০৯:০৩ এম
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে পৌঁছেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ঘটিত এই বিপদজনক ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৫৭০ জন। ভূমিকম্পের ফলে অনেক ভবন ভেঙে পড়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
এই ভূমিকম্পের ফলে অনেক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং আতঙ্কিত হয়ে বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির কারণে কলম্বিয়া সরকার দেশে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস অব কলম্বিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আবেলাদো দে লা এসপ্রিয়েলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠকের পর জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে অধিক সম্পদ ও সহায়তা পাঠানো সহজতর হবে।
আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের নিকটবর্তী। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। এর ফলে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে বলেছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ভেঙে পড়েছে। এসব ভবনের মধ্যে ১০টিতে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ক্যালিতে এখনো প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে
ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া ক্যালির স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও জানিয়েছেন, ‘ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। শব্দটি বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হচ্ছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা প্রতিবেশীরা সবাই মিলে কাজ করছি। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছি। আমাদের ভারি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’
রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি ভবনের ফাটল ধরা সম্মুখভাগ ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। এতে চারপাশে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের বঙ্গ তৈরি হয়েছে। রাস্তায় থাকা মানুষ আতঙ্কে দ্রুত পালাচ্ছেন।
ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের উপরিভাগের টাওয়ারগুলোর একটি ভূমিকম্পের আঘাতে ভেঙে পড়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সর্বাধিক নিকটবর্তী প্রদেশ চোকোতেও ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি বলেছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, বহু মানুষ আহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সাথে, তিনি বাসিন্দাদের পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে শেখ হাসিনা ও জাতীয় মসজিদের খতিব পালিয়ে গেছেন’
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন