ম, ফাহাদ হোসেন, হোসেন ও সান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্রধরকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন এবং সদস্যসচিব মো. আব্দুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর গঠনতন্ত্র, নীতি ও আদর্শের বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই অভিযোগ সাধারণ জনগণের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এর প্রেক্ষিতে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শ্যামলী সূত্রধরকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। উক্ত সিদ্ধান্তের অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে শ্যামলী সূত্রধর বলেন, ‘দলের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। এই মুহূর্তে মানসিক পরিস্থিতির কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশদ কোনো মন্তব্য করা আমার জন্য কঠিন। দল এবং সহকর্মীদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সর্বদা রয়েছে। সময় হলে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে খুব শিগগিরই আমি আমার অবস্থান সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরব।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ—এই দুটি বিষয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, দলটির ক্ষমতাচ্যুতির পর গত তিন বছরে দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়া প্রমাণ করে যে, পূর্ববর্তী শাসনামলে এ ধরনের নাশকতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হতো।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি একটি দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা উল্লেখ করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘এখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন আর ধর্মীয় উগ্রবাদ, এই দুটি এলিমেন্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘স্টেট স্পন্সরড’। পূজায় আওয়ামী সুবিধাভোগী বিভিন্ন গ্রুপকে দিয়ে ম্যানুফ্যাকচারড সাবোটাজ (নাশকতা) ঘটিয়ে সেটার দায় দেওয়া হতো বিভিন্ন পক্ষকে। এতে যেমন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ বাড়তো, তেমনি আওয়ামী লীগ ছাড়া সংখ্যালঘুরা অন্য কোথাও নিরাপদ নয় বলে জোরদার প্রচারণাও চলতো।’
আওয়ামী শাসনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘দেশে সংখ্যালঘু বাঁচাতে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নাই, কিংবা উগ্রবাদের কল্পিত উত্থানে বাংলাদেশ আফগানিস্তান হবে, আওয়ামী লীগ বহুভাবে এসব গল্প বিক্রি করেছে দেশে ও বিদেশে। সেজন্য তাদের সময়ে একদিকে সাজিয়েছে জঙ্গিবাদের নাটক, অন্যদিকে চলেছে পূজা মণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুর। অথচ আওয়ামী লীগের পলায়নের সঙ্গে সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে এই ঘটনাগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে উধাও হয়ে গেছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যেসব অস্থিরতা আছে অথবা চাঁদাবাজি, ব্যবসা ও ভূমিদখল ইত্যাদি অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতা আছে, সেটা মোটা দাগে সাম্প্রদায়িক সমস্যা নয়। বেশিরভাগই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধ-সংশ্লিষ্ট।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাধারণ হিন্দু এবং সাধারণ মুসলমান উভয়েই এসব অপরাধের ভুক্তভোগী। সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু, সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতাহীন নাগরিকই ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রভাবশালীদের ক্ষমতাচর্চার শিকার হচ্ছেন। ক্ষেত্রবিশেষে সম্পদ ও ভূ-সম্পত্তি জবরদখলের শিকারও হচ্ছেন।
‘এসবের বিপরীতে আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করে, সিলেক্টিভলি সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের কেসইগুলোকে পিক করে কিংবা নিজেরাই সেসব স্টেজ করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান উৎপাদন করে গেছে। আওয়ামী লীগের সংখ্যালঘু রাজনীতির মুখোশ আজকে খসে পড়েছে।
‘বাস্তবে অপরাধকে যত বেশি বিচার প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে নাগরিকদের যত বেশি সুরক্ষা দেওয়া হবে, সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার বিষবাষ্পও তত দ্রুত চলে যাবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আওয়ামী লীগবিহীন সময়ের মধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরপর তিন বছর বাংলাদেশের সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান, দুর্গাপূজা, প্রায় নির্বিঘ্নে উচ্ছ্বাসের সাথে কেটেছে। এটা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ।’
এ অর্জনকে ‘জুলাইয়ের অর্জন’ অভিহিত করে তিনি নতুন ও সুন্দর বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ