প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একজন কর্মীর বিরুদ্ধে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর করা লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীকে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্তও করেন। একপর্যায়ে মহসিন ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত হননি এবং পুনরায় চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত মহসিন ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং ফের প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু যখন ভুক্তভোগী পুনরায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন অভিযুক্ত একটি ছুরি বের করে তাকে ভয়ভীতি দেখান ও বলেন যে তার কাছে পিস্তল রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান যে, ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তার মেসের দিকে নিয়ে যেতে রাজি হন। তবে পথিমধ্যে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও তাকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। কান্নাকাটির দীর্ঘ সময় পর তাকে মেসে পৌঁছাতে সাহায্য করা হয়। এরপর অভিযুক্ত ফোন করে আত্মহত্যার কথাও বলেন। এর পাশাপাশি, অভিযুক্তের এক সহযোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদনেৎ করা হবে এবং সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এছাড়া আমাদের জানা মতে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নন। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে হবে যদি প্রয়োজন হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন