০৬:৪২ পি.এম
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, আদালতের রায় হাতে নিয়েও তিনি মাদরাসায় যোগদান ও দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। অধ্যক্ষ জানান, মাদরাসায় প্রবেশ করার সময় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ ঘটনায় রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ডাকবাংলো মোড় এলাকায় অবস্থিত একটি রিসোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগগুলি তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমানুল্লাহ তাকে মাদরাসা থেকে বের করে দেন। এর পর তার বিরুদ্ধে অনৈতিক অভিযোগ তুললে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়, যার ফলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: চুয়েট ভিসিকে না মানার ৬ কারণ দেখিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে স্মারকলিপি
বলেন, বরখাস্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দাখিল করলে আদালত আদেশ দেন তাকে স্বপদে বহাল রাখতে এবং যোগদান serta বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন। এরপর প্রতিপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও আপিল খারিজ হয়ে যায় এবং হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
অধ্যক্ষের দাবী, আদালতের রায়ের কপি নিয়ে প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে ফের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়।
এই ঘটনায় তিনি নওগাঁর আমলি আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। একটি মামলায় কয়েকজন আসামি কারাগারে গেছেন বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অডিট ও আইন শাখা থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয় যে অনৈতিক অভিযোগ ছয় মাসের মধ্যে প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীকে স্বপদে পুনর্বহাল ও বেতন-ভাতা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং বেতন-ভাতাও পরিশোধ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা
তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা দাবি করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
অপর দিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমানুল্লাহ আমান। তিনি বলেছেন, ‘চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয়। বর্তমান কমিটি তার কাছে মাদরাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিল। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। তিনি যদি আজ মাদরাসায় আসেন, তবে আজ থেকেই আমরা তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত।’
এ বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কেউ আমার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসেননি। কাগজপত্র পেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন