বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৮ পি.এম
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত নতুনভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাকে দেশের দুটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
গত বুধবার, ৪ নভেম্বর, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করার পর যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় এমএসসি এবং পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ইংল্যান্ডে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর, ২০০০ সাল থেকে তিনি লন্ডনে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সাথে যুক্ত রয়েছেন। তার গবেষণাকর্ম শিশুদের চক্ষু রোগ নিয়ে শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সাইট সেভার্স ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ, তিনি এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অপথালমোলজি অ্যাওয়ার্ড, রয়্যাল সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যাওয়ার্ড এবং আন্তর্জাতিক চক্ষু সংগঠন আইএপিবি থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্লোবাল আই হেলথ হিরো’ পদকে ভূষিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবে দুবাই ভিত্তিক এমিরেটস গ্রুপের (এমিরেটস এয়ারলাইন ও ডানাটা) ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে গ্রুপটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কমে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কোম্পানির পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
গ্রুপটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে গ্রুপটির নিট মুনাফা ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামে (১ বিলিয়ন ডলার) নেমে এসেছে। এ সময়ে কর-পূর্ব মুনাফা হয়েছে ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন দিরহাম (১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার)। একই সময়ে গ্রুপটির সামগ্রিক রাজস্ব ১২ শতাংশ কমে ৬৬ দশমিক ২ বিলিয়ন দিরহামে (১৮ বিলিয়ন ডলার) দাঁড়িয়েছে। আগের বছর গ্রুপটি রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সুদ, কর, অবচয় ও অ্যামোর্টাইজেশন-পূর্ব আয় (ইবিটডা) ৪১ শতাংশ কমে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামে (৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার) নেমে এসেছে।
যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের পতনও দেখা গেছে গ্রুপটির। এপ্রিল-সেপ্টেম্বর সময়ে এমিরেটস গ্রুপ ২ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার ফলে সামগ্রিক পরিবহন সক্ষমতা ১০ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ২ বিলিয়ন অ্যাভেইলেবল টন-কিলোমিটারে নেমে এসেছে।
এদিকে, অ্যাভেইলেবল সিট-কিলোমিটার (এএসকে) হিসেবে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমেছে এবং রেভিনিউ প্যাসেঞ্জার-কিলোমিটার (আরপিকে) হিসেবে প্রকৃত যাত্রী পরিবহনের পরিমাণ ২৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে যাত্রী আসন ব্যবহারের হারও কমেছে। গ্রুপটির মোট আসন সক্ষমতার বিপরীতে যাত্রী পরিবহনের হার আগের বছরের একই সময়ের ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমিরেটস গ্রুপের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৪ দশমিক ১ বিলিয়ন দিরহাম (১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার), যা গত মার্চের শেষে ছিল ৫৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহাম (১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার)। ঋণ পরিশোধ, নতুন বিমান কেনার জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং মালিকপক্ষকে ২ বিলিয়ন দিরহাম (৫৪৫ মিলিয়ন ডলার) লভ্যাংশ দেওয়ার কারণে নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে।
এ সময়ে গ্রুপটির মোট কর্মীর সংখ্যা ২ শতাংশ কমে ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম বলেছেন, "বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা সত্ত্বেও স্থিতিশীল গ্রাহক চাহিদা এবং শক্তিশালী কার্গো কার্যক্রমের কারণে গ্রুপটি এখনো লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে আকাশপথে ভ্রমণ আবারও নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা গেছে।" চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক পরিবেশের মধ্যেও বিমানবহর সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে এমিরেটস গ্রুপ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, রাজনৈতিক জোট গঠন ও সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগের খবরটি প্রকাশ করেন।
সামান্তা তার পদত্যাগপত্রে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেন, "আপনি জানেন আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সাথে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১১ মাস ধরে আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক-বিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি।"
সামান্তা জানান, "যেহেতু সংগঠনে নানান চড়াই উৎরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায় সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করার রাজনৈতিক কর্তব্য। সেই কর্তব্য পালন করতে গিয়ে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দলের গৃহীত নীতিসমূহকে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ব্যতীত দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনা ছাড়া ভিন্ন কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না।"
তিনি তার সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করেন, কারণ "এনসিপি তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আন্তরিক হবে বলে আমি আর মনে করি না।"
সামান্তা পদত্যাগপত্রে পদত্যাগের কারণ হিসেবে বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন। এসবের মধ্যে ছিল...
প্রথম প্রসঙ্গ: সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কিনা?
দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: নির্বাচন
তৃতীয় প্রসঙ্গ: অভ্যুত্থানে নারীর মালিকানা এবং অধিকার
চতুর্থ প্রসঙ্গ: কাউন্সিল এড়িয়ে এনসিপির পুনর্গঠন
এছাড়া, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর সামান্তা শারমিন কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরে ২৩ অক্টোবর এনসিপির ১৯৫ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে সামান্তার পদাবনতি ঘটে। তাকে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে নিযুক্ত করা হয়, যদিও তিনি এতদিন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১২ জন শিক্ষার্থী সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ স্মারক বৃত্তি লাভ করেছেন।
২০১৯-২০২০ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক ও সনদ তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য মন্তব্য করেন, "মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদানে এ ধরনের বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।" তিনি সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠিত এ বৃত্তি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরও মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—তানজিম তাসনিম, মো. মাশরুর হক নাফিস, ফারিয়া ইসলাম, তাবাসসুম এলাহী, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, কাওসার উদ্দিন মাহমুদ, মো. হিমেল রহমান, কাজী ফারিহা ইকবাল, ঐশ্বরিয়া সঞ্জুক্তা রায় প্রমা, মুহাম্মদ এস্তিয়াক হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ শিবলী ও নিশাত তাসনিম।
অনুষ্ঠানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আলী আশরাফ, অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৩ অক্টোবর সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ স্মারক বৃত্তি তহবিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ডা. নেপিশা বেগম এ তহবিলের দাতা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নকালে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান এ তহবিলের উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির স্ত্রী ফারজানা আফরোজ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করতে চলেছেন।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ