বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৯ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, রাজনৈতিক জোট গঠন ও সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগের খবরটি প্রকাশ করেন।
সামান্তা তার পদত্যাগপত্রে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেন, "আপনি জানেন আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সাথে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১১ মাস ধরে আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক-বিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি।"
সামান্তা জানান, "যেহেতু সংগঠনে নানান চড়াই উৎরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায় সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করার রাজনৈতিক কর্তব্য। সেই কর্তব্য পালন করতে গিয়ে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দলের গৃহীত নীতিসমূহকে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ব্যতীত দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনা ছাড়া ভিন্ন কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না।"
তিনি তার সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করেন, কারণ "এনসিপি তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আন্তরিক হবে বলে আমি আর মনে করি না।"
সামান্তা পদত্যাগপত্রে পদত্যাগের কারণ হিসেবে বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন। এসবের মধ্যে ছিল...
প্রথম প্রসঙ্গ: সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কিনা?
দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: নির্বাচন
তৃতীয় প্রসঙ্গ: অভ্যুত্থানে নারীর মালিকানা এবং অধিকার
চতুর্থ প্রসঙ্গ: কাউন্সিল এড়িয়ে এনসিপির পুনর্গঠন
এছাড়া, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর সামান্তা শারমিন কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরে ২৩ অক্টোবর এনসিপির ১৯৫ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে সামান্তার পদাবনতি ঘটে। তাকে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে নিযুক্ত করা হয়, যদিও তিনি এতদিন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১২ জন শিক্ষার্থী সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ স্মারক বৃত্তি লাভ করেছেন।
২০১৯-২০২০ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক ও সনদ তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য মন্তব্য করেন, "মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদানে এ ধরনের বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।" তিনি সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠিত এ বৃত্তি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরও মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—তানজিম তাসনিম, মো. মাশরুর হক নাফিস, ফারিয়া ইসলাম, তাবাসসুম এলাহী, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, কাওসার উদ্দিন মাহমুদ, মো. হিমেল রহমান, কাজী ফারিহা ইকবাল, ঐশ্বরিয়া সঞ্জুক্তা রায় প্রমা, মুহাম্মদ এস্তিয়াক হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ শিবলী ও নিশাত তাসনিম।
অনুষ্ঠানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আলী আশরাফ, অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৩ অক্টোবর সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ স্মারক বৃত্তি তহবিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ডা. নেপিশা বেগম এ তহবিলের দাতা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নকালে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান এ তহবিলের উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির স্ত্রী ফারজানা আফরোজ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করতে চলেছেন।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার তিনি গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে জামায়াতের আমির উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে রাজপথে নেমেছিল। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে তৎকালীন ষড়যন্ত্র ও সংকট মোকাবিলার একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সংঘটিত পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশে যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা সেই পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগানে মুখরিত জনতার অংশগ্রহণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় আরও দৃঢ় হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশ ও জাতি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় সংকটের সম্মুখীন। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন ও স্বৈরাচারী প্রবণতার দিকে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা প্রয়োজন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল, সরকার এবং সামরিক বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। একইসাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা ও দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬: তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার কারণে অর্থায়নের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসসকে নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি সংস্থাগুলোর প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করে জব্দ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসাথে, বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের বিবরণও চাওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও এই নির্দেশনার আওতাধীন হতে পারে। ফলে, জব্দ হতে যাওয়া ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ২০৪টির চেয়ে বেশি হতে পারে।
এনবিআর সূত্র জানায়, সংস্থাটির দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব শনাক্ত এবং জব্দ করার জন্য অনুরোধ করেছে।
তালিকায় থাকা অধিকাংশ ব্যক্তিরা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, আবদুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুনশি, শাহরিয়ার আলম, নসরুল হামিদ এবং তাজুল ইসলাম।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে টুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান, ওয়েল গ্রুপের আবদুস সালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচির নামও তালিকায় রয়েছে। তালিকায় তাদের পরিবারের সদস্যদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ