০৮:৫৬ এম
দারিদ্র্যের কারণে থমকে থাকা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বুক জোড়া লাগা তিন মাস বয়সী জমজ দুই শিশু মোছা. জয়নব ও মোছা. উম্মে কুলসুমের চিকিৎসায় আশার আলো দেখা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে শিশু দুটির দুরবস্থার খবর প্রকাশ করার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। এর পর প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে।
কুষ্টিয়ার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা, স্থানীয় দোকান কর্মচারী মো. নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয় এবং জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব। তবে সেই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন একাধিক ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ দলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। তিন মাস পর শিশুদের পুনরায় ঢাকায় আনার পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম আর্থিক অনটনে সেই চিকিৎসাযাত্রা থমকে গিয়েছিল। মাসে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি শিশুদের মৌলিক চিকিৎসা ও দুধের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বাবা নাহিদ হাসান। এতে দিন দিন ঋণের বোঝা বাড়ছিল তার।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি দেশজুড়ে সংবেদনশীল আলোচনার সৃষ্টি করে। সংবাদটি যখন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়, তিনি কুষ্টিয়ার এই অসহায় জমজ শিশুর চিকিৎসায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ পাওয়ার পরই জোড়া লাগা জমজ দুই শিশুদের চিকিৎসার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: বিএমপি কমিশনারের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মৎস্যপোনা অবমুক্ত, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা
রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে নিজে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা নাহিদ হাসানকে টেলিফোন করেন। ফোনালাপে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিনটি বিষয় জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই জোড়া লাগা জমজ শিশুর অস্ত্রোপচার, ফলোআপ চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক যাবতীয় সব ব্যয়ভার বহনের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দ্রুত শিশুদের ঢাকায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয় পরিবারটিকে।
দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘আমাদের এলাকার এই অসহায় পরিবারটির পাশে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেভাবে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সংবাদটি প্রকাশের পর থেকে আমরাও বিষয়টি নজরে রেখেছিলাম। সরকারের এই মানবিক হস্তক্ষেপে শিশু দুটির চিকিৎসা নিশ্চিত হলো। শিশু দুটির সফল অস্ত্রোপচার এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আমি এবং আমাদের জনগণ সার্বক্ষণিক তাদের পাশে রয়েছি।’
সরকারি এই সহযোগিতার আশ্বাসে হতাশার মেঘ কেটে সোমবার সকালের দিকে আনন্দের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় পরিবারটি। বাবা নাহিদ হাসান আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। চিকিৎসার সব দায়িত্ব সরকার নেওয়ায় আমরা যেন নতুন জীবন খুঁজে পেলাম।’
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, শিশুদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণিক তাদের খোঁজখবর রেখেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সময়মতো অস্ত্রোপচার এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে জয়নব ও উম্মে কুলসুম সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: ৭নং জগদল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন