ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতায় টেনেসির কারা বিভাগের প্রধানের পদত্যাগ


মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতায় টেনেসির কারা বিভাগের প্রধানের পদত্যাগ

ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজিরবিহীন ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগ করেছেন।

অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর জানিয়েছেন, দণ্ডিত এক খুনি মৃত্যুদণ্ডের ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে যান এবং বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এএফপি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা চলতি মাসের মধ্যে পদ ছাড়বেন বলে শনিবার গভর্নর বিল লি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনে নাগরিকত্ব ছাড়াই ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

বুধবার ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের শরীরে পেন্টোবার্বিটাল নামের একটি ওষুধের দুই দফা প্রাণঘাতী মাত্রা প্রয়োগ করা হয়। এই ওষুধ স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম দমন করে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পর প্রায় এক ঘণ্টা তারা পাইকের নাক ডাকার শব্দ শুনতে পান। পরবর্তীতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষের দর্শক এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার সময়ও তিনি জীবিত ছিলেন।

পরে পাইককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার আদালতে দাখিল করা নথিতে তার আইনজীবীরা জানান, তিনি ‘অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায়’ রয়েছেন এবং অচেতন। তিনি ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাস নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে পেন্টোবার্বিটাল অপসারণের চেষ্টা করছেন।

গভর্নর লি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে টেনেসির জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখার জন্য’ তিনি স্ট্রাডার প্রতি কৃতজ্ঞ।

আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

একই বিবৃতিতে স্ট্রাডা বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি, কারা বিভাগ নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেছে।’

এর আগে পাইকের ক্ষমার আবেদন নাকচ করা গভর্নর লি এখন বছরের বাকি সময়ের জন্য টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে ‘বিস্তৃত ও স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা’ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

‘ক্ষয়কারী’ ওষুধ

পাইকের আইনজীবীরা এর আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় শিরায় ওষুধ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, পাইকের শিরা ছোট এবং তার একটি রক্তজনিত সমস্যা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগ করলে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট হতে পারে।

আরও পড়ুন: পুতিন ও জেলেনস্কির শিগগিরই বৈঠক হবে: ট্রাম্প

আইনজীবী র‌্যান্ডি স্পিভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কর্মীরা পাইকের বাম হাতেই শিরায় ওষুধ দেওয়ার জন্য সাতটি সুচ ব্যবহার করেছিলেন। তার একটি সুচ ব্যর্থ চেষ্টার পর হাত থেকে বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় দেখা যায় বলে তিনি জানান।

আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে সুচ শিরা থেকে সরে যেতে পারে বা শিরা ভেদ করে ফেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে পাইকের হাতের টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে।

আদালতে দাখিল করা নথিতে পেন্টোবার্বিটালকে এমন একটি ক্ষয়কারী পদার্থ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ত্বক, টিস্যু ও শিরা পুড়িয়ে দিতে পারে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় পাইকের দুই হাত ফুলে গিয়েছিল, পুড়ে গিয়েছিল এবং ফোসকা পড়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যমের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পর পাইক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কর্মীদের বলেছিলেন, তার মনে হচ্ছে তার হাত ‘ফেটে যাবে’।

আরও পড়ুন: প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডসংক্রান্ত তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রকাশকারী ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পর বেঁচে যাওয়া প্রথম বন্দি পাইক।

পাইকের মামলাটি তরুণ বয়সে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছিল।

১৯৯৫ সালে পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় তিনি তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে একটি চাকরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১৮ জন নারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালকিনিতে সম্পত্তি জালিয়াতি ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


কালকিনিতে সম্পত্তি জালিয়াতি ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাদারীপুরের কালকিনিতে পোস্টমাস্টার মরহুম আব্দুস সামাদ সরদারের রেকর্ডীয় সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং ক্রয় করা জমিতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও জমির ক্রেতারা।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন কুয়েতপ্রবাসী এবং জমির ক্রয়সূত্রে মালিক আব্দুল আলীম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৫৪ সালে আব্দুস সামাদ সরদারের মৃত্যুর পর তাঁর পালকপুত্র লাল মিয়া তৎকালীন ভূমি জরিপে নিজেকে তাঁর ঔরসজাত সন্তান পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে খতিয়ানে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে হেবা দলিলের মাধ্যমে ওই সম্পত্তি হস্তগত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এ নিয়ে বিরোধের পর আদালত ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় লাল মিয়ার ওয়ারিশ সাইদুল কবীর মুকুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাজা হওয়ার পরও হয়রানি বন্ধ হয়নি। আব্দুস সামাদ সরদারের উত্তরসূরিদের কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে মালিক হওয়া ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ জমির মালিকদের কাছে লাল মিয়ার ওয়ারিশরা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। টাকা না দিলে জমি দখলের চেষ্টা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ ছাড়া গণমাধ্যমে জমি নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও তা মানা হয়নি দাবি করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে কুয়েতপ্রবাসী আব্দুল আলীম, তাঁর স্ত্রী তানিয়া খানম, প্রতিবেশী খায়রুল বাসারসহ ভুক্তভোগী পরিবার ও জমির ক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জীবন যুদ্ধে হার মেনে না ফেরার দেশে চবি শিক্ষার্থী মহুয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


জীবন যুদ্ধে হার মেনে না ফেরার দেশে চবি শিক্ষার্থী মহুয়া

দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহুয়া তাসনিম মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে ফেরার দেশে চলে গেছেন।

মহুয়ার মৃত্যুর খবর শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তার সহপাঠীদের জানান নিহতের বোন।

তথ্য সংগ্রহ করে জানা গেছে, মহুয়া রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির বাসিন্দা। তবে তিনি ঢাকার সাভার উপজেলায় বসবাস করতেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার পূর্বেই তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

মহুয়ার জানাজার নামাজ রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টায় তার নিজ এলাকা রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির পাইককান্দিতে অনুষ্ঠিত হবে।

মহুয়ার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ইসরাফিল হোসেন মানিক বলেন, "মহুয়া ছিল অসাধারণ একজন মেয়ে। গত আগস্টের ১৪ তারিখে আমাকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিল। সেখানে সে বলেছিল, ‘ভাইয়া, সাভার এনাম মেডিক্যালে জরুরি O+ রক্ত লাগবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কার জন্য রক্ত লাগবে? তখন সে বলল, ‘ভাইয়া, আমার জন্যই।’ আমি উত্তর দিলাম আল্লাহ মাফ করুক, কি হইছে আপু?"

তিনি আরও বলেন, "এরপর মহুয়া জানালো, তার রক্তের প্লাটিলেট অনেক কমে গেছে, তাই প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন। রক্তের ব্যবস্থা করার জন্য প্রায় ৭–৮ জনকে নেওয়া হলেও কারও সাথেই রক্ত মিল ছিল না। পরে একজনের সাথে রক্তের মিল পাওয়া গেলে সেসময় ওই রাতেই তাকে প্ল্যাটিলেট দেওয়া হয়।"

ইসরাফিল হোসেন মানিক আরও জানান, লিউকেমিয়ার চিকিৎসা চলছিল ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে। কিছুদিন আগে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে মাত্র একদিনের জন্য বাড়ি ফিরেছিল। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি। এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যা তাদের সর্বশেষ শুমারিতে পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন এই তথ্যটি প্রকাশ করে। এতে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গড় আয়ু, সুস্থ গড় আয়ু, মৃত্যুর কারণ এবং রোগের বোঝা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শুমারিতে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ভারতীয়দের গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর, যেখানে পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ২ বছর। অন্যদিকে, বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৭ বছর।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং কানাডায় ৮১ দশমিক ৪ বছর।

তবে, বেশি দিন বাঁচা মানেই সুস্বাস্থ্যে বেশি বছর বেঁচে থাকা নয়। ২০২৩ সালে ভারতে সুস্থ গড় আয়ু ছিল ৬০ দশমিক ৬ বছর, যা ২০১৯ সালে ছিল ৬০ দশমিক ৫ বছর। ২০২১ সালে সুস্থ গড় আয়ু কমে ৫৮ দশমিক ৪ বছরে নেমে আসে, কিন্তু পরে ২০২২ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ দশমিক ২ বছরে পৌঁছায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, "জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি গড় আয়ু হওয়া একটি বড় অর্জন। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন সুস্থ শরীর নিয়ে বেশিদিন বাঁচতে পারে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পুরো পরিবার মদের ব্যবসায় জড়িত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পুরো পরিবার মদের ব্যবসায় জড়িত

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের মদের ব্যবসা মূলত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলে। সাধারণ একটি রেস্টুরেন্টের লাইসেন্স নিয়ে তিনি দেশের সবচেয়ে বড় মদের বার আইরিশ পাব পরিচালনা করেন। বিষয়টি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি অভিযানে প্রকাশ পায়। এই অভিযানের ফলে শুল্ক কর্মকর্তারা বিপাকে পড়েন। ফৌজদারি মামলা হঠাৎ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে এই মামলা পুলিশের সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়। তবুও আইরিশ পাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ নূর ইসলাম চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের পক্ষে প্রতিবেদন নেন।

কালবেলা সূত্রে জানায়, কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির লাইসেন্সের আড়ালে নূর ইসলাম বারের মদ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও ফার্নিচার আমদানি করতেন। এর ফলে শুল্ক গোয়েন্দা পণ্যগুলো জব্দ করে। তবে পরবর্তীতে তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আইরিশ পাবের কাছে বৈধ কোনো নথিপত্র নেই, যদিও তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হাজার হাজার লিটার বিদেশি মদ বিক্রি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী এবং শ্বশুর-শাশুড়ির পুরো পরিবার মদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবি, তারা দেশের আইন মেনে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে ২০২১ সালে রাজধানীর নিউ জুরাইনে আইরিশ পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট লিমিটেডে অভিযানের পর কিছু প্রমাণ উঠে আসে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি টিম আইরিশ পাবে অভিযান চালায়। অভিযানে স্কটল্যান্ড ও লন্ডন থেকে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ইম্পেরিয়াল হুইস্কি এবং দামি ব্র্যান্ডের ভদকা পাওয়া যায়। এই বিদেশি মদের আমদানির বৈধ নথিপত্র শুল্ক কর্মকর্তাদের দেখাতে পারেনি। ফলে বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।

আইরিশ পাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এসব বিদেশি মদ পর্যটন করপোরেশন থেকে কেনা হয়েছে। তবে তারা এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। অবৈধভাবে আমদানি করা মদের জন্য রাজধানীর কদমতলী থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে, ২০১৬ সালের নথিপত্র নিজেদের কাছে রেখে ২০১৯ সালে উৎপাদিত মদও বিক্রি করেছে আইরিশ পাব কর্তৃপক্ষ। এতে কর্মকর্তারা অবৈধ চোরাচালানের বিষয়টি নিশ্চিত হন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, "আইরিশ পাবে একটি অভিযান হয়েছিল। বিষয়টি আমি শুনেছি। ওই সময়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্য কিছু থাকলে আমরা বিষয়টি দেখব।"

সূত্র জানায়, সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলাম আইরিশ পাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তার স্ত্রী শিলা ইসলাম ছিলেন চেয়ারম্যান এবং পরিচালক হিসেবে ছিলেন সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী দিশা ইসলাম। আইরিশ পাবের মোট শেয়ারের সিংহভাগ ছিল শেখ নূর ইসলাম পরিবারের কাছে। শেখ নূর ইসলামের নামে ৪ হাজার শেয়ার, শিলা ইসলামের নামে ৩ হাজার, দিশা ইসলাম ও তাসনীম ইসলামের নামে দেড় হাজার করে মোট তিন হাজার শেয়ার ছিল। সব মিলিয়ে নূর ইসলাম পরিবারের কাছে ছিল ১০ হাজার শেয়ার।

এরপর শেখ নূর ইসলাম দেলওয়ার হোসেন ও সেলিমুজ্জামানের কাছে কৌশলে সব শেয়ার হস্তান্তর করেন। শেয়ার ছেড়ে দিলেও তিনি মূলত ছিলেন। আইরিশ পাব অ্যান্ড বার লিমিটেড নামে শুরু করে এবং বুড়িগঙ্গার তীরের কাছে একটি গুদাম তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ মদের চালান আনতে তিনি এই পথকে বেছে নিতেন।

একাধিক শুল্ক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পানগাঁও কাস্টম হাউসে নদীর প্রশস্ততা তুলনামূলক কম। কাস্টম হাউসের জেটিতে জাহাজ ভিড়লে পেছনের অংশ নদীর ওই পারের কাছাকাছি চলে যায়। এই সুযোগে একটি চক্র বিদেশি মদের চালান সহজেই নিয়ে যায় এবং গুদামজাত করে। তবে এ বিষয়ে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। বিদেশি মদের বিশাল মজুদ এবং বিক্রি কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে তিনি ডোমিনোজ পিৎজার আদলে ডোমিনাস লিমিটেড নামে একটি মদের বারের লাইসেন্স নেন। পরবর্তীতে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রেস্টুরেন্টের লাইসেন্স বারের লাইসেন্সে পরিণত করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আইরিশ পাবে অভিযান পরিচালনা করা এক শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, "আইরিশ পাবে অভিযান পরিচালনা করার পর থেকে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি।" বিদেশি মদ বিক্রির বিপরীতে আইরিশ পাবের কাছে কোনো বিল অব এন্ট্রির নথিপত্র ছিল না।

অভিযানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদনবিহীন ৫৭ সেট ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, আইরিশ পাবের সাবেক মালিকরা প্রভাব খাটিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত করেছেন। যার কারণে থানা থেকে মামলা প্রথমে পিবিআই, পরবর্তীতে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ নূর ইসলাম বলেন, "আইরিশ পাব অ্যান্ড বার অনেক আগেই আমি বিক্রি করে দিয়েছি।" রেস্টুরেন্টের লাইসেন্স নিয়ে মদের বার চালানো এবং তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বর্তমানে তিনি এসব কিছুর সঙ্গে নেই বলেও জানান নূর ইসলাম।

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ ৪ বারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ উৎস, শুল্ক-ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেয় এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (উত্তর) কর্মকর্তারা।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও শুল্কমুক্ত দোকানে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানে যাচাই করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুতে থাকা অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের উৎস, আমদানি ও ক্রয়-সংক্রান্ত দলিল, পণ্যের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক-মূসক ও আয়কর পরিশোধের তথ্য।

অভিযান চলাকালে নথিপত্র ও মজুদ যাচাইয়ের পাশাপাশি অনিয়ম পাওয়া গেলে পণ্য আটকের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুদ, আমদানি ও ক্রয়-সংক্রান্ত দলিল এবং কর-শুল্ক পরিশোধের তথ্য পর্যালোচনা করছেন। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%