ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি


প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একজন কর্মীর বিরুদ্ধে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর করা লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীকে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্তও করেন। একপর্যায়ে মহসিন ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত হননি এবং পুনরায় চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত মহসিন ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং ফের প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু যখন ভুক্তভোগী পুনরায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন অভিযুক্ত একটি ছুরি বের করে তাকে ভয়ভীতি দেখান ও বলেন যে তার কাছে পিস্তল রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান যে, ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তার মেসের দিকে নিয়ে যেতে রাজি হন। তবে পথিমধ্যে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও তাকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। কান্নাকাটির দীর্ঘ সময় পর তাকে মেসে পৌঁছাতে সাহায্য করা হয়। এরপর অভিযুক্ত ফোন করে আত্মহত্যার কথাও বলেন। এর পাশাপাশি, অভিযুক্তের এক সহযোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কামরুল ইসলাম দাউদের

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদনেৎ করা হবে এবং সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এছাড়া আমাদের জানা মতে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নন। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে হবে যদি প্রয়োজন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রিটিশ ভারতে যে রেলপথ নির্মাণে ঝরেছিল ২৪ হাজার প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


ব্রিটিশ ভারতে যে রেলপথ নির্মাণে ঝরেছিল ২৪ হাজার প্রাণ

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে কাঁচা তুলার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তখন এই কাঁচা তুলা ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত ছিল।

ভারতের মুম্বাই থেকে সোলাপুর ও নাগপুরের মতো বড় সুতি উৎপাদনকারী অঞ্চল ডেকান মালভূমিতে সরাসরি যাতায়াতের প্রধান বাধা ছিল দুর্গম সহ্যাদ্রি পর্বতমালা বা ভোর ঘাট।

এই বাণিজ্যিক পথ সুগম করতে এবং মুম্বাইয়ের সঙ্গে পুনে, কলকাতা, মাদ্রাজ ও দিল্লির সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ স্থাপন করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পাহাড় কেটে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করে।

১৮৫২ সালে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেলওয়ে’র চিফ রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার জেমস জন বার্কলে দীর্ঘ চার বছর জরিপ চালিয়ে ও ৩ হাজার মানচিত্র তৈরি করে ভোর ঘাটের জটিল পথটি চূড়ান্ত করেন।

প্রকল্পটির পরিধি ছিল বিশাল—২৫টি সুড়ঙ্গ, ৮টি খিলানযুক্ত ভায়াডাক্ট এবং হাত দিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট খাড়া পাথর কাটার মতো কঠিন কাজ।

১৮৫৬ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে একপর্যায়ে ইংল্যান্ডে ফিরে যান বার্কলে।

পরবর্তীতে ঠিকাদার উইলিয়াম ফ্যাভিয়েল এই প্রকল্পের দায়িত্ব নেন, যার অধীনে কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের নানা তথ্য সামনে আসে।

খাড়া পাহাড়ে সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করেছেন ২৫ থেকে ৪২ হাজার শ্রমিক, যাদের বড় একটি অংশ ছিল নারী ও শিশু।

ম্যালেরিয়া, কলেরা, খাড়া পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়া এবং খনি বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনায় প্রকল্পের আট বছরে আনুমানিক ২৪ হাজার শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়।

১৮৫৯ সালে মাসের পর মাস বকেয়া মজুরি না দেওয়া এবং পরবর্তীতে তা অর্ধেক করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকেরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন।

একপর্যায়ে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে মিস্টার কারেন নামের এক ব্রিটিশ পরিদর্শক নিহত হন।

পরবর্তী সময়ে নতুন ঠিকাদার সলোমন ট্রেডওয়েল কলেরায় মারা গেলে তার স্ত্রী অ্যালিস ট্রেডওয়েল প্রকল্পের দায়িত্বভার নেন।

অবশেষে হাজারো অনিশ্চয়তা পেরিয়ে ১৮৬৩ সালের এপ্রিলে ভোর ঘাট রেলপথের কাজ শেষ হয়।

বোম্বাইয়ের ততকালীন গভর্নর স্যার বার্টল ফ্রেরে এটিকে ভারতের ‘রেল যুগের সূচনা’ হিসেবে ঘোষণা করলেও যে হাজার হাজার ভারতীয় শ্রমিকের রক্ত এবং ঘামে এই ইতিহাস লেখা হয়েছিল, তারা রয়ে গেছেন অনালোচিত ও উপেক্ষিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে হামলা

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সমকামী অধিকারকর্মীদের ‘বার্লিন প্রাইড’ শোভাযাত্রায় গাড়ি চালিয়ে হামলা করার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে প্রধান সন্দেহভাজনকে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৬ জুলাই) বার্লিনের উপশহর স্পান্দাও এলাকায়। নিহতের নাম ২১ বছর বয়সী আবদুল বাল্লাউত, যিনি আবদুল বি নামেও পরিচিত।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) প্রাইড শোভাযাত্রায় একটি গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যার ফলে এক নারী নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পরে আবদুলকে শনাক্ত করে আটক করার চেষ্টা করা হলে তাকে আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান করা হয়। কিন্তু সে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে তেড়ে এলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার বলেন, এটি “স্বাধীন ও উদার সমাজের ওপর একটি আক্রমণ।” মেয়র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, “বার্লিন স্বাধীনতার শহর, আর আজ আমাদের সেই স্বাধীনতার ওপর সবচেয়ে ভয়াবহভাবে আঘাত হানা হয়েছে।”

পুলিশের তথ্যমতে, হামলাকারীর প্রধান ও একমাত্র সন্দেহভাজন আবদুল বাল্লাউত লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অতীতে তাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

হামলার পর বার্লিন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। পুলিশের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, অভিযানে হেলিকপ্টার এবং থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযানের শুরুতে প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন আবদুল পুলিশের অভিযানে নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য হলেন ৩ শিক্ষাবিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য হলেন ৩ শিক্ষাবিদ

সরকার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে তিনজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষককে নিয়োগ দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গতকাল এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭-এর ৬(২) ও ৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদেরকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল, ড. মো. শাহ এমরান এবং ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান। ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল বর্তমানে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, ঢাকার অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। ড. মো. শাহ এমরান বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান। অপরদিকে, ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-এর ডিপার্টমেন্ট অব রুরাল সোসিওলোজির গ্রেড-২ অধ্যাপক। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে তারা তাদের বর্তমান পদ অথবা অবসরের পূর্ববর্তী পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭-এর ৭(৪) ধারা অনুযায়ী পদমর্যাদা এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধাও প্রাপ্য হবেন। তারা বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী কাউন্সিলের দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈমা খন্দকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডাসহ পাঁচ দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডাসহ পাঁচ দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা

ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়া বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে আফ্রিকাসহ অন্যান্য মহাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইউরোপের পাঁচটি দেশ জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রিসের যৌথ এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডা, কেনিয়া বা রুয়ান্ডার মতো তৃতীয় কোনো দেশে গড়ে ওঠা সাময়িক শিবিরে স্থান দেওয়া হতে পারে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নীতি নির্ধারকদের সূত্রে জানা গেছে যে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন নিয়মের আলোকে পাঁচ দেশের জোট এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে চলেছে।

ইউরোপের ভূখণ্ডের বাইরে তথাকথিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে উগান্ডা, কেনিয়া, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং উজবেকিস্তানকে রাখা হয়েছে। এসব দেশের সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করছেন। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

এই পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে গ্রিস। গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, চলতি বছর তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আগামী বছর থেকেই রিটার্ন হাব কার্যকর হতে পারে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থী সন্তোষজনকভাবে আবেদন করতে পারবেন না এবং যাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের সাময়িকভাবে উক্ত রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সম্পন্ন করা হবে।

আগে, আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতার সুযোগ নিয়ে অনেকে ইউরোপেই অবস্থান করতেন। কিন্তু উগান্ডাসহ আফ্রিকান দেশগুলোতে হাব স্থাপন হলে আবেদন বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সরাসরি ইউরোপ থেকে সেসব দেশে পাঠানো হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, রিটার্ন হাব সম্পর্কে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এটি নীতিগত স্তরে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য বিদ্যমান।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার ইউরোপে খুবই কম। বর্তমানে প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের স্বীকৃতির হার মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। তিনি জানান, নতুন রেগুলেশন অনুমোদিত হলে নতুন আশ্রয় আবেদন প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি হলো, বর্তমানে যাদের বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে অবস্থান করে। রিটার্ন হাব চালু হলে এই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে বলে তারা মনে করছে।

তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, বিচারিক প্রতিকার এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইইউতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ ছিল। ওই বছরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ৩৬,৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বাংলাদেশের নাগরিকদের এখন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। সরকার সবসময় অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে এবং বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়।’

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী এই উদ্যোগকে মানবাধিকারবিরোধী বলছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘প্রত্যাবাসন সহজ করার উদ্দেশ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%